Bangla Newspaper

গরু মোটাতাজাকরণসহ পরিচর্যা করতে ব্যস্ত খামারিরা

69

জিবি নিউজ 24 ডেস্ক //

আসন্ন কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে গরুর শেষ সময়ে পরিচর্যাসহ মোটাতাজা করণে ব্যস্ত সময় পার করছেন ভোলার খামারিরা। গত বছর ব্যবসা ভালো হওয়ায় এবার আরো দেশি গররু মোটাতাজা করণে নেমেছে তারা। তবে বিদেশি গরু না আসলে গত বছরের চেয়ে দ্বিগুণ লাভ হবে বলে আশা করছেন খামারিরা।

আর কিছুদিন পর কোরবানির ঈদ। এই ঈদকে সামনে রেখে গরু মোটাতাজা করণে ব্যস্ত ভোলার খামারিরা। খামারিদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি হওয়ায় অসাধু পন্থা অবলম্বন না করে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবে কাঁচা ঘাস, খড়, খৈল-ভুষি খাইয়ে গরু মোটাতাজাকরণ করছে তারা। দেশীয় পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজা করে লাভবান হচ্ছেন অনেকেই। দেশীয় পদ্ধতিতে প্রাকৃতিকভাবে গরু মোটাতাজাকরণ গরুর চাহিদা বাজারে বেশি ও আর্থিক লাভজনক হওয়ায় জেলায় এ বছর দেশি পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজাকরণের খামারের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। আর এতে করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন অনেকে। এবার গো খাদ্য তীল, খৈলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় তারা হিমসিম খাচ্ছে। এ অবস্থায় ভারতীয় গরু বাজারে আসলে দেশি গরুর দাম কমে যাওয়ার আশংকা করছে খামারি। স্থানীয় খামারিদের দাবি এবার যাতে হাটে বিদেশি গরু না আসা তার জন্য পদক্ষেপ নেয়া হয়।

এদিকে খামারিদের অভিযোগ তারা সরকারি কোনো ঋণ সহায়তা পায় না। এমনকি প্রাণী সম্পাদ দপ্তরের ডাক্তারগণও মাঠ পর্যায়ে যায় না। গরু অসুস্থ হলে তাদের খবর দিলেও তারা যায় না। যদিও যায় তাদেরকে টাকা দিতে হয়।

ভোলা জেলা প্রাণী সম্পদ অফিস সূত্রে যানা যায, ভোলা জেলার সাত উপজেলায় এ বছর কোরবানির জন্য ১ লাখ ১৩ হাজার পশু প্রস্তুত করা হচ্ছে। যার মধ্যে ৮১ হাজার ৮০০ টি গরু, ১ হাজার ৫২৫টি মহিষ, ২৯ হাজার ৬৪৬টি ছাগল ও ২৯টি ভেড়া। কর্মকর্তারা জানান, কোরবানিকে সামনে রেখে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবে মোটাতাজা করণে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে খামারিরা। তাদের সব ধরণের সহযোগিতা ও পরামর্শে প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তারা মাঠে কাজ করছে। তবে কেউ যদি অবৈধভাবে গরু মোটাতাজাকরণ করে তাদের আইনের আলতায় এনে জেল-জরিমানা করা হবে বলে জানান তারা।

ভোলা সদর উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. দীনেশ চন্দ্র মজুমদার কালের কণ্ঠকে বলেন, হরমোনাল পদ্ধতিতে যে গরু মোটাতাজাকরণ করা হয় তা ধরার জন্য আমরা প্রতিনিয়ত কাজ করেছি। আমাদের জানা মতে এ ধরনের কার্যকালাপ ভোলাতে নেই। যদি এমন কোনো কার্যকালাপ থেকে থাকেও তার জন্য আমরা কিছু পদক্ষেপ নিয়েছি। এ জন্য আমরা গরুর বাজারগুলোতে অভিযান পরিচালনা করে প্রশাষনের সহায়তায় আইননানুগ ব্যাবস্থা গ্রহণ করবো।

গরু ও ছাগলের হাট বাজারে আইন-শৃঙ্খলার প্রস্তুতি নিয়ে ভোলা জেলা পুলিশ সুপার মোকতার হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ভোলা পুলিশের পক্ষ থেকে ৩ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে ঈদুল আজহা যথাযথভাবে পালন করার জন্য। সাদা পোশাকে, ডিবি, পোশাকধারী পুলিশ মিলিয়ে ৫০০ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত থাকবে ভোলার শতাধিক গরুর হাট, লঞ্চ ঘাট ও বাসস্ট্যান্ডগুলোতে।

এ ছাড়াও স্কুল ও কলেজের মাঠে ও হাইওয়েতে কোনো গরুর হাট বসানো যাবে না উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, নির্দিষ্ট স্থান ছাড়া অন্য কোনো স্থানে গরুর হাট বসলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জাল নোট সনাক্তকরণের জন্য প্রতিটি বড় হাটে মেশিনে ব্যবস্থা থাকবে। এ ছাড়াও কোনো ব্যবসায়ী যদি মনে করেন গরুর বাজার থেকে নির্দিষ্ট স্থানে তাদের অর্থ স্থানান্তরের জন্য নিরাপত্তা প্রয়োজন তাহলে আমরা তা প্রদান করবো।

Comments
Loading...