মৃত্যুর আগে মায়ের সাথে শেষ কথা মা আমাকে নিয়ে যাও ওরা আমাকে মেরে ফেলবে

104
gb

গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি //

মা আমাকে নিয়ে যাও, ওরা আমাকে মেরে ফেলবে, আমি পরীক্ষা দিব, ওরা পরীক্ষা দিতে দিবেনা, ওরা আমাকে তিন বেলা খেতেও দিচ্ছে না এভাবে কথাগুলো মৃত্যুর একদিন আগে মোবাইল ফোনে মায়ের সঙ্গে বলেছিল নিহত ফাতেমা। ওর ইচ্ছে ছিলো বড় ভাইয়ের মত আইন বিষয়ে পড়াশুনা করে বিচারক হওয়ার কিন্তু তার স্বপ্ন পূরণ হলো না অধরাই থেকে গেলো ফাতেমার । এভাবে কেঁদে কেঁদেই নিহত ফাতেমার মা আতœহারা হয়ে যায়। মেয়ের মৃত্যুটাকে সহজে মেনে নিতে পারছেন না। শুধু মা না পরিবারের সকলেই হত বিহবল হয়ে পড়েছে। এমন হৃদয় বিদারক ঘটনাটি ঘটেছে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার দূর্গমচর দক্ষিণ দিঘলকান্দি গ্রামে। ঐ গ্রামে নিহত ফাতেমার লাশ দেখে কেউ মেনে নিতে পারছে না এটি হত্যা না আতœহত্যা। নিহত ফাতেমার পরিবার সূত্র জানায় পাশ্ববর্তী দক্ষিন দিঘলকান্দি গ্রামের সুরাহকের পূত্র আব্দুল মমিনের সাথে উত্তর দিঘলকান্দি গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রশিদের কন্যা ফাতেমা আক্তারের মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পরিচয় হয় এবং প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে গত ২৬/০৮/২০১৯ইং তারিখে অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমায়। পরে কোর্ট এ্যাভিডেভিটের মাধ্যমে বিয়ে করে মমিনের বাড়িতে স্ত্রী হিসাবে নিয়ে এসে সংসার জীবন শুরু করে। এর পর সংসার নামক জীবনে নেমে আসে ঘোর অনামিশার অন্ধকার । দেড় মাসের সংসার জীবনে মানসিক ও শারিরীক নির্যাতন শুরু করে তার স্বামী, শাশুড়ি সহ পরিবারের অনেকে। ঘটনার এক দিন আগে গত ১২ নভেম্বর মঙ্গলবার শশুর বাড়ির নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে ফাতেমা তার মাকে মোবাইল করলে বড় বোন ছালমা ঐ বাড়িতে যায়। বড় বোনের সামনে ফাতেমার স্বামী মারপিট করে। এ দৃশ্য দেখে বোন তারাতারি বাড়িতে চলে এসে পরিবারের সবাইকে জানায়। ফাতেমার পরিবার বিচার সালিশের জন্য সময় ঠিক করলেও পরের দিন গত বুধবার মেয়েকে স্বামীর শয়ন ঘরের ধর্ন্যার সাথে গলায় ওড়না পেচানো মেয়ের লাশ দেখতে পায় বাবা। ফাতেমার পরিবার ও এলাকাবাসি মেনে নিতে পারেনি এ রকম অপমৃত্য। এলাকাবাসির মধ্যে কৌতুহলের সৃষ্টি হয়েছে। এত সুন্দর মেয়ে এরকম কাজ করতে পারে না । নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসির অনেকেই মন্তব্য করেছেন এটি পরিকল্পিত হত্যা । নাকি খুনিদের বাচাতে সাজানো হয়েছে আতœহত্যার ঘটনা। ঘটনার দিন গত বুধবার ফাতেমার লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য গাইবান্ধা মর্গে প্রেরন করে। গত বৃহস্পতিবার ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করে ও দাফন সম্পন্ন করা হয়। এলাকার আশরাফ,নাসির,নওসাদ বলেন খুন না আতœহত্যা আমরা বলতে পারি না। তবে তার বড় ভাই হামিদুর রহমান বলেন তার শরীরে ক্ষত চিহ্ন রয়েছে। তদন্তকারি কর্র্মকর্তা এসআই অনিমেশ চন্দ্র জানান প্রাথমিক ভাবে আতœহত্যার আলামত পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় সাঘাটা থানায় গত ১৩/১১/২০১৯ইং তারিখে একটি আতœহত্যা প্ররোরচনা ও সহায়তার কারণে ৩০৬ ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলা নং-১০। এ ব্যাপারে সাঘাটার থানার ওসি বেলাল হোসেন জানান,প্রাথমিক ভাবে গলায় ফাসঁ দিয়ে আতœহত্যা তথ্য মিলেছে। তবে পিএম রির্পোট না পাওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাচ্ছে না । আসামিদের গ্রেফতার করার ব্যাপারে তৎপর রয়েছে পুলিশ।

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন তবে আপনি চাইলে অপ্ট-আউট করতে পারেন Accept আরও পড়ুন