কথার কথা

396
gb

মধুলীনা ||

**মেয়েটা বাস ভাড়া দিতে ব্যাগ খোলার সাথে সাথে ব্যাগ থেকে সিগারেটের প্যাকেট টা টুক করে পড়ে গেলো।

আশে পাশের মানুষের ভ্রু কুচকে তাকালো। এক জন বলেই বসল “কি যুগ পড়ল মেয়েরাও ব্যাগে সিগারেট নিয়ে ঘোরে।”

কেউ জানেনা বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় মেয়েটা ছোট ভাইকে সিগারেট খাওয়ার জন্য থাপ্পড় মেরে সিগারেটের প্যাকেটটা নিজের ব্যাগে রেখেছিলো। রাস্তায় ফেলে দেবে ভেবেছিল কিন্তু বাস এসে যাওয়ায় ভুলে গেছে।

**৪০ বছর বয়সী একটি লোক নাইটে ক্লাশ করতে কলেজে এসেছে….
আশে পাশে সবাই যুবক।

একজন মন্তব্য করেই বসলো

“আঙ্কেলদের সঙ্গে আজকাল ক্লাশও করতে হয়!!”

কেউ জানেনা লোকটির বাবা অনেক আগে মারা গিয়েছে। সংসারের হাল ধরার জন্য বড় ছেলে হিসেবে তাকে তখন পড়াশোনা ছাড়তে হয়েছিলো।
এখন এই বয়সে সে আবার লেখাপড়া করার জন্য আর্থিক দিক দিয়ে সক্ষম, তাই আবার পড়াশোনা শুরু করেছে।
কারণ তার পড়তে ভালো লাগে।

**মহিলাটি লিপস্টিক লাগিয়ে পার্টিতে এসেছে। গতবছরই জোয়ান ছেলে রোড এক্সিডেন্টে মারা গিয়েছে।

একজন মন্তব্য করে বসলো
“শখ কি রে বাবা। ছেলেটা মারা গেছে…এসেছে লিপস্টিক ঠোঁটে লাগিয়ে”

কেউ জানেনা। আজকের দিনেই মহিলা তার ছেলের জন্ম দিয়ে ছিলেন॥ পার্টিতে আসার আগে মা ছেলের ডায়েরি বুকে জড়িয়ে অঝোরে কেঁদে এসেছেন। ডায়রিতে যেখানে লেখা ছিলো
“আমার মা খুব সুন্দর… সাজলে মাকে অত্যন্ত সুন্দরী লাগে,আজ আমার জন্মদিন মা কিন্তু একটুও সাজেনি…ভাল্লাগেনা আমার ”

** ছেলেটা ফুল কিনে মেয়েটার হাতে দিচ্ছিলো। পাশ থেকে একজন বলে উঠলো

“ভালোই মানিয়েছে রে!”

কেউ জানেই না মেয়েটা তার নিজের বোন এবং মেয়েটার আজ চাকরির প্রোমোশন হয়েছে বলে ছোট ভাইয়ের সামর্থ্য অনুযায়ী ঐ ফুলটাই কেনা সম্ভব ছিলো তার পক্ষে।

** মেয়েটা বিবাহিতা অনেক রাত পর্যন্ত সে ফেসবুকের অনলাইন।
এটা দেখে একজন মন্তব্য করলো

“বিবাহিত জীবনে সুখি না মেয়েটা; আরে আমরা আছি তো সুখ দিতে”

অথচ কেউই জানেনা মেয়েটা রাত জেগে তার স্বামীর সাথেই ভিডিও কলে কথা বলছিলো কারণ সে আজ তার বাপের বাড়িতে এবং প্রাণপ্রিয় স্বামীকে দারুন মিস করছে।

** মেয়েটা ডিভোর্সি …
আশ পাশের মানুষ এজন্য তাকেই দায়ী করে।

কেউ জানেই না কত রাত স্বামী শ্বশুরবাড়ির অত্যাচারে মেয়েটা ঘুমোতে পারে নি।

**ছেলেটা বন্ধুদের আড্ডায় খুব হাসিখুশি। গত সপ্তাহেই তার প্রেমিকার বিয়ে হয়েছে।

একজন মন্তব্য করেই বসলো
“এত তাড়াতাড়ি ভুলে গেলি সব”?

কেউ জানেই না যেদিন তার প্রেমিকার বিয়ে হলো সেদিন থেকে সে এক রাতও শান্তিতে ঘুমায় নি। শুধু কেঁদেছে।
মানুষের সামনে ভালো থাকার মিথ্যা অভিনয়ে সে জয়ী।

** মহিলাটি আজ অফিসে মাথায় কাপড় দিয়ে কান আর মুখের খানিকটা অংশ ঢেকে রেখেছে…
একজন মন্তব্য করে বসলো
“হঠাৎ এত ভদ্র হলো কি করে?”

কেউ জানেই না ওড়নার নিচে গতরাতে স্বামীর হাতের মার গুলোকে সে ঢেকে রেখেছে।

**ছেলেটা খুব রোগা!
একেবারে হেংলা যাকে বলে।

একজন মন্তব্য করলো
“নেশা টেশা করে মনে হয়”

অথচ কেউ জানেই না ছেলেটা ক্যান্সার নামক ভয়াবহ রোগে ভুগছে।

**মেয়েটার প্রমোশন হয়েছে …সে খুব খুশি।

তবে আশে পাশের সহকর্মীরা মোটেও খুশি নয়…
একজন মুখ ভেংচি কেটে বলল
“বস এর সাথে খুব খাতির তো তাই প্রমোশন পেয়েছে”

কেউ জানতো না মেয়েটা দিন রাত জেগে প্রোজেক্ট এর জন্য কি না করেছে।

**বিয়ের পর তাদের সংসারে নতুন অতিথি আসছে না। একজন বলেই ফেলল
“ফিগার ঠিক রাখার জন্য বাচ্চা নিচ্ছে না”

কেউ জানেই না এই দম্পতি কত ডাক্তার ,কবিরাজ দেখিয়েছেন একটা বাচ্চার জন্য।

**অবৈধ সন্তান নষ্ট করতে ছেলে মেয়ে হাসপাতালে।
ডাক্তার বললেন ” এবরশন পাপ”
তারা উত্তর দিল ” টাকা দিচ্ছি কাজ করে দিন এত কথা শুনতে চাইনা”

কেউ জানেনা এই ডাক্তার মহিলার গর্ভ দীর্ঘ বছর যাবৎ একটা বাচ্চার জন্য হাহাকার করছে তাই তো গর্ভপাত করতে আসা জুগল কে দেখে তিনি দীর্ঘনিশ্বাস ফেলেন ।
____________________________
কখনো কারো বাইরেটা দেখে ভিতরটা বিচার করা অন্যায়। এই অন্যায় এ যারা সায় দেয় তারাও অন্যায় করছে।
জরুরি নয় যে চোখে দেখা সব ঘটনা সত্য হবে। আড়ালের ঘটনা জানলে হয়ত আপনারও চোখ জলে ভরে উঠবে…