পলাশবাড়ীতে আবারো রাতে আধারে দায়সার সড়ক সংস্কার কাজ

72
gb

গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি
গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার হতে ১ নং কিশোরগাড়ী ইউনিয়ন যাওয়ার একমাত্র পাকা সড়কটি সংস্কার কাজে উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের যোগসাজসে ব্যাপক অনিয়ম করছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মনি কন্ট্রাকশন নামে একটি প্রতিষ্ঠান। এ অনিয়মের প্রতিবাদে ক্ষোভে ফুসে উঠেছে এলাকাবাসী তারা নিম্ন মানের কাজ বন্ধ করে দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন ।

জানা যায় যে, প্রায় ৭৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪.৫০ কিলোমিটার সড়কে সংস্কার কাজে মালামাল প্রায় ১ শত কিলোমিটার দুর হতে তৈরী করে এনে এ রাস্তাটির সংস্কার কাজ চলমান রয়েছে। গতকাল ১০ ফেব্রয়ারী সোমবার নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে রাত ১০ টার পর হতে সারারাত কিশোরগাড়ী বাজারের অংশে সংস্কার কাজে পাথর ও বিটুমিন মেশানো মসলা দিয়ে সড়কের কার্পেটিং করা হয়। এসব বিটুমিন মেশানো পাথর সড়কে ফেলার আগে সড়কটি না করা হয়েছে পরিস্কার বা না হয়েছে বিটুমিন মিশ্রিত তেল ব্যবহার বালু মাটির উপরে করা হয়েছে কার্পেটিং ফলে রাত না যেতেই কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। জমি নিড়ানীর মতো কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে ক্ষুদ্ধ এলাকাবাসীর হাতে।

১০ ফেব্রয়ারী রাতে আধারে কাজের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্তরা জানান, কার্পেটিং এর মালামাল আনতে ধরে সড়ক দূর্ঘটনায় পরে ফলে মালামাল গুলো সড়কে পৌছাতে দেরী হয় একারণে কার্পেটিং এর জন্য মিশ্রিত মালামাল গুলো জমে যায় তাই কাজ করতে রাত হয়। তবে কাজের সময় উপজেলা সহকারি প্রকৌশলী হেলাল সাহেব উপস্থিত ছিলেন। কাজের মান খারাপ হলে সেটা পূর্নরায় করা হবে।

স্থানীয়দের তোপের মুখে গত ১১ ফেব্রয়ারী মঙ্গলবার কাজ বন্ধ থাকে এবং পরের দিন ১২ ফেব্রয়ারী বুধবার আবারো সড়কে সকাল হতেই শুরু হয় সারাদিনে প্রায় দেড়কিলো মিটার সড়কের কার্পেটিং করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি। এদিন শেষে রাত ১০ টা ১০ মিনিটেও দেখা যায় সড়কে কার্পেটিং করছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি। এসময় উপজেলা প্রকৌশলী অফিসের কোন কর্মকর্তা কে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা জানান সকাল হতে কার্পেটিং শুরু হয়ে একটানা কার্পেটিং এর কাজ চলছে।

এবিষয়ে গাইবান্ধা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহিমের নিকট জানতে চাইলে প্রথমেই তিনি বলেন এতো রাতে ফোন দেওয়ার মানে কি। এসময় তাকে বলা হলো এখন রাত সাড়ে ১০ টা এসময় পলাশবাড়ী উপজেলার কিশোরগাড়ী ইউনিয়নের সড়ক সংস্কার কাজের কার্পেটিং হচ্ছে। এর উত্তরে তিনি বলেন রাতে কখনো কার্পেটিং কাজ হতে পারে না। তিনি বিষয়টি দিনের বেলায় দেখবেন বলে জানান। এর কিছুক্ষন পর তিনি আবারো ফোন দিয়ে বলেন কাজের স্থলে একজন কর্মকর্তা উপস্থিত রয়েছেন আপনি আবারো গিয়ে দেখতে পারেন। তিনি আরো বলেন কাজ চলমান অবস্থায় মেশিন নষ্ট হওয়ায় কার্পেটিং করতে রাত হয়েছে তবে কাজের মান খারাপ হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে কর্মকর্তা বিহীন রাতে আধারে সড়কের সংস্কার কাজের সরাসরি দৃশ্য ফেসবুক লাইভ দেওয়ায় ও এলজিইডি গাইবান্ধার নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম কে ফোন দেওয়ার পর কাজের স্থলে উপস্থিত হন সহকারি প্রকৌশলী হেলাল।

এরপর সহকারি প্রকৌশলী হেলাল এ প্রতিবেদক কে ফোন করে জানান, নির্বাহী প্রকৌশলী স্যার কে ফোন দেওয়ায় দরকার ছিলো কি আমি তো কাজে স্থল হতে একটু দুরে দোকানের মধ্যে টিভিতে অনুষ্ঠান দেখছিলাম।

এই হলো এলজিইডির কর্মকর্তাদের দায়সারা কারবার তারা যা বলে সেটাই সঠিক রাতে আধারে কার্পেটিং কাজ কেউ কিছু বললেই অযুহাত গাড়ী নষ্ট, মেশিন নষ্ট হওয়ায় কাজ করতে করতে গভীর রাত। এতেই পরিস্কার বোঝায় এই কর্মকর্তাগণের যোগসাজসে এসব কাজ রাতের আধারে করছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি।