আজ ১৪ জুন সেই ভয়াবহ মাগুরছড়া ট্রাজেডি দিবস।।দীর্ঘ ২২ বছরে মিলেনি ক্ষতিপূরণ

304

সোলেমান আহমেদ মানিক।।জিবি নিউজ।।

দীর্ঘ ২২ বছর ধরেই প্রতি বছর ফিরে আসছে এই দিনটি। যার কথা মনে হলে এখনো আৎকে উঠেন কমলগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল ও মোলভীবাজারবাসী।

আজ আবার ফিরে এসেছে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জবাসীর ভয়াল স্মৃতির দিন মাগুরছড়া ট্রাজেডি দিবস। প্রতি বছরের মতো এবারও বিভিন্ন সংগঠন দিবসটি উপলক্ষে এবং ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধনের আয়োজন করেছে।

এই ১৪ জুন আসলেই মৌলভীবাজা, শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জবাসীকে মনে করিয়ে দেয় সেই ভয়াবহ স্মৃতির কথা। সেদিন মানুষের মন কতটা ভীত সন্ত্রস্ত ছিল যা এখন কল্পনাতীত।

১৯৯৭ সালের ১৪ জুন মধ্যরাত আনুমানিক ১টা ৪৫ মিনিটের দিকে হঠাৎ করেই মাগুরছড়া গ্যাসকূপে বিস্ফোরণের প্রচন্ড শব্দে কেঁপে ওঠে ছিল গোটা কমলগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল ও মৌলভীবাজারবাসী।

আগুনের লেলিহান শিখায় লাল হয়ে উঠেছিল মৌলভীবাজার জেলার সুনীল আকাশ। ভীত-সন্ত্রস্ত মানুষজন ঘরের মালামাল রেখে প্রাণভয়ে ছুটছিল দিগ্বিদিক। প্রায় ৫০০ ফুট উচ্চতায় লাফিয়ে উঠা আগুনের লেলিহান শিখায় লন্ডভন্ড করে দিয়েছিল বিস্তীর্ণ এলাকা। আগুনের শিখায় গ্যাসফিল্ড সংলগ্ন লাউয়াছড়া রিজার্ভ ফরেষ্ট, মাগুরছড়া খাসিয়াপুঞ্জি, জীববৈচিত্র্য, বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন, ফুলবাড়ী চা বাগান, সিলেট-ঢাকা ও সিলেট- চট্টগ্রাম রেলপথ এবং কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল সড়কে ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। পুড়ে ছাড় খর
হয়ে যায় বিশাল বৃক্ষরাজিসহ রেল ও সড়ক পথ।

পরিবেশ সংরক্ষণবাদীদের তথ্য মতে, এই অগ্নিকাণ্ডে ৬৩ প্রজাতির পশু-পাখির বিনাশ সাধন হয়। সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের রেলযোগাযোগ ১৬৩ দিন বন্ধ থাকে। সেই সময় মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ধরা হয়েছিল ১৫ হাজার কোটি টাকা। মার্কিন কোম্পানি অক্সিডেন্টাল ক্ষয়ক্ষতির আংশিক পরিশোধ করলেও বন বিভাগ এর কোন ক্ষতিপূরণ পায়নি।

বিভিন্ন সংগঠন মাগুরছড়া দুর্ঘটনার যথাযথ ক্ষতিপূরণ আদায়ের দাবিতে প্রতি বছরই ১৪ জুন আন্দোলন পরিচালনা করে আসছে। কিন্তু ২২ বছরেও ক্ষতিগ্রস্তদের দাবিকৃত ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিষয়টি এখনো অমীমাংসিতই রয়ে গেছে।
গ্যাসকূপ বিস্ফোরণের পরিত্যক্ত এলাকার উত্তর টিলায় সবুজায়ন করা হয়েছে। মূল কূপটি এখনো পুকুরের মতো ধারণ করে টিকে আছে। চারদিকে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করা হয়েছে। টিলার ওপর সবুজ বনায়নের উদ্যোগ নিলেও মাঝে মধ্যে আগুনের পোড়া ডালপালাবিহীন কালো রঙের গাছগুলো আজও সেই অগ্নিকান্ডের সাক্ষী হয়ে এখনো দাঁড়িয়ে আছে।

দীর্ঘ ২২ টি বছর পার হয়ে গেছে আজও, সঠিক ক্ষতিপূরণ পায়নি? আদৌ কি এই ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে? নাকি এই সভা, সমাবেশে আর মানববন্ধনেই এর যবনিকাপাত ঘটবে? এটাই প্রশ্ন সকলের।