ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ৫০ হাজার ছুঁই ছুঁই

44
gb

জিবি নিউজ ডেস্ক।।

মহামারী রূপ ধারণ করেছে ডেঙ্গু বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৪৯ হাজার নয়শ৯৯ জন রোগী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন বাংলাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে এসব রোগীর চিকিৎসা হয়েছে সরকারি হিসেবে পর্যন্ত নারী, শিশু, যুবক, বৃদ্ধসহ ৪০ জন মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে এই ডেঙ্গু যদিও বেসরকারি হিসেবে সংখ্যা একশছাড়িয়ে গেছে রোগমুক্ত হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৪২২৪৩ জন যা মোট রোগীর শতকরা ৮৪% হাসপাতালে এখন পর্যন্ত চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৭৭১৬ জন মোট ৪০টি হাসপাতাল নিয়ে জরিপ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এরমধ্যে সরকারি স্বায়ত্তশাসিত ১০টি বাকি ৩০টি বেসরকারি হাসপাতাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীনে হেলথ ইমার্জেন্স অপারেশন সেন্টার কন্ট্রোল রুমের রিপোর্ট থেকে তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে

সংস্থাটির বরাতে আরও জানা যায়, শুধুমাত্র গতকাল শুক্রবারই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ১৭১৯ জন রোগী। এরমধ্যে ঢাকায় ৭৫৯ জন ও ঢাকার বাইরে ৯৬০ জন রোগী রয়েছেন। এছাড়া বিগত এক সপ্তাহে সারাদেশের বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে ছাড়প্রাপ্ত রোগীর হার ৮৪ ভাগ।                                                     হেলথ ইমার্জেন্স অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের রিপোর্ট থেকে আরও জানা যায়, চলতি আগস্ট মাসে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ১০ জন রোগী। এর একমাস আগে মারা যান ২৪ জন রোগী। যা এখন পর্যন্ত একমাসের জরিপে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। জুন মাসে ৪ জন ও এপ্রিলে মারা যান ২ জন। তথ্যমতে, মে মাসে কোনো রোগী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেননি।

গত এক সপ্তাহের হিসেবে ১১ আগস্ট সর্বোচ্চ (ঈদের একদিন আগে) ঢাকা ও ঢাকার বাইরে মোট ২৩৩৪ জন রোগী ভর্তি হন। পুরো সপ্তাহের হিসেবে রোগী ভর্তিতে সর্বোচ্চ। এর একদিন আগে ১০ আগস্ট ভর্তি হন ২১৭৬ জন। ঈদের দিন ১২ আগস্ট ভর্তি হন ২০৯৩ জন। এরপর ১৩ আগস্ট ১২০০ জন, ১৪ আগস্ট ১৮৮০ জন, ১৫ আগস্ট ১৯২৯ জন ও গতকাল ১৬ আগস্ট ১৭১৯ জন ভর্তি হন বিভিন্ন হাসপাতালে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে ২২৯ জন ভর্তি হয়েছেন। ময়মনসিংহ বিভাগে ৬৪ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৯২ জন, খুলনা বিভাগে ১৫১ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৩২ জন, রংপুরে ৭২ জন, বরিশালে ১০৫ জন ও সিলেট বিভাগে ১৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এরমধ্যে ঢাকা বিভাগে মৃত্যু ঘটেছে একজনের।তবে গত এক সপ্তাহের জরিপে ছাড়পত্রপ্রাপ্ত রোগীর হার ক্রমেই বাড়ছে। ১০ আগস্ট থেকে গতকাল পর্যন্ত বেড়েছে এই হার। ১০ তারিখে এই হার ছিল ৭৬%। তারপরের দিন তা দাঁড়ায় ৭৯%। ১২ আগস্ট (ঈদের দিন) থেকে এখন পর্যন্ত ৮১%, ৮৩%, ৮৩%, ৮৪% ও সবশেষ গতকালও ছিল ৮৪%।

সারাদেশের মোট রোগীর বেশিরভাগই ঢাকা মহানগরীতে। এই নগরীতে বর্তমানে ভর্তিকৃত রোগীর সংখ্যা ৪০১৫ জন। ঢাকার বাইরে ভর্তিকৃত রোগীর সংখ্যা ৩৭০১ জন। গত ২৪ ঘন্টায় ঢাকায় নতুন ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৭৫৯ জন। একই সময়ে ঢাকার বাইরে নতুন ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৯৬০ জন।

