প্রয়াত কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট সানু মিয়াকে স্মরণে গত ৮ মে ২০২৬ পূর্ব লন্ডনের মাইক্রোবিজনেস সেন্টারে এক আবেগঘন স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। পরিবার-পরিজন, বন্ধু, সহযোদ্ধা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ একত্রিত হয়ে তাঁর জীবন ও কর্মের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। বক্তারা তাঁকে কমিউনিটির জন্য নিরলসভাবে কাজ করা একজন নিবেদিতপ্রাণ মানুষ হিসেবে স্মরণ করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আবদুল মালিক খোকন এবং সঞ্চালনা করেন স্বাধীন খসরু । অনুষ্ঠানের শুরুতে যৌথ আয়োজক ও সানু মিয়াকে নিয়ে প্রকাশিত স্মারকগ্রন্থের যুগ্ম সম্পাদক আবদুল মালিক খোকন তাঁর বক্তব্যে সানু মিয়ার দীর্ঘদিনের কমিউনিটি সেবা, অসাম্প্রদায়িক আন্দোলন ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অবদানের কথা তুলে ধরেন।
সানু মিয়ার শৈশবের বন্ধু ও শাপলা ইয়ুথ ফোর্স (এসওয়াইএফ)-এর সদস্য আলী, জয়নাল উদ্দিন, তুরণ মিয়া, হারিস আলী ও জামাল তাঁদের স্মৃতিচারণায় সানু মিয়াকে একজন প্রাণবন্ত, নেতৃত্বগুণসম্পন্ন ও মানুষের পাশে থাকা ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করেন।
অনুষ্ঠানে আরও স্মৃতিচারণ করেন সানু মিয়ার বোন জানা, নির্মূল কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান নূরউদ্দিন আহমদ, কবি শামীম আজাদ, লেখক ময়নুর রহমান বাবুল, রাজনীতিবিদ খসরুজ্জামান, সম্প্রচার ব্যক্তিত্ব রবিন হায়দার খান, অ্যাক্টিভিস্ট জামাল খান, ইয়াসমিন মতিন, সালেহা, সেচ্ছাসেবক লীগের চেয়ারম্যান শাদ, যুক্তরাজ্য নির্মূল কমিটির চেয়ারম্যান সৈয়দ এনামুল ইসলাম, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট রাজনউদ্দিন জালাল এবং বাংলাদেশ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হারমুজ আলী।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সানু মিয়ার স্ত্রী মনোয়ারা খাতুন পারভীন ও ছেলে তানিম। বক্তারা বলেন, সানু মিয়া ছিলেন একজন অনুপ্রেরণাদায়ী মানুষ, যিনি সারাজীবন কমিউনিটির কল্যাণে কাজ করে গেছেন এবং ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবেন। তিনি ছিলেন শাপলা ইয়ুথ ফোর্স (এসওয়াইএফ)-এর প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর নেতৃত্বে এসওয়াইএফ ফুটবল দল বাংলাদেশে গিয়ে সেনাবাহিনী, বিডিআর, বিমানবাহিনীসহ বিভিন্ন জাতীয় দলের বিরুদ্ধে খেলেছিল। তিনি যুক্তরাজ্য নির্মূল কমিটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন এবং একজন সুপরিচিত কর্মী হিসেবে সম্মান অর্জন করেন। পাশাপাশি তিনি ছিলেন লেবার পার্টির সক্রিয় কর্মী, সেচ্ছাসেবক লীগের সেক্রেটারি এবং একজন সাংস্কৃতিক সংগঠক।
সানু মিয়ার জীবন ও কর্ম নিয়ে প্রকাশিত স্মারকগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন আনসার আহমদ উল্লাহ। তিনি সানু মিয়ার মা হামিদা বেগমের হাতে স্মারকগ্রন্থের একটি কপি তুলে দেন এবং পরে উপস্থিত অতিথিদের মধ্যেও তা বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানের সমাপ্তি বক্তব্যে স্বাধীন খসরু স্মারকগ্রন্থ প্রকাশে সহায়তা প্রদানকারীদের ধন্যবাদ জানান। বিশেষভাবে তিনি জুয়েল রাজকে পুরো গ্রন্থটি টাইপ করার জন্য, হামিদ মোহাম্মদকে সম্পাদনার জন্য এবং আরিফকে ডিজাইনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানের শেষদিকে সানু মিয়ার জীবন ও কর্ম নিয়ে নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের সময় অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং একজন নিবেদিতপ্রাণ সমাজকর্মীর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
মন্তব্যসমূহ (০) কমেন্ট করতে ক্লিক করুন