যশোরে উদ্ধার হওয়া প্রাইভেটকারকে ঘিরে রহস্য

gbn

ইয়ানূর রহমান : যশোরে উদ্ধার হওয়া প্রাইভেটকারকে ঘিরে রহস্য তৈরি হয়েছে, যার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে সোনা পাচারসহ হুমকি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ। গাড়িটির মালিকানা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে দুই পক্ষের মধ্যে।

মাগুরার শালিখা উপজেলার আড়পাড়া গ্রামের বাসিন্দা হিরা খাতুন নিজেকে গাড়িটির মালিক দাবি করেছেন। তিনি জানান, তার স্বামী আলী আহমেদ, যিনি নিজেকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সোর্স হিসেবে পরিচয় দিতেন, গত ৫ জানুয়ারি মারা যান। স্বামীর মৃত্যুর পর থেকেই বেনাপোল এলাকার ‘গোল্ড শহিদ’ নামে পরিচিত এক ব্যক্তি ও তার সহযোগীরা তাকে ফোনে হুমকি দিতে শুরু করে। তাদের দাবি, আলী আহমেদ তাদের অনেক সোনার বার আত্মসাৎ করেছেন এবং সেগুলো ফেরত দিতে হবে। না হলে তাকে ও তার ছেলেকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়।

হিরা খাতুন আরও জানান, ক্রমাগত হুমকির মুখে তিনি একপর্যায়ে মোবাইল ফোন বন্ধ রাখতে বাধ্য হন। এসব সোনা বা বিরোধের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না বলেও দাবি করেন। প্রাইভেটকারটি ফেরত পেতে তিনি আদালতের আশ্রয় নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হিরা খাতুনের ছেলে ফাইমুর রহমান সান, যিনি যশোর আব্দুর রাজ্জাক মিউনিসিপ্যাল কলেজের শিক্ষার্থী, গত ৮ জানুয়ারি শহরের আরবপুর এলাকা থেকে ছিনতাইয়ের শিকার হন। অজ্ঞাত ৩-৪ জন ব্যক্তি তার চোখ বেঁধে একটি ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেয় এবং তার ব্যবহৃত একটি আইফোন ও প্রাইভেটকারটি ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

পরে পুলিশি তৎপরতায় মাগুরা থেকে গাড়িটি উদ্ধার করে যশোরে আনা হয়। জানা যায়, গাড়িটি আইনজীবী কল্লোল নামে এক ব্যক্তির কাছে ছিল। তিনি শনিবার রাত ৮টার দিকে গাড়িটি জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে হস্তান্তর করেন। বর্তমানে গাড়িটি কোতোয়ালি থানার হেফাজতে রয়েছে।

এদিকে পুলিশের একটি সূত্র দাবি করেছে, আলী আহমেদ নিজেই চোরাচালান চক্রের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং ওই প্রাইভেটকার ব্যবহার করে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে সোনা পাচারে ভূমিকা রাখতেন। বেনাপোলের একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সঙ্গে তার সরাসরি যোগাযোগ ছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। এমনকি সুযোগ বুঝে তিনি কিছু সোনার বার আত্মসাৎ করেছিলেন বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

পুলিশের ধারণা, তার মৃত্যুর পর সেই সোনা উদ্ধারে চক্রটি সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং এরই অংশ হিসেবে গাড়িটি ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খান বলেন, “মূলত দুই পক্ষের মধ্যে অর্থনৈতিক লেনদেন ছিল। সেই সূত্রে একটি পক্ষ গাড়িটি নিজেদের হেফাজতে নেয়, যা নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ গাড়িটি নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে।”

তিনি আরও জানান, প্রকৃত মালিক প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে পারলে গাড়িটি তার জিম্মায় দেওয়া হবে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।#

gbn

মন্তব্যসমূহ (০)


ব্রেকিং নিউজ

লগইন করুন


Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password


মন্তব্য করতে নিবন্ধন করুন