কুলাউড়ায় কবরস্থানের ভূমিতে চেয়ারম্যানের মার্কেট, তদন্তে উপজেলা প্রশাসন

36
gb

জিবি নিউজ ২৪ ডেস্ক//

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার বরমচালে কবরস্থানের ভূমিতে ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল আহবাব চৌধুরী শাহজাহানের মার্কেট স্থাপনের অভিযোগে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে উপজেলা প্রশাসন। ২৫ নভেম্বর সোমবার সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজরাতুন নাঈমকে প্রধান করে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এর আগে গত ১৪ নভেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে বরমচালের মহলাল গ্রামের বাসিন্দা যুক্তরাজ্য প্রবাসী হায়াত সিপন এলাকাবাসীর পক্ষে স্থানীয় মুসলমানদের জানাজা ও দাফনের জন্য দানকৃত ভূমি দখল এবং মার্কেট স্থাপনার লিখিত অভিযোগ দেন।

এ বিষয়ে কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম ফরহাদ চৌধুরী বলেন, বিষয়টি তদন্তের জন্য সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) প্রধান করে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী যদি কোন অনিয়ম পাওয়া যায় তাহলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার বরমচাল ইউনিয়নের মহলাল গ্রামের মুসলমানদের ব্যবহারের জন্য তৎকালীন পৃথিমপাশার জমিদার পরিবারের উত্তরসূরী আলী ইয়াওহর খান কর্তৃক জিন্নানগর মৌজার ১৪৭৬ নং দাগের ৩০ শতক ভূমি বন্দোবস্ত দেয়া হয়। এবং ডিপি ফর্সায় কবরস্থান উল্লেখ করা হয়। পরবর্তীতে ৫৬ সালের ভূমি জরিপে এসএ (দাগনং ১৪৭৬) ফর্সায় ওই ৩০ শতক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল আহবাব চৌধুরীর পিতা আব্দুল গণির নামে ভূমির শ্রেণী কবরস্থান উল্লেখপূর্বক রেকর্ড করা হয়। বর্তমান ভূমি জরিপে এস এ দাগ ১৪৭৬ এবং আরএস ১৪২৯ নং দাগের ওই ৩০ শতক মাঠ ফর্সায় ভূমির শ্রেণির পরিবর্তন করে চারা উল্লেখ করে আব্দুল গণির মেয়ে ও তাঁদের উত্তরাধিকারগণের নামে রেকর্ড করা হয়। এছাড়াও ডি পি ও এস এ রেকর্ডের ফর্সায় মন্তব্য কলামে লেখা রয়েছে মুসলমান সর্বসাধারণের ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। যা বর্তমান মাঠ ফর্সায় সেটা উল্লেখ করা হয়নি এবং ভূমির শ্রেণীও পরিবর্তন করা হয়েছে। অভিযোগকারির দাবি প্রায় ৪ দশক আগেও এলাকার কেউ মারা গেলে ওই জায়গায় দাফন করা হতো। নিজের বাড়ির সামনের ভূমি হওয়ায় তাঁর পরিবারের লোকজন এই ভূমি কৌশলে নিজের বাড়ির অংশ দেখিয়ে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে কবরস্থানের জায়গা দীর্ঘদিন ধরে দখল করে আছেন চেয়ারম্যান আব্দুল আহবাব চৌধুরী শাহজাহান। এবং এলাকার কেউ মারা গেলে বর্তমানে সেখানে কাউকে দাফন করতে দেয়া হয়না। পরবর্তীতে বর্তমান জরীপে সুকৌশলে আহবাব চৌধুরী উনার বোন ও তাঁদের উত্তরাধিকারদের নামে রেকর্ডভূক্ত করেন। কবরস্থানের জায়গা বোনদের নামে রেকর্ডভূক্ত করে নিজে দীর্ঘদিন থেকে দোকান কোটা স্থাপন করে ভাড়া আদায় এবং ভোগ দখল করছেন।

স্থানীয় একাধিক এলাকাবাসী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রায় ৪ দশক আগেও মহলাল এলাকার মুসলমান কেউ মারা গেলে ওই জায়গায় দাফন করা হতো। পরবর্তীতে আহবাব চৌধুরীর ও উনার পিতার বাধার কারণে এলাকায় কেউ মারা গেলে এখানে দাফন দেওয়া সম্ভব হয়নি। ওই ভূমিতে এখনো কবরের চিহ্ন রয়েছে।

এ ব্যাপারে বরমচাল ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল আহবাব চৌধুরী শাহজাহান বলেন, আমার পূর্বপুরুষেরা যে ভূমিতে বসবাস করে আসছেন সেটা আমি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি। আমি আমার নিজ ভূমিতে দীর্ঘদিন আগে দোকান কোটা নির্মাণ করেছি। বিষয়টি এলাকাবাসী অবগত। হঠাৎ আমার বিরুদ্ধে যে প্রবাসী অভিযোগ করেছেন সেটা প্রতিহিংসাপরায়ণ ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More