ফিলিপাইনে ঝড়-বন্যা-ভূমিধসে নিহত দুই শতাধিক

563

জিবিনিউজ24 ডেস্ক:ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চল নানাবিধ প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড় আঘাত হানার পর ভূমিধস ও বন্যায় অন্তত ২০০ জনের মৃত্যু হয়েছে।এসব ঘটনায় আরো বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।উদ্ধারকারীরা প্রাকৃতিক দুর্যোগে নিখোঁজদের সন্ধানে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে টুবোড ও পিয়াগাপো শহর। এছাড়া দুর্গম অঞ্চলের দালামা গ্রামটি পাহাড়ি ঢলে একেবারে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।অধিকাংশ মানুষ শুক্রবার রাতে এসব দুর্যোগের শিকার হয়েছেন। এখন ঝড়টি অন্যত্র চলে গেছে। তাই উদ্ধারকারীরা পূর্ণোদ্যমে কাজ শুরু করেছেন।হতাহতদের অধিকাংশ দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রধান দ্বীপ মিন্দানাওয়ের বাসিন্দা বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।আঞ্চলিক পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ দ্বীপরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম দ্বীপ মিন্দানাওয়ের তুবোদ শহরের কাছে ১৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।শুক্রবার সেখানে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড় তেম্বিনের আঘাতে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে একটি গ্রাম মাটির সঙ্গে মিশে গেছে।তুবোদের পুলিশ কর্মকর্তা গেরি পারামি বলেন, নদীর পানি বেড়েছে এবং অধিকাংশ বাড়িঘর বিলীন হয়ে গেছে। সেখানে কোনো গ্রামের চিহ্ন নেই।তুবোদের কাছে প্রায় দুই হাজার মানুষের কৃষি প্রধান গ্রাম দালামায় ভূমিধসে মাটি চাপা পড়া মানুষদের উদ্ধারে পুলিশ, সেনা ও স্বেচ্ছাসেবীরা একযোগে কাজ করছে। বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা সারিপদ পাসাসুম বলেন, আকস্মিক বন্যায় পাইগাপো শহরের প্রায় ৪০টি বাড়িঘর কাদামাটির নীচে চাপা পড়েছে। এতে অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছে।তুবোদের পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, আমরা উপদ্রুত এলাকায় উদ্ধারকর্মীদের পাঠিয়েছি। কিন্তু পাথরের জন্য তারা খুব একটা এগুতে পারেনি। পুলিশ জানায়, এতে পার্শ্ববর্তী কয়েকটি শহর ও নগরীতে আরো ৪ জন নিহত হয়েছে।এদিকে বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা জানান, লানাও ডেল সুর প্রদেশে এ প্রাকৃতিক দুর্যোগে ৭ জনের প্রাণহানি ঘটে। এ ঘটনায় এখনো ৪ জন নিখোঁজ রয়েছে। ভূমিধসের কারণে এরা মাটির নীচে চাপা পড়েছে কিংবা বন্যার পানির তোড়ে ভেসে গেছে।ঝড়ের পর জীবিতদের খুঁজে বের করা, আবর্জনা পরিষ্কার করা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার জন্য জরুরি বিভাগের কর্মী, সেনা, পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবীদের নিয়োগ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।ঝড়টি বর্তমানে ভিয়েতনামের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া কর্মকর্তারা।