পাইকগাছায় ফুলে ফুলে ভরে গেছে সজিনা গাছ; বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

108
gb

মোঃ আব্দুল আজিজ, পাইকগাছা, খুলনা  ||
পাইকগাছায় মৌসুমের শুরুতেই ফুলে ফুলে ভরে গেছে সজিনা গাছ। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে লবণ অধ্যুষিত এলাকায় সজিনার ভাল ফলন হবে বলে আশা করছেন সজিনা চাষী ও সংশ্লিষ্ট কৃষি বিভাগ। কৃষি বিভাগের সূত্রমতে, উপজেলায় প্রায় দেড় লাখ সজিনার গাছ রয়েছে। সজিনা পুষ্টি সমৃদ্ধ সবজি যা আমাদের দেশে সর্বত্র পাওয়া যায়। সজিনা সচারাচর আলাদাভাবে চাষ করা হয় না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বাড়তি ফসল হিসাবে পতিত জায়গায় আবাদ করা হয়। বিশেষ করে ওয়াপদার বেড়িবাঁধ, পুকুর, খাল, নদীর ধার ও সড়কের পাশে এবং ক্ষেতের আইলে সজিনার চাষ করা হয়ে থাকে। সজিনা অল্প দিনের ফসল হলেও এটি লাভজনক ও পুষ্টি সমৃদ্ধ একটি সবজি।
সজিনায় সব প্রকারের খাদ্য গুনাগুন রয়েছে। যেমন কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও ভিটামিন। সজিনা গাছকে প্রচলিত বিভিন্ন খাদ্য প্রজাতির মধ্যে সর্বোচ্চ পুষ্টি মান সম্পন্ন উদ্ভিদ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বহুবিধ খাদ্যগুন সম্পন্ন হওয়ায় দক্ষিণ আফ্রিকায় সজিনা গাছকে জাদুর গাছ হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। সজিনার পাশাপাশি সজিনা পাতা পুষ্টি ঘাটতি পূরণে বিশেষ ভূমিকা রাখে। সজিনার পাতার গুড়ার বিশেষ গুনাগুণের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে দুধের চেয়েও বেশি ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম বিদ্যমান। পটাসিয়াম এবং জিংকও বিদ্যমান। শরীরে কোলেষ্টরেল এর মাত্রা ঠিক রাখে। সজিনা মানুষের শরীরে চিনির মাত্রা সমান রাখে এবং ডায়াবেটিসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সাহায্য করে। শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় অ্যামিনো এসিড সজিনাতে পাওয়া যায়। হজমে সাহায্য করে ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। শরীরে পুষ্টি ও শক্তি যোগায়। শরীরের বাড়তি ওজন কমাতে সাহায্য করে। মায়ের বুকের দুধের পরিমান বৃদ্ধি করে। ব্যাকটেরিয়া বিরোধী বৈশিষ্টের কারণে সজিনা বিখ্যাত। সজিনা গুড়ার পেষ্ট ত্বকের জন্য উপকারী। সজিনা লিভার ও কিডনী সুরক্ষিত রাখে।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ এএইচএম জাহাঙ্গীর আলম জানান, উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্যোগে প্রতিবছর সজিনার ডাল রোপন করা হয়। ২০১৮ সালেও উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ৪ হাজার সজিনার ডাল রোপন করা হয়েছে। যার মধ্যে বারোমাসী সজিনাও রয়েছে। পৌরসভা সহ উপজেলার ১০টি ইউনিয়নেই সজিনার চাষ হয়। পুষ্টি গুন দিক থেকে সজিনা অত্যান্ত উপকারী একটি সবজি। সজিনা লবণ সহিষ্ণু একটি ফসল। অন্যান্য সবজির ক্ষেত্রে পরিচর্যার প্রয়োজন হলেও অনেকটাই পরিচর্যা ছাড়ায় সজিনার উৎপাদন সম্ভব। সজিনা অল্প দিনেই খাওয়ার উপযোগী হয় এবং বাজারজাত করা যায়। খেতে সু-স্বাদু ও বাজারে প্রচুর চাহিদা থাকায় সজিনার আবাদ অত্যান্ত লাভ জনক একটি ফসল। মৌসুমের শুরুতেই ফুলে ফুলে ভরে গেছে গাছ এবং কিছু কিছু গাছে সজিনা ধরা শুরু হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আশা করছি বিগত বছরের চেয়ে এ বছর সজিনার ভাল ফলন হবে।

gb
মন্তব্য
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More