মৌলভীবাজার প্রতিনিধি \
কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের মনু ও ধলাই নদীর বাঁধ ভেঙ্গে পানি প্রবেশ করে বন্যা দেখা দিয়েছে। রাজনগর উপজেলার উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের উজিরপুর এলাকায় মনুনদীর ভাঙ্গনে কয়েকটি ১০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। অপরদিকে ধলাই নদীর বাঁধ ভেঙ্গে ৩৫ টি গ্রাম প্লাবিত। পানিবন্দি হয়ে পরেছেন পানিবন্দি প্রায় ২০ হাজার মানুষ জেলা প্রশাসনের ত্রান ত্রাণ সামগ্রীও বিতরণ করা হচ্ছে। অব্যাহত বারিবর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে মনু নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আরো নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশংকা করছেন দুর্গত এলাকার লোকজন। বন্যা কবলিত এলাকা সরেজমিনে ঘুরে স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রবল বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের রাজনগরে মনু নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ফলে রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের উজিরপুর, হরিপাশা এলাকায় বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টার দিকে মনু নদী প্রতিরক্ষা বাঁেধ ভাংগনের সৃষ্টি হলে রাজনগর রাজনগরে বন্যায় ৭১টি গ্রাম প্লাবিত, ৪০ হাজার লোক পানিবন্দি, রাজনগর টেংরা ইউনিয়নের প্লাবিত গ্রাম গুলো হলো- উজিরপুর, হরিপাশা, ইব্রাহীমপুর, কাঁচারী, একামধু, কান্দিরকুল, পন্ডিতনগর। এছাড়াও বন্যার আশংকায় রয়েছেনরামভদ্রপুর, সালন, পাইকপাড়া, ডেফলউড়া, গনেশপুর, আকুয়া, কোনাগাঁও, টগরপুর, ভাঙ্গারহাট এলাকার লোকজন। অকস্মাৎ এ বন্যায় প্লাবিত এলাকার দুর্গত মানুষকে উদ্ধারে কাজ করছে রাজনগর উপজেলা প্রশাসন। প্লাবিত এসব এলাকায় খাবার পানি, গোখাদ্য সহ নানান সমস্যা সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। বাড়িঘর প্লাবিত হওয়ায় দুর্গত এলাকার লোকজন মনু প্রতিরক্ষা বাঁধের উচু জাগায় আবার অনেকে পার্শ্ববর্তী আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। রাজনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিপুল সিকদার জানান, উজিরপুর এলাকায় ভাঙ্গনের ঝুকি দেখা দিলে সকাল থেকে এলাকার লোকজনকে নিয়ে মনুনদীর বন্যা প্রতিরক্ষা বাঁধ রক্ষার চেষ্টা করি। কিন্তু পানি বৃদ্ধির কারণে বাঁধ ভেঙ্গে তাৎক্ষণিক ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে যায়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। পার্শবর্তী কয়েকটি স্কুলে আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এছাড়াও দুর্গতদের স্বার্থে যা করার সব ব্যবস্থা করা হবে। শুক্রবার সকাল খেকে বিকেল পর্যন্ত বৃষ্টি থামলেও উজানের পানিতে বাড়ছে নদী ও হাওরের পানি। বিপদ সীমায় উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে জেলার নদীর পানি। মনু ও ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের ৩টি স্থানে ভেঙ্গে প্রায় ৩৫ টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে ওই এলাকার বসত বাড়ি, ক্ষেতকৃষি ও রাস্তাঘাট। বন্যার ঝুঁকিতে শঙ্কায় জেলার নদী ও হাওর পাড়ের বাসিন্দারা। মনুনদী চাঁদনীঘাট ব্রীজ এলাকা সর্ব শেষ রাত ৮টার রিডিং অনুয়ায়ী বিপদ সীমার ৭১ সেন্টি মিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় তীরবর্তী মৌলভীবাজার শহরের এম সাইফুর রহমান রোড এলাকাসহ শহরের বাসিন্দারা প্রতিরক্ষা বাঁধ ভাঙ্গন ও বন্যা আতঙ্কে রয়েছেন। হঠাৎ করে গেল দুই দিনের ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢলে ক্রমেই বাড়ছে জেলার নদী ও হাওরে পানি। জেলার মনু, কুশিয়ারা,ফানাই,ধলাই ও জুড়ী নদী ছাড়াও হাকালুকি,কাউয়াদিঘি ও হাইলহাওর পানিতে ভরে গেছে। জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যালয় জানায় চলমান বৃষ্টি ও ভারত থেকে আসা ঢলে পানি বাড়ছেই। হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বন্যার আশঙ্কায় চরম দুশ্চিন্তায় জেলার নদী তীরের বাসিন্দারা। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান গেল দুই দিন থেকে অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে জেলা সবক’টি নদী ও হাওরের পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদ সীমার উপর দিয়ে ও কাছাকাছি দূরত্বে অবস্থান করছে। মনু ও ধলাই নদীর তীরবর্তী এলাকার রাস্তাঘাট ও নি¤œাঞ্চলের বাসা-বাড়িতে পানি উঠতে শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বৃষ্টি থামলেও আবারও মুষলধারে বৃষ্টি হওয়া শঙ্কায় বন্যা আতঙ্কে রয়েছেন জেলার নদী ও হাওর তীরের বাসিন্দারা। গেল দু’দিনের পানি উন্নয়ন বোর্ডের রিডিং অনুযায়ী জেলার সবকটি নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তা অব্যাহত রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে মনুনদীর পানি মৌলভীবাজার শহর সংলগ্ন চাঁদনীঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার ৭১ সেন্টি মিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কুলাউড়ার মনুব্রিজ পয়েন্টে মনুনদীর পানি ৭০ সেন্টি মিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জুড়ীনদী বিপদ সীমার ২৫ সেন্টিমিটার, শেরপুরের কুশিয়ারা নদীর পানি ২২ সেন্টি মিটার নীচ দিয়ে ও কমলগঞ্জে ধলাই নদীর পানি ১৫ সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সুত্রে জানা যায় বর্তমানে জেলায় মোট ১৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ইতিমধ্যে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের মাইজগাঁও দাখিল মাদ্রাসা আশ্রয়কেন্দ্রে দুটি পরিবারকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে এবং ত্রাণ সামগ্রীও বিতরণ করা হচ্ছে। মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: খালেদ বিন অলীদ জানান ভারী বৃষ্টি ও ভারত থেকে আসা ঢলে নদীর পানি দ্রæত বৃদ্ধি পাচ্ছে। মনুনদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের অনেক জায়গায় উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। পানি উপচে পড়া প্রতি রক্ষা বাঁধের ৪/৫ টি স্থান ভাঙ্গনের ঝুঁকিতে রয়েছে। ধলাই নদীর ভাঙ্গনের স্থান মেরামত নিয়ে আগে থেকেই আপত্তি রয়েছে ভারতের। তবে সুযোগ পেলে ওই স্থান মেরামতসহ জেলার নদীর প্রতিরক্ষার বাঁধ গুলো ভাঙ্গন রোধে তারা সর্তক নজদারি রাখছেন। তারা মাঠে রয়েছেন,সব প্রস্তুতিও রয়েছে। জেলার শ্রীমঙ্গলস্থ আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কার্যালয়ের কর্মকর্তা মো: আনিছুর রহমান জানান গেল দুই দিনে ১৮৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রের্কড করা হয়েছে। তিনি জানান আবহাওয়ার এই অবস্থা আরও ২-৩ দিন এরকম থাকতেও পারে। কুলাউড়ার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের শিকড়িয়া এলাকায় বিএসএফের বাঁধায় বন্ধ থাকা মনু নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের ভাঙ্গনকৃত স্থান দিয়ে ফের পানি লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। এতে স্থানীয় শিকড়িয়া,গনকিয়াসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে অনেক মানুষের বসতবাড়ি পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে সীমান্তবর্তী শরীফপুর ইউনিয়নের কালারায়ের চর, নিশ্চিন্তপুর, ছারিয়াঘাট (হাসারকোনা) এলাকায় বাঁধের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় ২০-২৫টি বসতবাড়ি পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। এরমধ্যে কয়েকটি কাঁচাঘর ভেঙ্গে পড়েছে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জয়নুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বিশেষ করে শিকড়িয়া গ্রামে ভারতের বিএসএফের বাঁধায় বন্ধ থাকা মনু নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধে বুধবার রাতে ফের পানি প্রবেশ করে। এই বাঁধ যদি সরকার দ্রæত মেরামতের উদ্যোগ না নেয় তাহলে আবারো মনু নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে এই বাঁধ দিয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করবে। এতে আমাদের বাড়িঘর ও কৃষিজমির ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। আমরা সরকারের কাছে দ্রæত ভাঙা বাঁধটি পুন নির্মাণের জোর দাবি জানাচ্ছি। ২০১৮ সালের বন্যায় উপজেলার টিলাগাঁও, হাজীপুর, শরীফপুর ও পৃথিমপাশা ইউনিয়নে অর্ধ-শতাধিক গ্রামের মানুষের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয়। বর্ষা মৌসুমে নদীতে পানি বাড়লে প্রতিরক্ষা বাঁধ, নদী আর গ্রাম কোনটির কোনো অস্তিত্ব থাকে না। সেই সঙ্গে এ ইউনিয়নগুলোর বানভাসী লোকজন প্রতিটি মুহুর্তে বন্যা আতঙ্কে তাদের দিন কাটায়। তারা আরো বলেন, বিএসএফের বাঁধায় বাংলাদেশ অংশে কাজ বন্ধ হলেও ভারতীয় অংশে ঠিকই কাজ চলছে। দ্রæত প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন করে যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিরক্ষা বাঁধের কাজ বাস্তবায়ন না করা যায় তাহলে আবারো নদী ভাঙ্গনের আতঙ্কে রয়েছেন মনু পাড়ের মানুষ। স্থানীয়রা বাঁধটি দ্রæত মেরামতের দাবি জানিয়েছেন। কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা আক্তার বলেন, পৃথিমপাশা ইউনিয়নের শিকড়িয়ায় মনু নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের ভাঙ্গনকৃত স্থান পরিদর্শন করেছি। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য ত্রাণ সহায়তার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসন থেকে আপাতত ৫০ বস্তা শুকনো খাবার বরাদ্দ পাওয়া গেছে। বাঁধের বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা বলেছে আপাতত তাদের পক্ষ থেকে ওই বাঁধ মেরামত করার কোন সুযোগ নেই। কারণ বিএসএফের বাঁধায় সীমান্তের ১৫ গজের ভেতর শিকড়িয়া এলাকার ভাঙ্গনকৃত বাঁধটির কাজ দীর্ঘদিন থেকে বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসক মহোদয়কে অবহিত করেছি। স্থায়ীভাবে এই সমস্যার সমাধান করতে হলে বাংলাদেশ-ভারতের আন্ত:মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে কার্যত উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালিদ বিন অলিদ বলেন, ভারী বৃষ্টি ও ভারত থেকে নেমে আসা ঢলে মনু নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে পৃথিমপাশা ইউনিয়নের শিকড়িয়া এলাকায় ক্ষতিগ্রস্থ বেড়িবাঁধে ফের বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। গতবছর এই বাঁধের কাজ শুরু করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু বিএসএফের বাঁধায় কাজ শুরু করা যায়নি। কাজ শেষ করতে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার চিঠি প্রেরণ করা হয়েছে। যেহেতু বিষয়টি দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। অনুমোদন পেলে কাজ শুরু করা হবে। জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো বন্যাকবলিত মানুষের নিরাপত্তা, উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ ও প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। জেলা প্রশাসনের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রাজনগর উপজেলার মনু নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় উপজেলার কয়েকটি এলাকায় বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। বিষয়টি মোকাবিলায় বন্যা প্রতিরোধ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। জেলার জুড়ী উপজেলার জায়ফরনগর ও পশ্চিমজুড়ী ইউনিয়নের হাওরাঞ্চলেও পানি বৃদ্ধি পেলেও বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে। কমলগঞ্জ উপজেলার ধলাই নদীর পানি বৃদ্ধি এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে কয়েকটি এলাকায় বাঁধ ভেঙে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে প্রায় ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। ইসলামপুর ইউনিয়নের ভাগলশ্রী এলাকার তিনটি আশ্রয়কেন্দ্র এবং মাধবপুর ইউনিয়নের নয়াবস্তি এলাকায় একটি আশ্রয়কেন্দ্রে মোট ৩৫০ জনকে স্থানান্তর করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে ১০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ৭নং চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের মাহিরগাঁও দাখিল মাদ্রাসা আশ্রয়কেন্দ্রে দুটি পরিবারকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী জেলার অন্যান্য আশ্রয়কেন্দ্রও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বর্তমানে জেলায় মোট ১৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রয়েছে। বন্যাকবলিত মানুষের সহায়তায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাজনগর উপজেলায় ২১০ ব্যাগ, জুড়ী উপজেলায় ১৫৭ ব্যাগ, মৌলভীবাজার সদর উপজেলায় ৩৩০ ব্যাগ এবং কমলগঞ্জ উপজেলায় ২০৫ ব্যাগ চালসহ পর্যাপ্ত খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। জেলার সার্বিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনাবাহিনীসহ সকল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের সহায়তা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় উদ্ধার কার্যক্রম, ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্যসমূহ (০) কমেন্ট করতে ক্লিক করুন