ক্যাসিনোতে অভিযানের রাতেই পালিয়েছে নেপালি নাগরিকরা, পুলিশের সহায়তার অভিযোগ

139

বিশেষ প্রতিনিধি জিবি নিউজ ২৪ ||

ক্যাসিনো কাণ্ডে টালমাটাল পুরো দেশ। শুধু রাজনীতিক নেতারাই নন, প্রশ্নের মুখে আইনশৃংখলা বাহিনীও। ক্যাসিনো পরিচালনা করা নেপালিদের পালিয়ে যেতে সহায়তা করার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। নেপালি নাগরিকদের ভাড়া বাসার সিসি ক্যামেরার ফুটেজেও মিলেছে এর সত্যতা। যদিও কর্মকর্তারা বলছেন, কেউ জড়িত থাকলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।          

সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, ১৮ সেপ্টেম্বর বুধবার রাত, যখন অবৈধ ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে অভিযান চলছে রাজধানীর ফকিরেরপুল ইয়ংমেন্স, ওয়ান্ডারার্স আর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়াচক্রে, ঠিক সে সময় রাজধানীর একটি বাসা থেকে বের হচ্ছেন তিন ব্যক্তি। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে খেয়াল করলে দেখা মিলবে একটি ব্যাগেরও।

অভিযানের প্রায় দুই ঘন্টা পর, রাত দেড়টার কিছু পরে লিফট বন্ধ থাকায় সিড়ি দিয়ে নামে কয়েকজন যুবক। নিজেদের ব্যাগ-বোচকা গুছিয়ে তাড়াগুড়ো করে বেরিয়ে যায় তারা। সবার মনেই আতংক আর ভয়ের ছাপ। হিসাব মিলিয়ে দেখলে, একে একে ১৫ জন ব্যক্তি বের হয়েছেন বাসাটি থেকে।

সিসি ক্যামেরার ফুটেজটি সেগুন বাগিচার ৬/সি বাড়ির। গত কয়েকমাস ধরে এ ভবনের ছয় তলায় থাকতেন নেপালি নাগরিকরা। ঢাকার ক্যাসিনো পরিচালনার জন্য ১৯ জন নাগরিকের যে তথ্য পেয়েছে আইনশৃংখরা বাহিনী। তার মধ্যে ১৫ জন বুধবার রাতে পালিয়েছেন এখান থেকে। কি হয়েছিলো সেই রাতে?

নিরাপত্তাকর্মী উজ্জল বলেন, তাদের আমি জিজ্ঞাসা করি, আপনারা কে? তখন তারা বলে, আমি গেস্ট। পুলিশের লোক। তারপর আমি তাদের পাঁচ তলায় নিয়ে গেছি। তারা আমাদের দরজার বাহিরে রেখে তিনিজন ভিতরে ঢুকছে। একঘন্টা পর আবার গেলাম। জিজ্ঞাসা করলাম, ভাই এত দেরি কেন? পরে চলে আসে। বাসায় তারা পাচজন থাকত। নামার পর ৮-১০ জন হইছে।

অনুসন্ধান থেকে জানা যায়, ২০১৫ সাল থেকে ঢাকার বিভিন্ন ক্লাবে ক্যাসিনো চালানোয় নেতৃত্ব দেন রাজকুমার, দিনেশ শর্মা ও সুরেশ নামের তিন নেপালি। পরে তাদের সাথে যোগ দেন ছোট রাজকুমার, বিনোদ, দিনেশ কুমারসহ আরো ১২ থেকে ১৫ জন। এরাই পালিয়ে গেছেন ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরুর রাতে। যদিও পুলিশ বলছে, কেউ জড়িত থাকলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।                                                              রমনা বিভাগেরএডিসি আজিমুল হক বলেন, সিসিটিভির ফুটেজে যদি দেখি, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন জড়িত আছে, তাহলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বুধবার থেকে রাজধানীতে শুরু হওয়া অবৈধ ক্যাসিনো ও জুয়া বিরোধী অভিযানে এরই মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আটক করা হয়েছে অন্তত আড়াইশো জনকে। বহিস্কৃত যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভুইয়া ও কলাবাগান ক্লাবের সভাপতি শফিকুল আলম ফিরোজকে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন তবে আপনি চাইলে অপ্ট-আউট করতে পারেন Accept আরও পড়ুন