টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের উচ্চাভিলাষি আবাসন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মেয়রের অ্যাক্সেলারেটেড হাউজিং প্রোগ্রাম (এমএএইচপি)-এর অধীনে প্রথম পরিকল্পনা আবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেওয়া হয়েছে। বেথনাল গ্রিন এলাকার একটি সাবেক ভিক্টোরিয়ান স্কুল সাইটকে ঘিরে এই প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়েছে, যা কাউন্সিলের পক্ষ থেকে দ্রুতগতিতে প্রকৃত সাশ্রয়ী বাসস্থান নির্মাণের লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
স্থানীয় নির্বাচনের আগেই এই আবেদন জমা দেওয়া হয়, যা প্রমাণ করে যে এই কর্মসূচি কেবল পরিকল্পনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং বাস্তবায়নের দিকেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। ৭ মে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে পুনর্নির্বাচিত হওয়ায় মেয়রের নেতৃত্বে এই উদ্যোগ আরও ধারাবাহিকতা পাবে এবং পরিকল্পনা থেকে নির্মাণ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
টাওয়ার হ্যামলেটসের এক্সিকিউটিভ মেয়র লুৎফুর রহমান বলেন, “এই প্রথম প্ল্যানিং এপ্লিকেশন জমা দেওয়ার মাধ্যমে কাউন্সিলের লক্ষ্য বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হয়েছে।“ তিনি উল্লেখ করেন, “কাউন্সিলের নিজস্ব জমিতে দ্রুতগতিতে প্রকৃত সাশ্রয়ী আবাসন নির্মাণের জন্যই এই প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছিল এবং বেথনাল গ্রিনের এই প্রকল্পটি নতুন বাসস্থান ও কমিউনিটি সুবিধা একসঙ্গে কীভাবে প্রদান করা সম্ভব, তার একটি দৃষ্টান্ত।”
এই প্রকল্পটি ম্যাথিউ লয়েড আর্কিটেক্টস-এর নেতৃত্বে, মেইজ কনসাল্ট এবং স্পিয়ার ২৫-এর সহযোগিতায় তৈরি করা হয়েছে এবং এটি এমএএইচপি-এর অধীনে প্রথম প্রকল্প যা পরিকল্পনার স্তরে পৌঁছেছে। পুরো কর্মসূচির মাধ্যমে টাওয়ার হ্যামলেটস জুড়ে কাউন্সিলের মালিকানাধীন অন্তত ৩৭টি সাইটে প্রায় ৩,৩০০ নতুন বাড়ি-ঘর দ্রুত নির্মাণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই উদ্যোগটি লন্ডন এবং টাওয়ার হ্যামলেটসের তীব্র আবাসন সংকট মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বেথনাল গ্রিন প্রকল্পে মোট ৪৪টি নতুন ফ্ল্যাট বা বাসস্থান নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে, যার মধ্যে ৬০ শতাংশেরও বেশি হবে সাশ্রয়ী ভাড়ার। পরিবারভিত্তিক (ফ্যামিলি সাইজ ফ্ল্যাট) এবং প্রতিবন্ধী-বান্ধব সহজপ্রবেশযোগ্য (এক্সেসিবল) ঘরের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী একই এলাকায় বসবাস চালিয়ে যেতে পারেন।
উন্নয়নটি দুইটি ভবনের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে। একটি অংশে ঐতিহ্যবাহী ভিক্টোরিয়ান স্কুল ভবনকে সংরক্ষণ করে সংস্কার ও সম্প্রসারণ করা হবে, যেখানে ২০টি আবাসন তৈরি করা হবে। অন্যদিকে, একটি নতুন পাঁচতলা ভবনে ২৪টি সোশ্যাল রেন্ট বাসা তৈরি করা হবে, পাশাপাশি থাকবে এক হাজার বর্গমিটারেরও বেশি কমিউনিটি স্পেস।
প্রকল্পটির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে একটি নতুন আইডিয়া স্টোর এবং রেসিডেন্টস’ হাব, যা স্থানীয় জনগণের জন্য শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কাউন্সিলের বিভিন্ন সেবায় সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করবে। এর পাশাপাশি একটি ওয়ান স্টপ শপও গড়ে তোলা হবে, যার মাধ্যমে বাসিন্দারা এক জায়গা থেকেই প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। ভবনের নিচতলায় বহুমুখী ব্যবহারযোগ্য শেখার স্থান রাখা হয়েছে, যা ভবিষ্যতের কমিউনিটি প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করা যাবে, আর পড়াশোনা, মিটিং এবং কমিউনিটি কার্যক্রমের জন্য উপরের স্তরগুলোতে ছোট ছোট কক্ষ থাকবে।
নকশাগতভাবে প্রকল্পটি পুরনো ঐতিহাসিক স্থাপনা এবং আধুনিক স্থাপত্যের সমন্বয়ে তৈরি, যেখানে আলো-বাতাস এবং মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানোর জন্য আঙিনাভিত্তিক (কোর্টইয়ার্ড) বিন্যাস রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে আশপাশের পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভবনের উচ্চতা ও কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে আবাসন সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি এলাকার স্বাভাবিক সৌন্দর্য বজায় থাকে।
ল্যান্ডস্কেপ ডিজাইনের মাধ্যমে পরিবেশগত উন্নয়ন এবং জীববৈচিত্র্য বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যা এই সাইটকে একটি সবুজ ও বাসযোগ্য কমিউনিটি সম্পদে রূপান্তর করবে।
এই প্রকল্পটি এখন পরিকল্পনা অনুমোদনের জন্য বিবেচনাধীন রয়েছে এবং ২০২৬ সালের গ্রীষ্মে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসার সম্ভাবনা রয়েছে। বেথনাল গ্রিনের এই উদ্যোগটি এমএএইচপি কর্মসূচির বাস্তব অগ্রগতির একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে ভবিষ্যতের প্রকল্পগুলোর পথপ্রদর্শক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মন্তব্যসমূহ (০) কমেন্ট করতে ক্লিক করুন