সিলেটে মুক্তিযোদ্ধার এক হাতে পতাকা, অন্য হাতে ভিক্ষার থালা!

188

জিবিনিউজ24 ডেস্ক:দেশের জন্য জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছিলেন আমরু মিয়া। মরণপণ লড়াইয়ে দেশকে করেছেন স্বাধীন। কিন্তু স্বাধীন দেশে মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানী আমরু মিয়াকে ভিক্ষার থালা হাতে নিয়ে জীবনযুদ্ধে ঠিকে থাকার লড়াই করতে হচ্ছে!

সিলেটের সদর উপজেলার টুকের বাজার ইউনিয়নের কুমারগাঁও গ্রামের মৃত মনা উল্লার ছেলে আমরু মিয়া (৮৬) । মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার পর ভাতা কিংবা অন্য কোনো ধরনের সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত তিনি।

সিলেটের কুমারগাঁও বাস স্ট্যান্ড এলাকায় ভিক্ষার থালা হাতে ঘুরছিলেন আমরু মিয়া। সেখানেই কথা হয় তাঁর সাথে।

আমরু মিয়া বলেন, ‘দেশের জন্য জীবন বাজি রেখে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম মুক্তিযুদ্ধে । তখন নিজের জীবনের কথা ভাবিনি। শুধু ভেবেছি এ দেশকে স্বাধীন করতেই হবে। চোখের সামনে সহযোদ্ধাদের অনেকের মৃত্যু দেখেছি।’

আক্ষেপ করে আমরু মিয়া বলেন, ‘স্বাধীনতার এতগুলো বছর পেরিয়ে গেলেও, একাত্তরে দেশ রক্ষায় জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করলেও এখনও  পাইনি মুক্তিযোদ্ধা ভাতা। পাচ্ছি না কোনও সুযোগ-সুবিধা। স্ত্রী সন্তান নিয়ে কোন রকমে খেয়ে না খেয়ে দিন যাপন করছি।’

দীর্ঘদিন ধরে এক হাতে দেশের পতাকা আর আরেক হাতে ভিক্ষার থালা নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন আমরু মিয়া। তাঁকে দেখার যেন কেউ নেই। দেশকে স্বাধীন করার যুদ্ধে জয়ী হওয়া আমরু মিয়া নিজের জীবন যুদ্ধেই হেরে গেছেন। পরিবারের সদস্যদের মুখে দু’মুঠো খাবার তুলে দিতেই এখন সংগ্রামে ব্যস্ত তিনি।

আমরু মিয়া জানান, কুমারগাঁও বাস স্ট্যান্ড, তেমুখী পয়েন্ট, মদিনা মার্কেটসহ বিভিন্ন এলাকায় ভিক্ষা করেন তিনি।

একাত্তরের এই বীর সেনানী জানান, মুক্তিযুদ্ধে ৫নং সেক্টরের অধীনে যুদ্ধ করেছেন তিনি। ভারতে প্রশিক্ষণ নিয়ে সুনামগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে যুদ্ধ করেছেন তিনি। সিলেটে বিমানবন্দরে পাক হানাদারদের হাতে বন্দি থাকা নারীদের মুক্ত করার যুদ্ধে তিনি আঘাত পেয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেন।

আমরু মিয়া যখন যুদ্ধের ময়দানে লড়াইয়ে লিপ্ত, তখন তাঁর ঘর আলোকিত করে জন্ম নেয় এক সন্তান। যুদ্ধ শেষ করেই বাড়িতে এসে সন্তানের মুখ দেখন বর্তমানে তেরো সন্তানের জনক আমরু মিয়া।

আমরু মিয়া বলেন, ‘জীবনের শেষবেলায় এসে আমার একটাই চাওয়া, মুক্তিযোদ্ধা হিসেব সম্মান নিয়ে যেন মরতে পারি। বর্তমান সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অনেক কিছু করছে। একজন অসহায় মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমার প্রতি সরকার সহায়তার হাত বাড়াবে, এমনটাই চাওয়া।’