ওসমানীনগরে অবহেলিত রাস্তা সংস্কারে প্রবাসীর মহানুভবতা

58
gb

জিবি নিউজ ।।
সিলেটের ওসমানীনগরে এক প্রবাসীর উদ্যোগে প্রায় ৬ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তার সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে দীর্ঘ এ রাস্থাটির খবর রাখছেন না কেউ। নজর নেই প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষের চলাচলের এই রাস্তাটির দিকে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখো গেছে, ২০ জন শ্রমিক গত ১৮ দিন থেকে প্রবাসীর অর্থায়নে রাস্তায় মাটি ভরাট কাজ করছেন। প্রায় দুই লক্ষ টাকা ব্যয়ে মাঠি ভরাট কাজে তত্বাবধানে রয়েছেন প্রবাসীর ভাই। ৪ কিলোমিটার রাস্তায় বর্তমানে মাটি ভরাট কাজ সম্পন্ন শেষের পথে। স্থানীয় অনেকেই রাস্তাটি মাঠি ভরাট হলে ইট সলিংএর দাবি জানান।

জানা যায়, উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের সাদিপুর থেকে সুন্ধিখলা প্রায় ৬ কিলোমিটার রাস্তার জন্য ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যনের কাছে লিখিত আবেদন করে করেও কোন ফল পাওয়া যায়নি। হাওর এলাকার এই রাস্তার জন্য ৮ গ্রামের প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষ দির্ঘ দিন থেকে দূর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। সাধারণ মানুষের দূর্ভোগের কথা মাথায় রেখে রাস্তা সংস্কারে এগিয়ে এসছেন সুন্ধিখলা গ্রামের মরহুম ইউনুছ আলীর পুত্র যুক্তরাজ্য প্রবাসী ছাবির আহমদ। প্রত্যন্ত অঞ্চল হওয়ায় এই কাঁচা রাস্তাটির প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে ব্যপক ক্ষতি হয়। যার কারণে রাস্তাটিতে ৪ বছর থেকে নিজ উদ্যোগে মাটি ভরাট করে আসছেন প্রবাসী ছাবির আহমদ। যুক্তরাজ্য থেকেও তার চাচাত ভাই সহিদ আহমদের তত্বাবধানে প্রতি বছরই তিনি নিজ খরচে রাস্তায় মাটি ভরাটের কাজ করিয়ে আসছেন। কোন কোন বছর দেশে এসেও তিনি মাঠি ভরাট কাজ করিছেন। সাদিপুর থেকে সুন্ধিখলা বিকল্প কোন রাস্তা না থাকায় সুন্দিখলা, সাদিপুর, মোকামপাড়া, গুজাতলী, সম্মানপুর, নোয়াগাওসহ ৮ গ্রামের সাধরাণ মানুষ রাস্তাটি চলাচলে ব্যবহার করছেন।

বর্ষা মৌসুমে এই রাস্তা স্থানে স্থানে ভেঙ্গে যায়। অনেক স্থানে রাস্তার অস্তিত্ব পাওয়া যায় না। উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে এ কাঁচা রাস্তা থাকায় প্রতি বন্যায় এ রাস্তার ব্যাপক ক্ষতি হলেও রাস্তাটি সংস্কারে সরকারি কোন বরাদ্দ পাওয়া যায় না বলে জানিয়েছেন এলাকার অনেকেই। যার কারনে সুন্দিখলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সালে আহমদ ইসলামী একাডেমি, চাতলপাড় দাখিল মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থীরা নানা দূর্ভোগে রয়েছন। এ গ্রামগুলোর সাধারণ মানুষ অসুস্থ হয়ে পরলে মুমূর্ষ অবস্তায়ও বেহাল এ রাস্তার কারণে চিকিৎসা নিতে পারছে না। গর্ভবর্তীদের তাৎক্ষনিক চিকিৎসা কে›দ্রে নেওয়া সম্ভব হয়না। যার কারণে অনেকেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পরেন। তাই এই রাস্তাটি ইট সলিং করে জনগনের চলাচলে দূর্ভোগ লাঘব করতে দাবি তুলছেন সাধারণ মানুষ।

স্থানীয় আক্কাস আলী, আব্দুল করিম, মোশাইদ আলী, লুৎফুর মিয়া, কাওসার আহমদসহ অনেকেই বলেন, গত কয়েক বছর থেকে প্রবাসী ছাবির আহমদ এই রাস্তাটি মাঠি ভরাট করিয়েছেন। আমাদের এই ৮ গ্রামের মানুষ যোগাযোগ ও স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত এখানে স্বাস্থ্য সেবার জন্য গড়ে উঠেনি কোন স্বাস্থ্য কেন্দ্র। যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় মূমূর্ষ অবস্থায় অনেকেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পরেন। তাই আমরা রাস্তাটি ইট সলিং এবং এই অঞ্চলে একটি স্বাস্থ্য কেন্দ্র স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More