Bangla Newspaper

বাঙালি জাতির হাজার বছরের ইতিহাসে গৌরবোজ্জ্বল একটি দিন (ভিডিও)

আজ ২৬ মার্চ. মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস

107

আজ ২৬ মার্চ. মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। বাঙালি জাতির হাজার বছরের ইতিহাসে গৌরবোজ্জ্বল একটি দিন। একাত্তরের আজকের এই দিন থেকেই রক্তস্নাত মুক্তিযুদ্ধ সূচিত হয়েছিল।শোষণ-বঞ্চনার শৃঙ্খল ভেঙে একটি স্বাধীন ভূখন্ডে লাল সবুজের পতাকা উড়ানোর যাত্রা শুরু হয়েছিল এই দিনেই। এরপর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্বিচার হত্যা, ধ্বংস ও পৈশাচিকতার বিরুদ্ধে ৯ মাসের মরণপণ লড়াইয়ে ৩০ লাখ শহীদের আত্মদানের বিনিময়ে অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন বাংলাদেশের।

৪৭ বছর আগে ১৯৭১ সালের আজকের এ দিনটিতে আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘটেছিল বাঙালির সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের। পাকিস্তানি শোষকদের কবল থেকে মাতৃভূমিকে স্বাধীন করতে রণাঙ্গনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন বাংলার দামাল ছেলেরা। ৯ মাস বহু ত্যাগ-তিতিক্ষা আর রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয় বিজয় ও সার্বভৌমত্ব। জাতি অর্জন করে একটি দেশ, জাতীয় পতাকা ও জাতীয় সঙ্গীত।

বাঙালি জাতির সংগ্রামময় জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন হচ্ছে এই দিনটি। পলাশীর প্রান্তরে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত যাওয়ার পর দীর্ঘ ১৯০ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করে পাক-ভারত উপমহাদেশের জনগণ পেয়েছিল পাকিস্তান ও ভারত নামক দুটি দেশ। পাকিস্তানিরা যখন বাঙালিদের নতুন করে শোষণ ও পরাধীনতার শৃঙ্খলে বাঙালিদের বেঁধে রাখার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল, ঠিক তখনই শতাব্দীর মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার অভ্যুদয়ে বাঙালি জাতিকে মুক্তির মহামন্ত্রে উজ্জীবিত করে ধাপে ধাপে এগিয়ে নিয়ে গেছেন স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্যে। এবারের স্বাধীনতা দিবস পালন হবে উন্নয়নের অনন্য এক মাইল ফলকের মধ্য দিয়ে। বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে বাংলাদেশ স্বল্পন্নোত দেশ থেকে উন্নয়নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়া। যা জাতি হিসেবে আমাদের জন্য এক বিরল গৌরব ও সম্মানের বিষয়।

পুরো জাতি আজ শোক ও গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে অবনতচিত্তে স্মরণ করবে স্বাধীনতার জন্য আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের। শ্রদ্ধা জানাবে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী, স্বাধীনতার স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তার অবর্তমানে যুদ্ধ পরিচালনাকারী তারই সহকর্মী চার জাতীয় নেতা এবং ৯ মাসে অসামান্য আত্মত্যাগকারী বাংলার অকুতোভয় বীর সেনানী মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি। পাশাপাশি দেশ আজ মেতে উঠবে স্বাধীনতা উৎসবের আমেজে। সেইসঙ্গে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার সম্পন্ন এবং রায় কার্যকরের মাধ্যমে জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করার দাবিতে সোচ্চার থাকবে।
পুরো জাতি আজ শোক ও গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে অবনতচিত্তে স্মরণ করবে স্বাধীনতার জন্য আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের। শ্রদ্ধা জানাবে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী, স্বাধীনতার স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তার অবর্তমানে যুদ্ধ পরিচালনাকারী তারই সহকর্মী চার জাতীয় নেতা এবং ৯ মাসে অসামান্য আত্মত্যাগকারী বাংলার অকুতোভয় বীর সেনানী মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি। পাশাপাশি দেশ আজ মেতে উঠবে স্বাধীনতা উৎসবের আমেজে। সেইসঙ্গে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার সম্পন্ন এবং রায় কার্যকরের মাধ্যমে জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করার দাবিতে সোচ্চার থাকবে।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর গণহত্যা শুরুর পর মধ্যরাতে অর্থাৎ ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরের বাসভবনে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে গ্রেফতারের আগমুহূর্তে দেওয়া সে ঘোষণায় বঙ্গবন্ধু শত্রুসেনাদের বিতাড়িত করতে শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়াই করার জন্য দেশবাসীকে অনুরোধ ও নির্দেশ দেন। তৎকালীন ইপিআরের ওয়্যারলেস থেকে সে বার্তা ছড়িয়ে যায় দেশের সর্বত্র। বঙ্গবন্ধুর এ ঘোষণায় সেদিনই ঐক্যবদ্ধ সশস্ত্র মুক্তিসংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে পুরো জাতি।

এরই ধারাবাহিকতায় ১৭ এপ্রিল তৎকালীন কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুর মহকুমার বৈদ্যনাথতলার এক আমবাগানে শপথ নেয় স্বাধীন বাংলার অস্থায়ী বিপ্লবী সরকার। বঙ্গবন্ধুকে রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি এবং তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করে গঠিত এ সরকারের নেতৃত্বেই মুক্তিযুদ্ধ আনুষ্ঠানিক কাঠামো লাভ করে।

৯ মাস চলা মুক্তিযুদ্ধে একদিকে রচিত হয় ইতিহাসের মহীয়ান অধ্যায়, মুক্তিকামী বাংলার মানুষের বীরত্বগাথা; আরেকদিকে ছিল হানাদার বাহিনীর নির্বিচার হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ ও লুটতরাজের কলঙ্কিত অধ্যায়। একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের মাধ্যমে চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়। ৩০ লাখ মানুষের রক্ত আর দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে বিশ্ব মানচিত্রে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ নামের স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রের আত্মপ্রকাশ ঘটে।

আজ সরকারি ছুটির দিন। স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস প্রতিবছর পালিত হয় যুগপৎ আনন্দ ও বেদনার সঙ্গে। হারানো স্বজন, মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণ করার পাশাপাশি মানুষ মাতোয়ারা হন স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের আনন্দে। উপভোগ করে স্বাধীনতার স্বাদ, উপলব্ধি করেন মর্ম। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে প্রকাশ হয় সরকারি বিশেষ ক্রোড়পত্র। প্রচারমাধ্যম তাদের আয়োজনে রাখে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা। দৈনিক পত্রিকা ও বিভিন্ন ম্যাগাজিন বের করে বিশেষ প্রকাশনা। সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন সর্বস্তরের মানুষ। সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে উত্তোলন করা হবে জাতীয় পতাকা। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী এ দিবসে বাণী দেন।

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ আহ্বান জানান, ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতাকে আরও অর্থবহ করতে। দলমতধর্মবর্ণ নির্বিশেষে সবাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রতি জোর দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে বলেন, লাখ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ অর্জন। এ অর্জনকে অর্থপূর্ণ করতে সবাইকে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস জানতে হবে। স্বাধীনতার চেতনাকে ধারণ করতে হবে, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে পৌঁছে দিতে হবে।

Comments
Loading...