ইউরোপ দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কর্মকর্তাদের বক্তব্যে দুই পক্ষের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত সম্পর্কের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। শনিবার (৯ মে) রাজধানী ঢাকায় একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে গণতান্ত্রিক অগ্রগতি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং একটি নতুন ‘সহযোগিতা চুক্তি’ চূড়ান্তকরণের মাধ্যমে দুই পক্ষের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল সদ্য চূড়ান্ত হওয়া ইইউ-বাংলাদেশ পার্টনারশিপ অ্যান্ড কো-অপারেশন অ্যাগ্রিমেন্ট (পিসিএ)। ঢাকায় নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার একে একটি ‘কৌশলগত পছন্দ’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
তিনি বাংলাদেশের ‘গণতন্ত্রের পথে’ পুনরায় ফিরে আসাকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এই চুক্তি মানবাধিকার, আইনের শাসন ও বিচারিক স্বাধীনতার প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধাকে আরো সুদৃঢ় করবে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের সংকটকালীন সময়ে ইইউ-এর বলিষ্ঠ সহায়তার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বিশেষ করে, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একটি বৃহৎ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন পাঠানোর জন্য তিনি ইইউ-কে ধন্যবাদ জানান।
দুই দেশের সম্পর্কের মূল ভিত্তি হিসেবে অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়টি বক্তৃতায় প্রাধান্য পায়। বর্তমানে ইইউ বাংলাদেশের একক বৃহত্তম রপ্তানি গন্তব্য, যা মূলত ‘এভরিথিং বাট আর্মস’ (ইবিএ) সুবিধার কারণে সম্ভব হয়েছে।
• এলডিসি উত্তরণ : স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পর বাণিজ্যিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ ইইউ-এর সঙ্গে একটি বিস্তৃত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) করার গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
• বিজনেস ফোরাম : বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ ও ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নয়নের লক্ষ্যে ইইউ এ বছরের শেষ নাগাদ একটি বড় ধরনের বিজনেস ফোরাম আয়োজনের পরিকল্পনা করছে।

ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারকে শুভেচ্ছা জানান কালের কণ্ঠের নির্বাহী সম্পাদক হায়দার আলী। ছবি : কালের কণ্ঠ
বাণিজ্যের বাইরেও জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই অবকাঠামো এবং ডিজিটাল সংযোগের ক্ষেত্রে ইইউ-এর ‘গ্লোবাল গেটওয়ে’ উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
এই উদ্যোগের আওতায় আনুষ্ঠানিকভাবে ‘আই অ্যাম দ্য ফিউচার’ স্কিলস ক্যাম্পেইন চালু করা হয়। এই ক্যাম্পেইনের ‘মুখ’ হিসেবে স্থানীয় ক্রীড়াবিদ ঋতু চাকমা এবং জনপ্রিয় ব্যান্ড নেমেসিস-কে রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার ব্যক্তিগতভাবে ধন্যবাদ জানান। এর লক্ষ্য বাংলাদেশের তরুণ সমাজকে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দক্ষ করে তোলা।
ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় জলবায়ু পরিবর্তন, অভিবাসন এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার মতো ইস্যুতে বাংলাদেশ ও ইইউ একে অপরের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। বক্তাদের মতে, এই অংশীদারিত্ব কেবল বাণিজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি অভিন্ন মূল্যবোধ ও টেকসই উন্নয়নের এক দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতি।
জিবি নিউজ24ডেস্ক//
মন্তব্যসমূহ (০) কমেন্ট করতে ক্লিক করুন