আবারো ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলি সেনাদের গুলি: নিহত ৭, আহত সহস্রাধিক

277
gb

জিবিনিউজ ডেস্ক::

গাজা সীমান্তে ইসরাইলি সেনাদের গুলিতে আরো সাত ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো সহস্রাধিক। আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।

ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় শুক্রবার জানিয়েছে, গাজা উপত্যকার সীমান্তের কাছে ফিলিস্তিনিদের বিক্ষোভে গুলি চালিয়েছে ইসরাইলি সেনারা। এতে সাতজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন কমপক্ষে এক হাজার জন। এদের মধ্যে গুলিতে আহত হয়েছেন ২৯৩ জন। আর বাকিরা টিয়ার গ্যাসে আহত হয়েছেন।

নিহতরা হলেন ওসামা কাদিহ (৩৮), মাজদি রামাদান সাবাত, হুসেইন মাদি (১৬), ইব্রাহিম আল উর (২০), সিদকি আবু উতি, মোহামম্দ হাজ সালেহ (৩৩) এবং আলা আল জামালি (১৭)।

এর আগে শায়ের রাবা নামে এক ফিলিস্তিনি ৩০ মার্চ আহত হয়েছিলেন। গতকাল সকালে তিনি মারা যান।

মাত্র এক সপ্তাহ আগে মাতৃভূমিতে ফেরার অধিকারের দাবিতে ‘ভূমি দিবস’ উপলক্ষে অনুরূপ বিক্ষোভের সময় একই সীমান্ত এলাকায় ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে ১৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত ও দেড় হাজারেরও বেশি আহত হয়েছিলেন। গাজা সীমান্তের কাছে ফিলিস্তিনিদের বিক্ষোভ এখনো অব্যাহত রয়েছে।

পক্ষকালব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচির অংশ হিসেবে নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিরা গাজা উপত্যাকার পূর্বাঞ্চলে সীমান্তের কাছে তাদের বিক্ষোভ কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন। বিক্ষোভের প্রথম দিন ৩০ মার্চ ১৭ জনসহ গত সপ্তাহে ইসরাইলি বাহিনী ২৪ জন ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারীকে হত্যা করে। সে সময় আহত হন এক হাজার ছয় শ’রও বেশি ফিলিস্তিনি।

ইসরাইলের ব্যাপক গণহত্যা চালানো ও তারা তাদের এ কঠোর নীতি পরিবর্তন করবে না বলে ঘোষণা দেয়ার পরও ফিলিস্তিনিরা তাদের আন্দোলনে অনমনীয় রয়েছেন। অনেক ফিলিস্তিনি তরুণ সীমান্তে মোতায়েন ইসরাইলি সেনাদের অন্ধ করে দিতে আয়না বহন করছে। তাদের অনেককে বাড়িতে তৈরি গ্যাস মাস্ক ব্যবহার করছে যদিও তা আসলে তাদের সুরক্ষা দিতে পারবে না।

গতকালের বিক্ষোভে দলে দলে বিপুল লোকের আগমন অব্যাহত থাকায় উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে বলে আল-জাজিরার একজন সাংবাদিক জানান। তবে ইসরাইলি গত সপ্তাহের চেয়ে গতকাল কিছুটা সংযম প্রদর্শন করতে দেখা গেছে। অবশ্য তারা তাজা গুলির ব্যবহার কমায়নি।

গতকাল ফিলিস্তিনিরা বিক্ষোভ প্রদর্শনের জন্য শত শত পুরনো টায়ার জমা করে সীমান্ত এলাকায়। এর উদ্দেশ্য ছিল ধোঁয়ার পর্দা তৈরি করা যাতে ইসরাইলি স্নাইপার সেনারা দেখতে না পায়।

এ দিকে জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের মুখপাত্র লিজ থ্রোসেল গতকাল বিক্ষোভের সময় নতুন করে সহিংসতায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

তিনি বলেন, আমি ইসরাইলকে তার অঙ্গীকারের কথা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, গাজার মতো স্থানে সামরিক দখলদারিত্বের প্রেক্ষাপটে অন্যায় ও বেআইনি মারণাস্ত্রের ব্যবহারে প্রাণহানির ঘটনা ইচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড বলে বিবেচিত হবে, যা জেনেভা সনদের চতুর্থ ধারার মারাত্মক লঙ্ঘন বলে গণ্য করা হবে।’