নিউইয়র্কের আপস্টেট অঞ্চলে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের একাধিক সদস্যসহ চারজনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে সোমবার ৬ এপ্রিল সন্ধ্যা প্রায় ৭টার দিকে, নিউইয়র্কের কলাম্বিয়া কাউন্টির ক্ল্যাভারাক এলাকায় স্টেট রুট ৯এইচ সড়কে ভ্যান ওয়াইক লেনের কাছে। কলাম্বিয়া কাউন্টি শেরিফের দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, লাউডনভিলের বাসিন্দা ২৯ বছর বয়সী নাজমুল এম. রুবেল একটি ২০০৯ মডেলের টয়োটা প্রিয়াস গাড়ি চালিয়ে উত্তর দিকে যাচ্ছিলেন। তার সঙ্গে ছিলেন পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনরা। নিউইয়র্ক সিটি থেকে আলবানি যাওয়ার পথেই ঘটে এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা।
হঠাৎ অজানা কারণে গাড়িটি কেন্দ্ররেখা অতিক্রম করে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ২০২৫ মডেলের টয়োটা ক্রাউনের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষটি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান চালক নাজমুল রুবেল। তার সঙ্গে থাকা ৬০ বছর বয়সী বাবা মোহাম্মদ হিরামন এবং ২৫ বছর বয়সী বন্ধু ফাহিম হালিমও ঘটনাস্থলেই মারা যান। অন্য গাড়ির ৬২ বছর বয়সী যাত্রী জুলিয়া রিচিও প্রাণ হারান একই স্থানে। এ হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনায় পুরো প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
নিহতের ছোট ভাই মোহাম্মদ আজমুল রাব্বি জানিয়েছেন, এই দুর্ঘটনা তাদের পুরো পরিবারের জন্য এক অবর্ণনীয় ধ্বংস ডেকে এনেছে। এক রাতেই তিনি হারিয়েছেন তার বড় ভাই, তার বাবা এবং পরিবারের একজন ঘনিষ্ঠ সদস্যকে। তার ভাষায়—“একটি ফোন কলেই সবকিছু শেষ হয়ে গেল।”
গাড়িতে থাকা আরও দুইজন গুরুতর আহত হন। ৩৩ বছর বয়সী রত্না আক্তারকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় অ্যালবানি মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়েছে, যদিও তার অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল বলে জানা গেছে। আরও মর্মান্তিক বিষয়—গাড়িতে থাকা মাত্র এক বছর বয়সী শিশুকন্যা ইকরা আয়াতকে লাইফ নেট হেলিকপ্টারে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। সে এখনও আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছে। একটি নিষ্পাপ প্রাণ, যে এখনও জীবন কী তা বুঝে ওঠার আগেই মৃত্যুর ছায়ার মুখোমুখি। অন্যদিকে, টয়োটা ক্রাউনের ২৪ বছর বয়সী চালক লুক পালভেনিয়ান আহত হলেও পরে তাকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে নিহতদের জানাজার নামাজ ৮ এপ্রিল বুধবার যোহরের পর ব্রঙ্কসের বাইতুল আমান ইসলামিক সেন্টারে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
এই দুর্ঘটনার পর গোটা কমিউনিটি স্তব্ধ। যারা একটু আগে পর্যন্ত একসাথে ছিলেন, হাসছিলেন, গন্তব্যে পৌঁছানোর স্বপ্ন দেখছিলেন—তারা এখন কেউ নেই, কেউ হাসপাতালের বেডে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। এমন মৃত্যু শুধু সংখ্যা নয়, প্রতিটি নামের পেছনে আছে একটি পরিবার, একটি গল্প, অসংখ্য স্মৃতি। একটি মুহূর্ত—একটি ভুল বা অজানা কারণ—আর তাতেই ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল একটি পরিবার, থেমে গেল কয়েকটি জীবন, আর অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠলো অসংখ্য স্বজনের হৃদয়।
কলাম্বিয়া কাউন্টি শেরিফের দপ্তর জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিত নয়। কীভাবে গাড়িটি কেন্দ্ররেখা অতিক্রম করল, সেটি খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে। ডেপুটি, তদন্তকারী এবং দুর্ঘটনা বিশ্লেষণ দল ঘটনাস্থলে কাজ করছে। জিবি নিউজ24ডেস্ক//
মন্তব্যসমূহ (০) কমেন্ট করতে ক্লিক করুন