উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে নিহত বেড়ে ৮

কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ব্লক এ-৩ এলাকার ইরানি পাহাড় পুলিশ ক্যাম্পের আওতাধীন খতিজাতুল মহিলা হেফজখানায় পাহাড় ও দেয়াল ধসের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ জনে। আহত আরো ১২ জন শিক্ষার্থী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

 

টানা বৃষ্টি ও ঝড়ের কারণে পাহাড়ি মাটির আঘাতে মাদরাসার দেয়াল ধসে বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর দেড়টার দিকে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।

ঘটনার সময় ৩০ থেকে ৩৫ জন শিক্ষার্থী হেফজখানায় ছিল। দেয়াল ধসে তারা চাপা পড়ে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৮ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার।

 

এদিকে রাতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে নিয়োজিত ১৪ আর্মস পুলিশ ব্যাটালিয়নের কমান্ডার মো. সিরাজ আমিন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নিহত ৮ জন রোহিঙ্গা মাদরাসা ছাত্রীর মধ্যে ৫ জনের পরিচয় জানিয়েছেন। তারা হচ্ছে যথাক্রমে ক্যাম্প-৩-এর জি/৮৩ ব্লকের সামশুল আলমের মেয়ে শাহিদা (১৩), ক্যাম্প-৩-এর এফ/১ ব্লকের আব্দু. শুক্কোরের দুই মেয়ে উম্মে নেজাতুল (১৩) ও উম্মে সালমা (১২), ক্যাম্প-৫-এর এ/৮ ব্লকের মো. ইলিয়াছের মেয়ে ওমাইচা বিবি (১৩) এবং একই ক্যাম্পের এ/১১ ব্লকের হাসেম উল্লাহর মেয়ে রাশিদা (১৬)। অন্য তিনজনের নাম পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি।

প্রসঙ্গত, গত রবিবার (৬ জুলাই) দিবাগত রাতে ক্যাম্পে পাহাড়ধসের পৃথক ঘটনায় ৮ জন রোহিঙ্গার মৃত্যুর ৩ দিনের মাথায় বুধবারর এ ঘটনা ঘটল।

 

দুর্ঘটনার খবর পেয়েই উখিয়ার ইউএনও পান্না আক্তার দুর্ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তিনি কালের কণ্ঠকে জানান, পাহাড়ধসের ঘটনায় মাদরাসা থেকে মোট ২০ জন শিশুকে উদ্ধার করা হয়। তাদের মধ্যে ৪ জন ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরো ৪ জনের মৃত্যু হয়। আহত ১২ জনকে ক্যাম্প-৩-এর জিকে (এক) হাসপাতাল, ক্যাম্প-৫-এর ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল, ক্যাম্প-৬-এর আইআরসি (আন্তর্জাতিক রেড ক্রিসেন্ট) হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।

 

ইউএনও পান্না আক্তার বলেন, পাহাড়ের পাদদেশে নির্মিত মাদরাসাটির চারদিকে ইটের দেয়াল এবং উপরে টিন ও বাঁশের ছাউনি ছিল। অতিবৃষ্টির কারণে পাহাড় থেকে নেমে আসা মাটি দেয়ালে আঘাত হানলে সেটি ধসে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শী রোহিঙ্গা আনাম জানান, পাহাড় কেটে পাহাড়ের কোল ঘেঁষে মাদরাসাটি নির্মাণ করা হয়েছিল। প্রবল বৃষ্টিতে পাহাড়ের মাটি ধসে দেয়ালের ওপর চাপ সৃষ্টি করলে সেটি ভেঙে পড়ে। এরপর স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করেন। মাদরাসাটিতে ১৮০ জন ছাত্রী পড়ত। তবে গতকাল ভারি বর্ষণের কারণে উপস্থিতি বেশি ছিল না, বড়জোর ৩০ থেকে ৩৫ জন উপস্থিত ছিল।

পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন রোহিঙ্গা জানান, মাদরাসাটিতে রোহিঙ্গাদের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরসার নিয়ন্ত্রণে ছিল এবং কথিত আরসা নেতা মৌলভি জুবায়ের এটি পরিচালনা করতেন।

প্রতিদিন সকাল, দুপুর ও সন্ধ্যায় মোট ৩ শিফটে সেখানে রোহিঙ্গা কন্যাশিশুদের কুরআন শিক্ষা দেওয়া হতো।

তবে ঘটনার পর পরই মৌলভি জুবায়ের পালিয়ে যাওয়ায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

জিবি নিউজ24ডেস্ক//

gbn

মন্তব্যসমূহ (০)


ব্রেকিং নিউজ

লগইন করুন


Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password


মন্তব্য করতে নিবন্ধন করুন