স্বাধীনতা মঞ্চের দুই সংগঠকের আন্তরিক প্রচেষ্টায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠান প্রাণবন্ত উপস্থাপনা করেন অন্যতম সংগঠক খ্যাতিমান সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব উর্মি মাজহার। তাঁর সাবলীল বাচনভঙ্গি, উষ্ণ উপস্থিতি এবং আবেগঘন উপস্থাপনায় পুরো অনুষ্ঠান হয়ে ওঠে আরও প্রাণবন্ত ও আকর্ষণীয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আরেক সংগঠক সিনিয়র সাংবাদিক এবং সাপ্তাহিক সত্যবাণী সম্পাদক সৈয়দ আনাস পাশা।
তার বক্তব্যে তিনি বলেন, আজ আমরা শুধু একটি দিন উদযাপন করতে এখানে সমবেত হইনি, আমরা এসেছি আমাদের আত্মপরিচয়কে স্মরণ করতে, আমাদের ইতিহাসকে নতুন করে উচ্চারণ করতে। কারণ এই স্বাধীনতা হঠাৎ করে আসেনি; এটি অর্জিত হয়েছে অগণিত শহীদের রক্তে, মা-বোনের ত্যাগে, আর এক মহান নেতা বঙবন্ধুর অবিচল সাহসী নেতৃত্বে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, আজও কিছু অপশক্তি, কিছু বিভ্রান্ত চেতনা আমাদের সেই গৌরবময় ইতিহাসকে মুছে দিতে চায়। তারা আঘাত হানতে চায় আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়, ধ্বংস করতে চায় আমাদের স্মৃতির ভিত্তি। কিন্তু আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, যে ইতিহাস রক্তে লেখা, তা কখনো মুছে ফেলা যায় না; যে সত্য আত্মত্যাগে নির্মিত, তা কখনো পরাজিত হয় না।
তাঁর বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তা পৌঁছে দেওয়া আমাদের সবার দায়িত্ব। তিনি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন একাত্তরের বীর শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের, যাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে পৃথিবীর মানচিত্রে জন্ম নিয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশ।
হলভর্তি দর্শকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি যেন পরিণত হয় এক অনন্য মিলনমেলায়। এতে রাজনীতিক, সাংবাদিক, সাহিত্যিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির সুপরিচিত ব্যক্তিসহ সর্বস্তরের মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সবার অংশগ্রহণে প্রবাসের মাটিতে সৃষ্টি হয় এক হৃদয়ছোঁয়া আবহ, যেখানে স্বাধীনতার গান আর স্মৃতির আবেগ মিলেমিশে হয়ে ওঠে এক অবিস্মরণীয় মুহূর্ত।
গান, স্মৃতিচারণ এবং শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে লন্ডনের এই আয়োজন যেন আবারও মনে করিয়ে দেয়, বাংলাদেশ কেবল একটি ভৌগোলিক সীমানা নয়; এটি ত্যাগ, সংগ্রাম এবং অদম্য আত্মমর্যাদার এক ইতিহাস। আর সেই ইতিহাস বুকে ধারণ করেই প্রবাসী বাংলাদেশিরা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বয়ে নিয়ে যাচ্ছেন স্বাধীনতার চেতনাকে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত দর্শকদের মন্তব্য- প্রবাসে স্বাধীনতা মঞ্চের এই আয়োজন কেবল একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়, এটি ইতিহাসকে স্মরণ করার, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে নতুন করে জাগিয়ে তোলার এবং বাংলাদেশকে হৃদয়ের গভীরে ধারণ করার এক উজ্জ্বল প্রয়াস।

মন্তব্যসমূহ (০) কমেন্ট করতে ক্লিক করুন