ইরানের ১০ দফা শর্তের ওপর ভিত্তি করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি হয়েছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর ইরান এই দফাগুলো প্রকাশ করে।
তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা দাবি করেছেন, ইরান সবার সামনে যে ১০ দফা প্রকাশ করেছে, তারা সেগুলোতে রাজি হননি। এর বদলে অন্য ১০ দফাতে রাজি হয়েছেন।
তিনি বলেছেন, ইরানের প্রকাশিত এসব দফার সঙ্গে তারা একমত হতে পারবেন না।
এদিকে এ কর্মকর্তার এমন মন্তব্যে যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
- ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, ১০ দফাটি হলো—
- ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌযান চলাচল ‘নিয়ন্ত্রণ’ করবে।
- ‘নিরাপদ ট্রানজিট প্রোটোকল’ তৈরির মাধ্যমে হরমুজ প্রণালিতে আধিপত্য নিশ্চিত করবে ইরান।
- মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সব যুদ্ধকালীন ঘাঁটি এবং সেনা মোতায়েন কেন্দ্র থেকে সব মার্কিন সৈন্য সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করতে হবে।
- ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার থাকবে ইরানের।
- ইরানের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে হবে (এটি মূলত হিজবুল্লাহ, হামাস ও হুতিদের ওপর হামলা বন্ধের দাবি)।
- ইরানের বিরুদ্ধে প্রাথমিক ও গৌণ সব নিষেধাজ্ঞা বাতিল করতে হবে।
- জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিচালনা পর্ষদের সব নেতিবাচক প্রস্তাব প্রত্যাহার করতে হবে।
- বিদেশে জব্দ থাকা ইরানের সব সম্পদ ও সম্পত্তি অবিলম্বে ফেরত দিতে হবে।
- বিগত বছরে ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া বিভিন্ন সামরিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে ক্ষয়ক্ষতির ‘পূর্ণাঙ্গ ক্ষতিপূরণ’ দিতে হবে।
- ইসলামাবাদে সমঝোতা হওয়া প্রতিটি বিষয়কে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটি ‘বাধ্যতামূলক রেজুলেশন’ হিসেবে পাস করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো পক্ষ এ থেকে সরে যেতে না পারে। জিবি নিউজ24ডেস্ক//
মন্তব্যসমূহ (০) কমেন্ট করতে ক্লিক করুন