যুবলীগ চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবি

182
gb

মো:নাসির, বিশেষ প্রতিনিধি জিবি নিউজ ২৪

বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক হারুনর রশীদের পদত্যাগের দাবি করেছেন মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। শনিবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন এই দাবি করেন মঞ্চের আহ্বায়ক অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দিন।    লিখিত বক্তব্যে জামাল উদ্দিন বলেন, সংগঠনের দায়িত্বশীল জায়গায় থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হওয়ায় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ তাদের পদত্যাগের দাবি করছে। তাই আপনারা দ্রুত পদত্যাগ করে যুবলীগের ভাবমূর্তি রক্ষা করুন। পদত্যাগ না করলে অনতিবিলম্বে এই দাবিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে স্মারকলিপি দেয়ার ঘোষণা দেন তিনি।ওমর ফারুক চৌধুরী গণমাধ্যমে দেয়া বক্তব্যকে ‘ঔদ্ধত্যপূর্ণ’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, যুবলীগের চেয়ারম্যান এ ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে রাষ্ট্রকে হুমকি দিয়েছেন। যা দেশের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার জন্য হুমকি স্বরুপ। অধ্যাপক জামাল বলেন, কারো ব্যক্তিগত অপকর্ম-অনিয়ম-দুর্নীতির দায়ভার দেশরত্ন শেখ হাসিনা নিবেন না। যুবলীগে অনুপ্রবেশকারী হাইব্রিড নেতারা দলের নাম ভাঙিয়ে অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর খোলস পাল্টিয়ে বিএনপি নেতা থেকে যুবলীগ নেতা বনে যাওয়া জি কে শামীমরা একের পর এক টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, হত্যা ইত্যাদি করে দেশরত্ন শেখ হাসিনার সকল উন্নয়নমূলক কাজগুলোকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। পুরো ঢাকা শহরে অবৈধভাবে ক্যাসিনো ব্যবসা, মাদক ব্যবসা, টেন্ডারবাজি, কমিটি বাণিজ্য করে যুব সমাজকে ধ্বংস করার চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে। এরা কখনোই বঙ্গবন্ধুর আদর্শ এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার চর্চা করে না।আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের অঙ্গ সংগঠন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্রের অফিসকে অবৈধভাবে দখল করে জুয়ার আসর বসিয়ে বিভিন্ন অপকর্মের মাধ্যমে দলীয় আদর্শ এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সাথে বেঈমানি করা হয়েছে। সম্প্রতি সরকারের নির্দেশে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান চলমান। আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাই, এরকম অভিযান যেনো নিয়মিত অব্যাহত থাকে। দুর্নীতি-অনিয়ম সমাজ থেকে নির্মূল করতে হবে।     তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতারকৃত যুবলীগ নেতারা যুবলীগের নাম ভাঙিয়ে এসব অপকর্ম দীর্ঘদিন ধরে করে আসছে। কিন্তু যুবলীগ চেয়ারম্যান তাদের বিরুদ্ধ কোন ব্যবস্থা নেননি। বিএনপি থেকে আসা নেতা জি কে শামীম, খালেদ ভূঁইয়াকে যুবলীগে জায়গা দিয়েছেন, বড় পদে বসিয়েছেন। বিভিন্ন দলীয় কর্মসূচি একসাথে পালন করেছেন। কিন্তু জি কে শামীমদের মতো অপরাধীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেননি। সুসময়ে জি কে শামীম-খালেদ ভূঁইয়াদের সাথে নিয়ে চললেন কিন্তু গ্রেফতারের পর আর তাদের চিনতে পারেন না। সমাজবিজ্ঞান বিভাগের এই অধ্যাপক বলেন, ২০১২ সালে যুবলীগের কমিটি হয়েছে। কমিটি অনেক বছর আগেই মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে। কেন্দ্রীয় সম্মেলন না করার কারণ কি? নিয়মিত নেতৃত্বের পরিবর্তন না হওয়ার কারণে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে যুবলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে। কেন্দ্র থেকে কেনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি? ব্যর্থতার দায়ভার নিয়ে অবিলম্বে যুবলীগের দায়িত্ব থেকে তাদের পদত্যাগ করতে হবে।                                            সংবাদ সম্মেলন থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এবং গোপালগঞ্চের বঙ্গমাতা শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল, সাধারণ সম্পাদক মো. আল মামুন প্রমুখ।

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন তবে আপনি চাইলে অপ্ট-আউট করতে পারেন Accept আরও পড়ুন