বিয়ের খবর প্রকাশের পর থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন শিশুশিল্পী সিমরিন লুবাবা। মাত্র ১৫ বছর বয়সে বিয়ে করায় নেটদুনিয়ায় দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সিমরিন লুবাবা নিজের ফেসবুকে চেহারা আড়াল করে একটি ছবি পোস্ট করে লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। দুই আত্মা, এক কিবলা। দুনিয়া এবং আখিরাতের জন্য। আল্লাহ আমাকে একজন দ্বীন শেখার সঙ্গী উপহার দিয়েছেন।’
পোস্টে বিয়ের কথা সরাসরি উল্লেখ না করলেও ছিল জীবনসঙ্গীর ইঙ্গিত। এর আগে সবাইকে অবাক করে দিয়ে শোবিজের গ্ল্যামার জগতকে বিদায় জানান আলোচিত এই শিশুশিল্পী।

লুবাবার ফেসবুক স্টোরি
বিয়ের খবর ছড়িয়ে পড়তেই নেটদুনিয়ায় দেখা দেয় মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কেউ মনে করছেন অল্প বয়সে বিয়ে করে দ্বীনকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করেছেন লুবাবা। একজন মন্তব্য করেন, ‘মাশাআল্লাহ, আল্লাহ তোমাদের দাম্পত্য জীবন রহমতের চাদরে মুড়িয়ে রাখবেন ইনশাআল্লাহ’, আরেকজন লেখেন, ‘আল্লাহ আপনাদের ভালো রাখুক’।
আবার অনেকেই এটিকে বাল্যবিবাহ বলে সমালোচনা করছেন। লুবাবা মাত্র ১৫-১৬ বছরের কিশোরী হওয়ায় এ অভিযোগ তুলছেন অনেকেই।

দ্বীনের পথে হাঁটতে শোবিজের গ্ল্যামার জগতকে বিদায় জানান আলোচিত এই শিশুশিল্পী
বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী কন্যার বয়স ১৮ বছরের নিচে হলে বাল্যবিবাহ বলে গণ্য হয়। এসব বিষয় নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি লুবাবা কিংবা তার পরিবার।
একটি সংবাদপত্রের তথ্য অনুযায়ী ২০২১ সালে লুবাবা চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। এসব তথ্য ধরে গণনা করলে বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী বিয়ের বয়স হয়নি লুবাবার।
এক্ষেত্রে বাল্য বিবাহ বলে গণ্য হলে কী শাস্তি হতে পারে লুবাবা ও তার স্বামীর? জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আজমীর সুমী গণমাধ্যমে বলেন, ‘বাল্যবিবাহর আইন অনুযায়ী কন্যার ১৮ এবং পাত্রের ছেলেদের ক্ষেত্রে ২১। যদি কোনো কারণে বয়স গোপন করা হয় সেক্ষেত্রে বাল্যবিবাহ আইন ও প্যানেল কোড অনুযায়ী তাদের শাস্তি হবে।’

সিমরিন লুবাবা
তিনি আরও বলেন, ‘কন্যার বয়স ১৮-এর নিচে থাকলে কাজী বিয়ের রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন না। আর কাজীর রেজিস্ট্রেশন ছাড়া কোনো বিবাহ আইনত বৈধ না। তবে কাজী যদি ১৮ বছরের নিচের কোনো কন্যার বিয়ে নিবন্ধন করেন তবে তার লাইসেন্স বাতিল হবে। আর কোর্ট স্ট্যাম্পে যে বিয়ে হয় সেটা কোনো ভ্যালিড বিয়ে না।’
আইনজীবীর ভাষ্য, যদি কেউ বাংলাদেশের পাসপোর্টধারী হয় তাহলে সে বাংলাদেশে আইন মানতে বাধ্য। দেশের বাইরে কোনো স্ট্যাম্পে সাইন করে বিয়ে করলে বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী সেটি বৈধ বিয়ে না, লিভ টুগেদার বলে গণ্য হবে।

সিমরিন লুবাবা
বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ অনুযায়ী, বাংলাদেশে বাল্যবিবাহ একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। বাল্যবিবাহে জড়িত প্রাপ্তবয়স্ক নারী বা পুরুষ ২ বছরের কারাদণ্ড, ১ লক্ষ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন [। এছাড়া, বাল্যবিবাহের সঙ্গে যুক্ত অভিভাবক বা সহযোগীও একই শাস্তির আওতায় পড়বেন।
অপ্রাপ্ত বয়স্ক কোনো নারী বা পুরুষ বাল্যবিবাহ করলে সর্বোচ্চ ১ মাসের আটকাদেশ ও সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় শাস্তি হতে পারে।
অর্থাৎ বাল্য বিবাহের দায়ে লুবাবার শাস্তি হলে সেটা সর্বোচ্চ ১ মাসের আটকাদেশ ও সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা হতে পারে।
জিবি নিউজ24ডেস্ক//

মন্তব্যসমূহ (০) কমেন্ট করতে ক্লিক করুন