মতিয়ার চৌধুরীঃ সোমবার তেইশে মার্চ, ২০২৬, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের পাশাপাশি জেনেভায় মানবাধিকার পরিষদে একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়, এই সম্মেলনে এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ এবং আমেরিকা থেকে আগত বক্তারা অংশগ্রহণ করেন। সম্মেলনে আলোচকবৃন্দ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে গণতন্ত্রের বিপন্নতার বিষয়টি তুলে ধরেন । এই সম্মেলনে বাংলাদেশের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়, কারণ দেশটিতে সম্প্রতি অভূত্থান পরবর্তী একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশটির ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরবর্তি গণতন্ত্র, মানবাধিকার, ও জনগণ, বিশেষ করে সংখ্যালঘু, সাংবাদিক, বিচারক, সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক কর্মি যারা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইউনূসের আমলে মিথ্যা মামলায় কারাগারে আটক রয়েছেন তাদের মুক্তির ব্যাপারে আলোচনা করা হয়। অধিকাংশ বক্তাই অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইউনুসের আমলে এই ১৮ মাসে সংঘটিত গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে আওয়ামীলীগের অনুপস্থিতি শুধু বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর জন্যই নয়, ইউরোপ ও বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্যও উদ্বেগের কারণ, কারণ বাংলাদেশে যা ঘটছে তার বৈশ্বিক প্রভাব রয়েছে। অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইউনুস এবং এই ১৮ মাসের জন্য তাঁর সকল উপদেষ্টাদের অবশ্যই জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। উপদেষ্টারা প্রভাব খাটিয়ে রাজনৈতিক দল গঠন এবং ইচ্ছাকৃতভাবে রাজনীতির পদ ব্যবহার করেছে। , আদালত এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসহ দেশের সর্ত্রই উপদেষ্টারা নিজদের প্রভাব খাটিয়েছেন। উপদেষ্টাদের আইনের আওতায় আনতে হবে এবং আইনের পূর্ণ মুখোমুখি করতে হবে। এই ১৮ মাসে সংখ্যালঘু ও সাংবাদিক সাংস্কৃতিক কর্মিরা স্বাধীন ভাবে কিছু করতে পারেননি। বিশেষ করে হিন্দু, খ্রিস্টান ও বাউলরা ছিলেন সবচাইতে অসহায়। কয়েকজন উপদেষ্টার প্রত্যক্ষ মদদে তৌহিদি জনতার ব্যানোরে উগ্রবাদিরা প্রথম আলো-ডেইলি স্টার, সাংস্কৃতিক সংগঠন উদিচীর অফিসে অগ্নি সংযোগ করেছে, দেশে বিভিন্ন স্থানে মব সৃষ্টি করে সাধারন মানুষকে হয়রানি করা হয়েছে, কবর থেকে একজন বাউলের লাশ
তুলে আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। দেশের দুইশটি মাজারে আক্রমন করা হয়েছে। অইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ছিল অসহায় উপদেষ্টাদের প্রভাবে কেউ কাজ করতে পারেনি। সকল বক্তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই বিষয়গুলি আমলে নিতে এবং সমস্ত নথিভুক্ত প্রমাণ যথাযথভাবে সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে আহ্বান জানিয়েছেন, কারণ ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে এগুলো ব্যবহার করা যেতে পারে। সম্মেলনে এই মর্মে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয় যে, বাংলাদেশে সংঘটিত সকল অপরাধকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে এবং সেই অনুযায়ী যথাসময়ে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সম্মেলনে কিনোট স্পীকার হিসেবে বক্তব্য রাখেন ডঃ সাবেস্তিয়ান বুসি, পরিচালক, ইউরোপীয় ভূ-রাজনৈতিক ইনস্টিটিউট, জেনেভা। ডঃ চার্লস গ্রেভস, পরিচালক, ইন্টারফেইথ ইন্টারন্যাশনাল এবং জেনেভায় নিযুক্ত সাবেক আমেরিকান রাষ্ট্রদূত। আরো বক্তব্য রাখেন কানাডার গ্লোবাল সেন্টার ফর ডেমোক্রেটিক গভর্নেন্স-এর ড. হাবিবে মিল্লাত এবং লন্ডনের লেখক ও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক প্রিয়জিৎ দেবসরকার। জেনেভার NVY কনফারেন্স স্যুটে এই সেমিনার আয়োজক ছিলেন RADHO এবং ইন্টারফেইথ ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব জনাব বিরো দিভারা।

মন্তব্যসমূহ (০) কমেন্ট করতে ক্লিক করুন