সিরিয়া সঙ্কটে বিকল্পও খুঁজছে ইরান-রাশিয়া-তুরস্ক

249
gb
জিবিনিউজ ডেস্ক::

ইরান, রাশিয়া ও তুরস্কের প্রেসিডেন্টরা সিরিয়ায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করলেন। বুধবার বৈঠক শেষে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিন মিত্র দেশের প্রধানরা জানান, ইরান, তুরস্ক ও রাশিয়া সিরিয়ার স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, জাতীয় ঐক্য, ভৌগলিক অখণ্ডতা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, সিরিয়া সঙ্কটের সামরিক সমাধান নেই। রাজনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে হবে। তিন দেশের নেতারাই সিরিয়া ইস্যুতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

বুধবার তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় ইরান, রাশিয়া ও তুরস্কের প্রেসিডেন্টরা সিরিয়ার সর্বশেষ পরিস্থিতি পর্যালোচনার পাশাপাশি ‘আস্তানা’ ও ‘সোচি’ বৈঠকে সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা করেন। বৈঠকে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগানের পাশাপাশি তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও অংশ নেন।

ত্রিদেশীয় শীর্ষ বৈঠক শুরুর আগে রাশিয়া ও তুরস্কের প্রেসিডেন্টদের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করেন রুহানি। তিনি দুই দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের বিষয়ে কথা বলেন। শীর্ষ বৈঠকের আগে তিন দেশের মধ্যে বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

২০১৭ সালের ২২ নভেম্বর রাশিয়ার সোচিতে রাশিয়া, তুরস্ক ও ইরানের মধ্যে সিরিয়া বিষয়ক প্রথম শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে কাজাখস্তানের আস্তানায় সিরিয়ায় শাস্তি প্রতিষ্ঠার বিষয়ে রাশিয়া, তুরস্ক ও ইরানের মধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ের নিয়মিত বৈঠক শুরু হয়।

এদিকে ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমির হাতামি বলেছেন, সিরিয়া থেকে সন্ত্রাসবাদ পুরোপুরি নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত তার দেশ ও রাশিয়ার মধ্যে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। রাশিয়া সফররত জেনারেল হাতামি সম্প্রতি মস্কোয় রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগু’র সঙ্গে এক বৈঠকে এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদকে সমূলে উৎপাটনের লক্ষ্যে তেহরান ও মস্কো পরস্পরকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তার বাস্তবায়ন চলছে। রাশিয়াসহ মিত্র যেকোনো দেশকে দেয়া প্রতিশ্রুতি ইরান রক্ষা করে।ইরান ও রাশিয়ার মধ্যকার সামরিক সহযোগিতা দিন দিন বাড়ছে।

রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ইরান ও রাশিয়ার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার ফলেই কেবল সিরিয়ার বিশাল এলাকা সন্ত্রাসীদের দখলমুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। তিনি সকল ক্ষেত্রে তেহরানের সঙ্গে মস্কোর সহযোগিতা শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।