আ.ফ.ম. মাহবুবুল হক ছিলেন নীতির প্রশ্নে আপোষহীন লোভ-লালসা তাঁকে স্পর্শ করতে পারিনি -স্মরণ সভায় বক্তারা

984
gb

জিবি নিউজ ২৪.কম ||

 একাত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক ছাত্রনেতা ও প্রগতিশীল রাজনীতিক আ.ফ.ম মাহবুবুল হক ছিলেন একজন সৎ খাটি দেশপ্রেমিক। নীতির প্রশ্নে তিনি ছিলেন আপোষহীন, লোভ-লালসা তাঁকে স্পর্শ করতে পারিনি একারণেই তিনি আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। আজীবন খেটে খাওয়া মানুষের পক্ষে কথা বলেছেন। নীতি ও আদর্শের প্রশ্নে অটল এই রাজনীতিক ছিলেন শ্লেগানের মাষ্টার। ‘‘লড়াই লড়াই লড়াই চাই, লড়াই করে বাঁচতে চাই’’ এই শ্লোগানের জন্যে তিনি অমর হয়ে থাকবেন। জীবিত মাহবুবুল হকের চেয়ে মৃত মাহবুল হক আরো বেশী শক্তিশালী।

বাম রাজনীতিক আ.ফ.ম মাহবুবুল হকের স্মরন সভায় বক্তারা এঅভিমত ব্যক্ত করেন। বক্তারা বলেন বিপ্লবের স্বার্থে তার কোন বক্তব্যে তিনি কাউকে প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখেননি। জিয়া-এশাদ আমলে তাঁকে লোভনীয় অফার দেয়া হয়েছে, প্রস্থাব দেয়া হয়েছে মন্ত্রী করার-তিনি তা ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করেছেন।
নীতর প্রশ্নে আপোষহীন এই বাম রাজনীতিক চিরকাল অমর হয়ে থাকবেন। গেল ২২ নভেম্বর বিকেল ইষ্টলন্ডনের মাইক্রো বিজনেন্স সেন্টারে বৃটেনে বসবাসরত প্রগতিশীল চিন্তা চেতনায় বিশ্বাসীদের আয়োজনে শোক সভায় সভাপতিত্ব করেন সাবেক ছাত্রনেতা ও যুক্তরাজ্য বাসদের আহবায়ক গয়াছুর রহমান গয়াছ, সাংবাদিক মতিয়ার চৌধুরী ও সাবেক ছাত্র নেতা আব্দুল মালিক খোকনের সঞ্চালনায় অনুষ্টিত শোক সভায় বক্তব্য রাখেন যুক্তরাজ্য জাসদের (ইনু-শিরিন) এর সভাপতি বিশিষ্ট সাংবাদিক মুক্তিযোদ্ধা এডভোটেক হারুনুর রশিদ, যুক্তরাজ্য জাসদের সভাপতি শামীম আহমদ (আম্বিয়া-প্রধান), জেএসডির সভাপতি ছমির উদ্দিন, যুক্তরাজ্য জাসদের ভাইস প্রেসিডেন্ট (ইনু-শিরিন) কবি গীতিকার এডভোকেট মুজিবুল হক মনি, যুক্তরাজ্য জাসদের সেক্রেটারী (ইনু-শিরিন) সৈয়দ আবুল মনসুর লিলু, যুক্তরাজ্য জাসদের সাবেক সেক্রেটারী আব্দুর রাজাজাক, সিপিবি নেতা শাহরিয়ার বিন আলী,যুক্তরাজ্য বাসদ নেতা সোহেল আহমদ চৌধুরী, বাসদ নেতা মোহাম্মদ শওকত, জাসদ (আম্বিয়া-প্রধান) বেডফোর্ড শাখার সেক্রেটারী সোহেল আহমদ চৌধুরী, ব্যারিষ্টার ফারা খান,জাতীয় পার্টির ইউরোপীয়ান কো-অর্ডিনেটর মুজিবুর রহমান মুজিব, প্রজন্ম একাত্তরের বাবুল হোসেন, ডাঃ গিয়াস উদ্দিন, জাসদ নেতা রেদওয়ান খান, কমিউনিটি নেতা সাদ চৌধুরী, সাবেক ছাত্র নেতা সৈয়দ আব্দুল মাবুদ, কানেক্ট বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট নুরুল আমিন, কবি নজরুল ইসলাম প্রমুখ। বাম রাজনীতিক আ.ফ.ম. মাহবুবুল হক গেল ১০ নভেম্বর কানাডার অটোয়ায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি ১৯৪৮ সালের ২৫ ডিসেম্বর নোয়াখালির চাটখিল উপজেলার মোহাম্মদপুর গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। ১৯৬২ সালে স্কুল জীবনে শরীফ কমিশনের শিক্ষানীতির বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ গ্রহন করে, ১৯৬৭-১৯৬৮ সালে ছাত্রলীগ সূর্যসেন হল শাখার সম্পাদক ১৯৬৮-৬৯ সালের ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটর সদস্য, ১৯৬৯-৭০ সালে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি বিএলএফের প্রশিক্ষক ও পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, ১৯৭২ সালে ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক, ১৯৭৩-১৯৭৮ সাল পর্যন্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৭৮-১৯৮০ সালে জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, ১৯৮৩ সালে বাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির আহবায়ক নিযুক্ত হন। ১৯৬৮ সালে প্রথম কারাবরন করেন, মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও একমেয়ে সহ অসংখ্য গ্রুণগ্রাহী রেখে গেছেন।