জিবি নিউজ প্রতিনিধি//
সিলেটের ঐতিহাসিক শাহী ঈদগাহ ময়দানে প্রতিবারের ন্যায় এবারও প্রায় লাখো মুসল্লি একসাথে পবিত্র ঈদুল আযহার নামাজ আদায় করেছেন। নামাজ শেষে মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধ ও ঐক্য কামনায় মোনাজাত করা হয়।
সিলেটে ঈদের প্রধান জামাত ঐতিহাসিক শাহী ঈদগাহ ময়দানে সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৬টা থেকেই শাহী ঈদগাহে মুসল্লিরা আসতে শুরু করেন। নামাজ শুরুর আগে শাহী ঈদগাহ মাঠ লোকারণ্য হয়ে উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্ব পাশের সড়কে মুসল্লিদের সারি চলে যায়।
নামাজের আগে বয়ান পেশ করেন বন্দরবাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মোশতাক আহমদ খান। নামাজে ইমামতি করেন একই মসজিদের ইমাম মাওলানা মুফতি জুনায়েদ আহমদ।
নামাজ শেষে মোনাজাতে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও ঐক্যের জন্য মোনাজাত করা হয়। ফিলিস্তিনসহ বিভিন্ন দেশের নির্যাতিত মুসলমানদের জন্যও মোনাজাত করা হয়। নির্যাতিত মুসলিমদের রক্ষায় মহান রবের সাহায্য চেয়ে প্রার্থনায় মুসল্লিরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।
সিলেট শাহী ঈদগাহে ঈদের নামাজে অংশ নেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যান ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ূম চৌধুরীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
সিলেটের প্রধান এ ঈদগাহে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষ ঈদজামাত আদায় করতে পেরে খুশি। নামাজ শেষে একে অপরকে বুকে টেনে নেন। কোলাকুলির মাধ্যমে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেন।
ঈদ জামায়াতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছিল সর্বোচ্চ সতর্কতা। শাহী ঈদগাহ এলাকা ছিল চার স্তরের নিরাপত্তা বলয়ে ঘেরা। মোতায়েন ছিল সাদা পোশাকধারী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, মোবাইল টিম, ট্রাফিক পুলিশ, ড্রোন নজরদারি ও রুফটপ ইউনিট। অন্যান্য এলাকাতেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সক্রিয় ছিল সার্বক্ষণিক।
এবছর সিলেট জেলা ও মহানগর মিলে ঈদুল আযহার নামাজের ২ হাজার ৭০৬টি জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে মহানগরের ভেতরে ৩৯৬টি ও জেলায় ২ হাজার ৩১০টি। মহানগরের মধ্যে ৩২৫টি মসজিদে ও ৭১টি ঈদগাহে এবং জেলায় ১ হাজার ৯৯০টি মসজিদে ও ৩২০টি ঈদগাহে।
মন্তব্যসমূহ (০) কমেন্ট করতে ক্লিক করুন