১৪ থেকে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত তিনদিনে ঢাকা মহানগরীর ৪০টি হাসপাতালে দোদুল্যমান অবস্থায় রয়েছে রোগী ভর্তির সংখ্যা। ১৪ তারিখে ৪১৪৩ জন রোগী ভর্তি হন ঢাকা মহানগরীতে। পরদিন আরও ২৩৩ জন (৩৯১০ জন) রোগী কম ভর্তি হলেও গতকাল ১০৫ জন বেড়ে দাঁড়িযেছে ৪০১৫ জনে। ঢাকার বাইরের চিত্রও একই ধরনের। ১৪ তারিখে ৩৭২৬ জন রোগী ভর্তি জন। পরদিন ভর্তি হন ৩৬৬০ জন। অর্থাৎ ৬৬ জন কমে যায়। কিন্তু গতকালই আবার ৪১ জন বেড়ে রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৭০১ জনে।

বিগত তিনদিনে ছাড়প্রাপ্ত রোগীর সংখ্যায়ও একই হাল। ঢাকা মহানগরীতে ১৪ তারিখে ৭৫৫ জন রোগী ভর্তিও বিপরীতে ছাড় পেয়েছেন ৭২৭ জন। পরদিন ৮১১ নতুন রোগী ভর্তির বিপরীতে ছাড়প্রাপ্ত হয়েছেন ১০৪৪ জন। গতকাল ভর্তি হয়েছেন ৭৫৯ জন। তার বিপরীতে ছাড়প্রাপ্ত হয়েছেন ৬৫৪ জন রোগী। ঢাকার বাইরে ১৪ তারিখে নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন ১১২৫ জন। ছাড় পেয়েছেন ৮৩১ জন। পরদিন ১১১৮ জন ভর্তির বিপরীতে ছাড়প্রাপ্ত হয়েছেন ১১৮৪ জন। কিন্তু গতকাল ৯৬০ জন রোগী ভর্তি হলেও ছাড়া পেয়েছেন ৯১৯ জন।

পাবনা : পাবনায় ঈদের পর আবার ডেঙ্গু রোগী বাড়ছে। গত ২৪ ঘন্টায় পাবনা জেনারেল হাসপাতালে আরও ১০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে ৬০ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। পাবনার সিভিল সার্জন, মেহেদী ইকবাল গতকাল শুক্রবার বিকাল ৫টায় এই তথ্য জানান।

অপরদিকে, ডেঙ্গু মশা এডিস নিধনে তোড়জোড় নজরে পড়ছে না। ওষুধ নেই মশক নিধনের । এখনও টেনিফস আসে পৌঁছেনি। অপর দিকে. জেলা সিভিল সার্জন দপ্তর বিকল্প তবে ডেঙ্গু মশা নিধনে কার্যকরি কেমিফিষ ওষুধও সংগ্রহ করতে পারেনি।

সিভিল সার্জন বলেছেন, চেষ্টা করা হচ্ছে, কতটা সফল হবো তা এখনও বুঝতে পারছি না। একজন চিকিৎসক হিসেবে মনে করি , রাজধানীহ ডেঙ্গু আক্রান্ত জেলায় দ্রুত মশক নিধন সর্বশক্তি নিয়োগ করতে হবে।

চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) : কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে জহিরুল আলম ভুঁইয়া বাবু (২২) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বাদ আসর নামাজে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়। নিহত বাবু উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের সাস্তানগর গ্রামের ভুঁইয়া বাড়ির মরহুম শাহ আলম ভুঁইয়ার ছোট ছেলে। মাত্র এগার দিন আগে তার বাবা লিভার সিরোসিস রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

নিহত বাবুর দাদা মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান ভুঁইয়া, জেঠা পেয়ার আহমদ ভুঁইয়া ও চাচা আবদুল কাদের জানান, লিভার সিসোসিস রোগে আক্রান্ত হওয়ায় শাহ আলম ভুঁইয়াকে (৬০) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রায় বিশ দিন চিকিৎসা দেয়া হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শাহ আলম ভুঁইয়ার সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নেয় ছোট ছেলে জহিরুল আলম ভুঁইয়া বাবু। এদিকে স্বামীর মৃত্যুর এগার দিন পর ছেলের মৃত্যুতে বার বার মুর্ছা যাচ্ছেন ছরুরা বেগম। একইভাবে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন বাবুর ভাই মিলন, রাজিব, সজিব, বোন টুম্পা ও রুপা।

gb
মন্তব্য
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More