লন্ডনস্থ বাংলাদেশ হাই কমিশনে ৪৮তম বিজয় দিবস উদযাপন

221
gb

জিবি নিউজ24 ডেস্ক //

নতুন প্রজন্মকে ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের আদর্শ সমুন্নত রাখার আহবান জানিয়ে লন্ডনস্থ বাংলাদেশ হাই কমিশনে রবিবার বাংলাদেশের ৪৮তম বিজয় দিবস উদ্যাপিত হয়েছে । সকাল ১১:০০ টায় হাই কমিশনে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় সংগীতের সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে মহান বিজয় দিবসের কর্মসূচির উদ্বোধন করেন যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার সাঈদা মুনা তাসনিম।

জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবার এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের আত্মার শান্তি এবং বাংলাদেশের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করে দোয়া করা হয়। এ সময় যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ-এর নেতৃবৃন্দ, কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং হাই কমিশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এরপর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করে শুনানো হয়।

বিকেল তিনটায় বেডেন-পাওয়েল হাউজে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং “বাংলাদেশ-একটি দেশের জন্ম: ১৯৫২-১৯৭১ শীর্ষক” এক আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতেই বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবার এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

আলোচনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহান ভাষা আন্দোলনের অমর সংগীত রচয়িতা বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলামিস্ট আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী এবং যুক্তরাজ্যে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এবং যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান মাহমুদ শরীফ। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ভারতের হাইকমিশনার রুচি ঘনশ্যাম, বৃটিশ সাংসদ পল স্কালি, থেরেসা ভিলারস ও ভ্যালেরি ভাজ এবং পাওয়ার হ্যামলেটের স্পীকার আয়েস মিয়া।

রাশিয়া ও শ্রীলংকার কূটনৈতিকবৃন্দ, বৃটিশ ও যুক্তরাজ্যে বাংলা মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ এবং যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী বাংলাদেশী বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গসহ বিভিন্ন পেশা ও শ্রেণীর বিপুল সংখ্যক মানুষ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। ফলে পরিপূর্ণ অনুষ্ঠান স্থলটি বিজয়ের একটি স্বতঃস্ফুর্ত আনন্দ উৎসবে পরিণত হয়।

আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে বলেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ “তলাবিহীন ঝুড়ি ” থেকে মধ্য আয়ের দেশে উন্নীত হতে চলেছে। সন্ত্রাস দমন ও সামাজিক উন্নয়নের দিক দিয়েও বাংলাদেশ পাকিস্থানসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর চেয়ে অনেক এগিয়ে আছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আশা করেন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে।

আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান মাহমুদ শরীফ তাঁর বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ বাস্তবায়নের জন্য সবাইকে আরো আন্তরিক ও নিবেদিত হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিরলস প্রচেষ্টা, দূরদর্শী ও সত্যনিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ এগিয়ে চলেছে। এই অগ্রগতি অব্যাহত রাখতে তিনি সবাইকে একযোগে দেশের জন্য কাজ করার আহবান জানান।

ভারতীয় হাই কমিশনার রুচি ঘনশ্যাম মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ১৯৭১ সালে ভারতের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বাংলাদেশ-ভারত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

বৃটিশ সাংসদরা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে এদেশের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন। তারা বর্তমান বাংলাদেশের অগ্রগতিরও প্রশংসা করেন।

বাংলাদেশ হাইকমিশনার তার বক্তব্যের শুরুতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবার, মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সকল মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধে লাঞ্ছিতা ২ লাখ নারী ও জাতীয় চার নেতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বৃটেনে বসবাসকারী বাংলাদেশী নতুন প্রজন্মকে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামের আদর্শ অনুসরণ এবং তা সমুন্নত রাখার আহবান জানান।

তিনি বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের ক্ষেত্রে বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে। আমরা আশা করি তাঁর নেতৃত্বে ২০২১ সালে বাংলাদেশ বিশ্বে অন্যতম একটি উন্নত ও প্রগতিশীল দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

তিনি আরো বলেন, দেশ আজ প্রতিটি ক্ষেত্রে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। এই উন্নয়ন অগ্রগতিতে প্রবাসীদের অবদানের কথা উল্লেখ করে এক্ষেত্রে তাদের আরো সম্পৃক্ত হওয়ার আহবান জানান।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের উৎসর্গ করে একটি সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। এতে লন্ডনস্থ প্রবাসী বাংলাদেশী শিল্পীরা অংশগ্রহণ করেন। তারা মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত উদ্দীপনামূলক দেশাত্ববোধক সংগীত ও সেই সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেন। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে অতিথিদের বৈকালিক চা-নাস্তা পরিবেশনের মাধ্যমে ৪৮তম মহান বিজয় দিবস উদ্যাপনের সমাপ্তি হয়।