তাহিরপুর সীমান্তে চোরাচালান বাণিজ্য জমজমাট : দোয়ারায় গ্রেফতার ৭

gbn

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের তাহিরপুর সীমান্তে লাখলাখ টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে চোরাচালান বাণিজ্য চলছে জমজমাট। অন্যদিকে দোয়ারাবাজারে পৃথক অভিযানে মদ ও চিনিসহ ৭জনকে গ্রেফতারের খবর পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে- গতকাল বুধবার (৬ সেপ্টেম্ভর) রাত ১২টার পর থেকে আজ বৃহস্পতিবার (৭ সেপ্টেম্ভর) ভোর ৫টা পর্যন্ত জেলার তাহিরপুর উপজেলার টেকেরঘাট সীমান্তের চুনাপাথর খনি প্রকল্পের রেস্ট হাউজের পিছন দিয়ে ভারত থেকে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে লাকমা গ্রামের রফিকুল মিয়া ৯০ বস্তা, শহিদুল মিয়া ৮০বস্তা, ফিরোজ মিয়া ৭৫বস্তা ও ভুট্টো মিয়া ৬৫বস্তা কয়লাসহ অন্যান্যরা ২০মেঃটন কয়লা পাচাঁর করে নিলাদ্রী লেকপাড়ে অবস্থিত অসিউর রহমানের ডিপুতে নিয়ে ওই গ্রামের বিশিস্ট চোরাই কয়লা ব্যবসায়ী মোক্তার মহলদার ও আক্কাছ আলীর কাছে বিক্রি করে। পরে পাচাঁরকৃত প্রতিবস্তা (৫০কেজি) কয়লা থেকে বিজিবি, পুলিশ ও সাংবাদিকদের নাম ভাংগিয়ে ৩শ টাকা করে চাঁদা নেয় সোর্স পরিচয়ধারী একাধিক মামলার আসামী রতন মহলদার, ইয়াবা কালাম ও কামরুল মিয়া। একই ভাবে এই সীমান্তের বড়ছড়া, ভাংগারঘাট, বুরুঙ্গাছড়া ও রজনীলাইন এলাকা দিয়ে শতাধিক মেঃটন কয়লা পাচাঁর করে বিভিন্ন ডিপুতে মজুত করার খবর পাওয়া গেছে। অন্যদিকে এউপজেলার বীরেন্দ্রনগর, চারাগাঁও, বালিয়াঘাট, চাঁনপুর ও লাউড়গড় সীমান্ত দিয়েও কয়লা, চুনাপাথর, মাদকদ্রব্য, চিনি, সুপারী, কাঠ, নাসিরউদ্দিন বিড়ি, কসমেটিকস, বিস্কুট ও গরুসহ বিভিন্ন প্রকার মালামাল পাচাঁর করে সোর্স পরিচয়ধারীরা। কিন্তু এব্যাপারে নেওয়া হয়নি কোন পদক্ষেপ। অথচ গত ২দিনে পৃথক অভিযান চালিয়ে দোয়ারাবাজার উপজেলার দোহালিয়া থেকে ভারতীয় মদসহ চোরাকারবারী ফয়জুল ইসলাম, আবুল কালাম, ইমরান আহমেদ ও এউপজেলার নরশিংপুর ইউনিয়নের শ্যামরগাঁও থেকে ২৬৫০কেজি ভারতীয় চিনিসহ চোরাকারবারী হেলাল মিয়া, রফিকুল ইসলাম, কাছম আলী ও জব্বার মিয়াকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কিন্তু অভিযান নেই তাহিরপুর সীমান্তে। এব্যাপারে লাকমা গ্রামের রফিকুল মিয়া বলেন- অনেকেই প্রতিদিন ভারত থেকে কয়লা পাচাঁর করছে। এই চোরাই কয়লা আমরা মোশাহিদ, নবীনুর, ইব্রাহিম, মোক্তার ও আক্কাছসহ ৮-১০জনের কাছে বিক্রি করি। টেকেরঘাট বিজিবি ক্যাম্পের সোর্স পরিচয়ধারী ইসাক মিয়া ও কামাল মিয়া বলেন- চোরারা নিজেরাই সবাইকে ম্যানেজ করে কয়লা পাচাঁর করছে, আমরা তাদের সাথে জড়িত না। কয়লা ও চুনাপাথর আমদানী কারক আবুল বাশার খান নয়ন, ফজলু সরদার ও ইপি সদস্য ধন মিয়াসহ অনেকেই বলেন-সোর্স পরিচয়ধারী একাধিক মামলার আসামী ও তাদের গডফাদারের চোরাচালান ও চাঁদাবাজি বাণিজ্য বন্ধ করার জন্য বিজিবির পাশাপাশি পুলিশ ও র‌্যাব প্রশাসনের সহযোগীতা জরুরী প্রয়োজন। দোয়ারাবাজার থানার ওসি বদরুল হাসান সাংবাদিকদের জানান- গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে দোয়ারাবাজারে আসা অবৈধ পণ্য ও মাদক প্রতিরোধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

gbn

মন্তব্যসমূহ (০)


ব্রেকিং নিউজ

লগইন করুন


Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password


মন্তব্য করতে নিবন্ধন করুন