১৩ বছর বয়সে গ্রেফতার হওয়া সেই বিদ্রোহী কিশোরের শিরশ্ছেদ চায় সৌদি

193

১৮ বছর বয়সী এক কিশোরের মৃতুদণ্ড কার্যকর করতে চায় সৌদি সরকার।

রাষ্ট্রদ্রোহীতার অপরাধে তার ঘাড়ের ওপর শিরচ্ছেদের খড়গ ঝুলছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

মুর্তজা কুরেইরিস নামের এই কিশোরকে বর্তমানে সৌদি কারাগারে রাজনৈতিক বন্দী হিসাবে রাখা হয়েছে।

তার ফাঁসি কার্যকর হলে সৌদি আরবের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী কারও মৃতুদণ্ড দেয়া হবে।

মুর্তজা কুরেইরিসের বিরুদ্ধে সৌদি সরকারের অভিযোগ, ২০১১ সালে আরব বসন্ত চলাকালীন সৌদিতে গণতন্ত্রের দাবিতে ৩০ জন বন্ধু-বান্ধবদের জড়ো করে গণবিক্ষোভে নেমেছিল মুর্তজা। এক সাইকেল রাইডে অংশ নিয়ে সৌদি সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছিল তারা। সে সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১০ বছর।

এছাড়াও তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, মুর্তাজার ভাই আলী কুরেইরিস মোটরসাইকেলেযোগে সৌদির পূর্বাঞ্চলীয় শহর আওয়ামিয়ার এক থানায় পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করেন। সে সময় তার সঙ্গে মুর্তাজাও ছিল।

এ ঘটনার ৩ বছর পর মুর্তাজাকে বাহরাইন সীমান্তে গ্রেফতার করে সৌদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

সেদিন পরিবারের সঙ্গে সৌদি ছেড়ে প্রতিবেশী দেশ বাহরাইনে পালিয়ে যাচ্ছিল মুর্তজা।

সিএনএনের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে প্রকাশ, গ্রেফতারের সময় মুর্তজার বয়স ১৩ বছর ছিল। সৌদি রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল সে। রাজদ্রোহীতার অভিযোগে গ্রেফতার হলেও বয়স কম হওয়ার কারণে মুর্তজাকে মৃতুদণ্ড দেয়নি সৌদি আদালত। যে কারণে চার বছর ‘বিচার-পূর্ব কারাভোগ’করানো হয় তাকে।বর্তমানে তার বয়স ১৮। এখন তার মৃতুদণ্ড কার্যকর করতে চায় সৌদি সরকার।

সিএনএন আরও জানায়, মুর্তাজার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত অভিযোগপত্র অনুসারে ওই বোমা নিক্ষেপের অপরাধ সংঘঠিত করার সময় তার বয়স ছিল ১০ বছর।

মুর্তাজার এখন সন্ত্রাস আদালতে বিচার চলছে। ১৮ বছর বয়সে পদার্পণের কয়েক মাস আগে তার মৃত্যুদণ্ড চেয়ে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।

আদালতে বারবার তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হচ্ছে, মুর্তজা উগ্রবাদী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে জড়িত। তবে মুর্তাজার বিরুদ্ধে কোনো প্রাণহানির দায় এনে অভিযোগ জমা দিতে পারেনি তারা।

তবু সৌদির রাজতন্ত্রের বিলুপ্তি চেয়ে গনতন্ত্রের দাবিতে মুর্তজা কুরেইরিসের সেই বিক্ষোভকে সামনে রেখে শরিয়া আইন অনুযায়ী তার সর্বোচ্চ সাজা চাইছে রাষ্ট্রপক্ষ।

সে হিসাবে শিরচ্ছেদই হতে পারে এই কিশোরের।