বিয়ানীবাজারে ৬ মাসে ৬ খুন ! জনমনে আতংক

3,368
gb

মুকিত মুহাম্মদ, বিয়ানীবাজার প্রতিনিধি ||
খুনের উপত্যকায় পরিণত হয়েছে বিয়ানীবাজার। পান থেকে চুন খসলেই ঘটছে খুনোখুনি। বেশিরভাগই ঘটছে প্রকাশ্যে। মাত্র ৬ মাসে ৬টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। মাসুদ, ফরহাদ, মিন্টু, রেশম, লিটু অতঃপর আনোয়ার- তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে, বাড়ছে আর্তনাদ। যা ভাবিয়ে তুলেছে পুরো বিয়ানীবাজারবাসীকে। অপরাধীদের কাছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অসহায়ত্ব বাড়াচ্ছে আতঙ্কও। আর খুনিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় পুণরাবৃত্তি ঘটছে এমনটি মনে করছেন সাধারণরা। লিটু হত্যার রেশ কাটেনি এখনো। শনিবার পৌরশহরে ফের প্রকাশ্য দিবালোকে ঘটলো খুনের ঘটনা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ছয় মাসে বিয়ানীবাজারে ৬টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। তন্মধ্যে গত জুন ও জুলাই মাসেই ঘটেছে ৫টি।
আনোয়ার হত্যাঃ বিয়ানীবাজার পৌরশহরের মোকাম মসজিদ রোডে প্রকাশ্য দিবালোকে ছুরিকাঘাত করে আনোয়ার হোসেন (২৫) নামের এক যুবককে খুন করেছে প্রায় সমবয়সী অপর এক যুবক। নিহত আনোয়ার পৌরসভার সুপাতলা গ্রামের সিরাজ উদ্দিনের পুত্র। ছুরিকাঘাতকারী ঘাতক সায়েল আহমদ পৌরসভার পন্ডিতপাড়া গ্রামের বাচ্চু মিয়ার পুত্র। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতা সায়েলের চাচাতো ভাই পাবেল আহমদ ও চাচা আজাদকে পাকড়াও করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পুলিশ ঘাতককে এখনো আটক করতে পারেনি।
মাসুদ হত্যাঃ ৩১ জুলাই সোমবার উপজেলার শেওলা ইউনিয়নের চারাবই গ্রামের সুজন মিয়ার পুত্র মাসুদ আহমদ (১৮) লাশ চারখাই কনকলস এলাকার একটি ডোবা থেকে উদ্ধার করা হয়। অটোরিক্সা চালক মাসুদ উদ্ধারের চারদিন পূর্ব থেকে নিখোঁজ ছিল।
লিটু হত্যাঃ ১৭ জুলাই সোমবার বিয়ানীবাজার সরকারী কলেজের একটি কক্ষের ভিতরে গুলিবিদ্ধ হয়ে খুন হন ছাত্রলীগ কর্মী খালেদ আহমদ লিটু। সে পৌরসভাস্থ খাসা পন্ডিতপাড়া গ্রামের খলিল আহমদের পুত্র। এ ঘটনায় প্রায় ৪ মাস অতিবাহিত হলেও খুনিকে সনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার কিংবা এজাহারভূক্ত পলাতম আসামীদেরও আটক করতে পারেনি।
ফরহাদ হত্যাঃ ২৬ জুন সোমবার চারখাই ইউনিয়নের তরঙ্গ গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের পুত্র ফরহাদ আহমদের (২২) লাশ নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর স্থানীয় বিল থেকে উদ্ধার করা হয়। পূর্ব শুত্র“তার জের ধরে স্থানীয় প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে বলে জানা যায়।
মিন্টু হত্যাঃ ১২ জুন সোমবার মোল্লাপুর ইউনিয়নের পাতন জামে মসজিদের ভিতর দুপক্ষের সংঘর্ষে দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে মুহিদুর রহমান মিন্টু খুন হন। এ খুনের সাথে জড়িত আসামীদের কয়েকজনকে গ্রেফতার করলেও বাকীরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।
রেশম হত্যাঃ ২৩ জুন শুক্রবার লাউতা ইউনিয়নের কালাইউরা গ্রামে ইউপি সদস্য রুমন আহমদের বাড়ির গৃহকর্মী রেশম বেগম (৪৫) গৃহকর্তাদের নির্যাতনে খুন হন। রেশম বেগম উপজেলা শেওলা ইউনিয়নের দিঘলবাক গ্রামের মৃত মন্তাজ আলীর কন্যা। এ ঘটনায় ইউপি সদস্য রুমনকে গ্রেফতার করলেও মামলার এজাহারভূক্ত আসামী রুমনের স্ত্রীকে এখনো আটক করতে পারেনি পুলিশ।
একের পর এক সংগঠিত এসব খুনের সাথে জড়িত ঘাতকদের গ্রেফতারপূর্বক আইনের আওতায় নিয়ে আসতে যেমন ব্যর্থ হচ্ছে বিয়ানীবাজার থানা পুলিশ, তেমনি হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রগুলোও উদ্ধার হচ্ছে না। এতে করে অস্ত্রবাজরা ক্রমেই বেপরোয়া হয়ে উঠছে। এ বিষয়ে বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ শাহজালাল মুন্সী বলেন, আমি এখানে নতুন এসেছি। আমার আমলে এই প্রথম হত্যাকান্ড ঘটল। এসব হত্যাকান্ডসহ বিগত সময়ে সংগঠিত সকল অপরাধের সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে পরিকল্পিত সাঁড়াশি অভিযান চলবে। এ উপজেলার মানুষের জানমালের নিরাপত্তা বিধান ও শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষারয় পুলিশ তার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবে।