'আব্রাহাম চুক্তি' নিয়ে ট্রাম্পের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান সৌদি আরব ও পাকিস্তানের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আব্রাহাম চুক্তিতে যোগদানের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে সৌদি আরব ও পাকিস্তান পুনরায় নিশ্চিত করেছে যে, তারা ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করবে না।

ফিলিস্তিন ইস্যুতে সৌদি আরবের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে, সোমবার আল আরাবিয়া টিভিকে এক সৌদি সূত্র এ কথা জানিয়েছে। সূত্রটি "একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের জন্য অপরিবর্তনীয় পথের" প্রয়োজনীয়তার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ ও আঞ্চলিক দেশগুলোকে ইরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর আগেই ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে এবং আব্রাহাম চুক্তিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানোর পর এই মন্তব্যগুলো আসে।

সৌদি আরব বারবার বলেছে যে, একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ছাড়া তারা ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করবে না।

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ মঙ্গলবার বলেছেন, ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কোনো চুক্তিতে পাকিস্তান যোগ দেবে না। তিনি আরও বলেন, দেশটি এমন কোনো চুক্তি গ্রহণ করবে না যা "তার মৌলিক আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক"।

সোমবার ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী দেশ সৌদি আরব, কাতার, মিশর, জর্ডান, তুরস্ক এবং পাকিস্তানকে অবিলম্বে আব্রাহাম চুক্তিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এবং সতর্ক করে বলেছেন যে অন্যথায় তাদের এই মধ্যস্থতায় অংশ নেওয়া উচিত নয়।

তিনি আরও বলেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি হয়, তবে ইরানেরও সেই চুক্তিতে যোগ দেওয়া উচিত।

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আব্রাহাম চুক্তিটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ইসরায়েল ও আরব দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের প্রক্রিয়াকে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে এই চুক্তিটি ইসরায়েলি সরকার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, সুদান ও মরক্কোসহ বিভিন্ন আরব দেশের মধ্যে স্থাপিত হয়।

২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের সর্বশেষ পর্ব শুরু হওয়ার আগে, যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরব ও ইসরায়েলের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের জন্য চাপ দিয়ে আসছিল।

সংঘাত শুরু হওয়ার পর সৌদি আরব ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আলোচনা স্থগিত করেছে।

সৌদি আরবের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, রিয়াদ তাদের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক অবস্থানেই অবিচল রয়েছে।

রিয়াদের নীতি অনুযায়ী, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার একটি ‘স্পষ্ট এবং সুনির্দিষ্ট পথ’ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক কোনোভাবেই স্বাভাবিক করবে না সৌদি আরব।

সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা ওয়াশিংটনকে স্পষ্ট করে বলে দিয়েছে- একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র স্বীকৃতি না পাওয়া পর্যন্ত ইসরাইলের সঙ্গে সৌদি আরব সম্পর্ক স্থাপন করবে না।

ওদিকে, পাকিস্তানও স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত ইসরাইলের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে না যাওয়ার বিষয়ে তার দেশের দীর্ঘদিনের অবস্থানের কথা উল্লেখ করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চুক্তির অংশ হিসেবে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এ দলে দলে যোগ দিতে কাতার, সৌদি আরব, পাকিস্তান, মিশর, জর্ডান ও তুরস্কসহ বেশ কয়েকটি দেশকে অনুরোধ করার পর- দুই দেশের এই প্রতিক্রিয়া এল।

সৌদি আরব প্রথমে ট্রাম্পের এ অনুরোধ প্রত্যাখান করার পর পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মোহাম্মদ আসিফ পাকিস্তানের গণমাধ্যম সামা টিভিতে এক সাক্ষাৎকারে ইসলামাবাদের অবস্থান স্পষ্ট করেন।

তিনি বলেন, ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি না যে, আমাদের দেশের মৌলিক আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এমন কোনো চুক্তিতে আমাদের যোগ দেওয়া উচিত।

ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসিফ বলেন, যাদের কথার ওপর একটি দিনের জন্যও আস্থা রাখা যায় না তাদের সঙ্গে আপনারা কিভাবে চলতে পারবেন?

পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, আমাদের অবস্থান স্পষ্ট যে, এটি আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।

ইসলামাবাদ এখন পর্যন্ত ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয়নি। সেকারণে পাকিস্তানি নাগরিকরা দেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করে ইসরাইলে ভ্রমণ করতে পারেন না। পাকিস্তানের এই পাসপোর্ট নীতির কথা আসিফ উল্লেখ করে বলেন, আমরাই একমাত্র দেশ যাদের পাসপোর্টে এমনকি ইসরাইলের নাম পর্যন্ত নেই।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন ট্রাম্প প্রশাসন নতুন করে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে আরও দেশকে সামিল হওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করলেও, ফিলিস্তিনকে উপেক্ষা করে সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মতো প্রভাবশালী মুসলিম দেশগুলোর কাছ থেকে ইসরাইলের স্বীকৃতি আদায় করা ওয়াশিংটনের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

আব্রাহাম অ্যাকর্ডস হল- ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার একগুচ্ছ চুক্তি। আরব আমিরাত ও বাহরাইন এরই মধ্যে এই চুক্তির মাধ্যমে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করেছে।

ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে হোয়াইট হাউজে ঢোকার পর ২০২০ সালে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনকে এ চুক্তি সই করাতে সক্ষম হন। পরে মরক্কো ও সুদান একই পথ অনুসরণ করে।

গত বছর গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ট্রাম্প আশা প্রকাশ করে বলেছিলেন ‘সৌদি আরবও একদিন এই চুক্তিতে যোগ দেবে’ । তবে এখন পর্যন্ত রিয়াদ তদের অবস্থানে অটল রয়েছে বলেই জানান দিল।

জিবি নিউজ24ডেস্ক//

gbn

মন্তব্যসমূহ (০)


ব্রেকিং নিউজ

লগইন করুন


Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password


মন্তব্য করতে নিবন্ধন করুন