সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে : আসামীদের গ্রেফতার, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার,পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা ও তদন্তকারি কর্মকর্তা পরিবর্তনের দাবি

1,606
gb

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ||
আসামীদের গ্রেফতার, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, স্বাক্ষীসহ পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা ও মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা পরিবর্তনের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক সবাদ সম্মেলন করে এসব দাবি জানান সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার যাদবপুর গ্রামের এক অসহায় নারী।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে ওই নারী বলেন, বাবার সংসারে অভাবের কারণে তিনি ও তার কলেজ পড়–য়া ভাই বাড়িতে থেকে টিউশিনি করে সংসার চালান। পার্শ্ববর্তী ফুলবাড়ি গ্রামের শেখ আব্দুল মোমিনের ছেলে আবু বক্কর ছিদ্দিক রাস্তায় যাতায়াতের সময় আমাকে পথিমধ্যে উত্যক্ত করতো। গত ৩ ফেব্রæয়ারি ছিদ্দিকের ব্যবসায়িক পার্টনার সুকুমার মÐল ও গোলাম রসুল তাদের বাড়িতে এসে কথা আছে মর্মে তাকে ডাকিয়া আবু বক্কর ছিদ্দিকের মাছের ঘেরের বাসায় নিয়ে যায়। ছিদ্দিক তার উপর বিশ্বাস জন্মানোর জন্য আলাহ’র নামে কসম খাওয়াসহ তাকে নানা প্রতিশ্রæতি দিয়ে এক হুজুর ডেকে তাদের কাল্পনিক বিয়ে পড়ান। পরে ছিদ্দিক তার সঙ্গে দৈহিক সম্পর্ক স্থাপন করে। পরবর্তীতে ছিদ্দিক তার বাপের বাড়িতে এসে জামাতা পরিচয়ে যাতায়াত ও তার সঙ্গে অবস্থান করতো। একপর্যায়ে তিনি দু’ মাসের অন্তঃস্বত্বা হয়ে পড়লে বিষয়টি ছিদ্দিককে অবহিত করেন। গত ১১ জুন ছিদ্দিক তাকে ভোটার আইডি কার্ডসহ সাতক্ষীরা কোর্টে বিয়ের এফিডেফিড করার কথা বলে ফকির গাজীর মোড় থেকে মোটর সাইকেলে কালিগঞ্জে নিয়ে যায়। সেখান থেকে একটি মাইক্রাবাসে করে খুলনায় নিয়ে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে আটক রাখে। সেখানে পাঁচদিন ধরে ছিদ্দিক, সুকুমার (৩৬) ও গোলাম রসুল (৩৬) তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। গত ১৬ জুন খুলনার রাইসা ক্লিনিকে জোরপূর্বক তার গর্ভপাত ঘটিয়ে ছিদ্দিকের বোন রোজিনার মাধ্যমে চট্টগ্রামে পাঠানো হয়। মারাত্মক অসুস্থ অবস্থায় ২৫ জুন রোজিনা তাকে বাপের বাড়ির কাছে রেখে পালিয়ে যায়। তাকে খুঁজে না পেয়ে ভাই সাব্বির হোসেন শ্যামনগর থানায় গত ১৫ জুন সাধারণ ডায়েরী করে। থানা মামলা না নেওয়ায় গত ২৬ জুলাই তিনি বাদি হয়ে সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ছিদ্দিক, সুকুমার ও গোলাম রসুলের নামে মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে মামলাটি রেকর্ড করে মামলার তদন্তভার শ্যামনগর থানার উপপরিদর্শক লিটন মিঞার উপর ন্যস্ত করা হয়।
নির্যাতিতা ওই নারী অভিযোগ করে বলেন,মামলার সাড়ে তিন মাস পেরিয়ে গেলে পুলিশ কোন আসামীকে ধরেনি। ডাক্তারি সনদে ধর্ষণের সত্যতা থাকলেও পুলিশ আসামীদের কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে বিষয়টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে। ফলে আসামীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়িয়ে নিজেরা ও তাদের ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীদের দিয়ে তাকে ও সাক্ষীদের মামলা তুলে নেওয়া জন্য হুমকি দিচ্ছে। এ ঘটনায় গত ৮ আগষ্ট তিনি আদালতে ১০৭ ধারায় ধর্ষণ মামলার তিন আসামীর বিরুদ্ধে মামলা করি। গত ১৬ অক্টোবর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী(৬৫১নং) করেছেন। পুলিশ আসামীদের না ধরায় ও মামলাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করায় ২৮ আগষ্ট ও ২৫ অক্টোবর সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ করেছেন। এরপরও গত ৭ নভেম্বর দিবাগত গভীর রাতে তাদের বাড়িতে ঢুকে বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে ফেলে ও কয়েকটি বাল্ব ভেঙে ফেলা হয়। তার দায়েরকৃত মামলার আসামীরা এ কাজ করেছে বলে তিনি মনে করেন। এরপরও আসামীরা তার সাক্ষীদের কাছ থেকে এফিডেফিড করে নেওয়ার জন্য তাদের উপর চাপ সৃষ্টি করে চলেছে। মামলা তুলে নিতে চাপসৃষ্টি করার জন্য উপজেলার বাধঘাটার পুলিশের সোর্স রেজাউলকে ব্যবহার করে তার ভাই সাব্বির হোসেনের বিরুদ্ধে একটি অপহরণ ও পাচার মামলা দেওয়া হয়েছে। সাক্ষীরা এফিডেফিড করে না দিলে তাদেরকে সাব্বিরের মত মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
মামলার তদন্তকরি কর্মকর্তার নিষ্ক্রিয়তা, আসামী ও তাদের পক্ষের লোকজনের অব্যহত হুমকির ঘটনায় পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ করে প্রতিকার না পাওয়ায় মিথ্যা মামলার শিকার ভাইকে আত্মগোপন করে থাকতে হচ্ছে। দু’ ভাই বোন টিউশানি না করতে পারায় বাবার চিকিৎসা ব্যহত হচ্ছে।