Bangla Newspaper

চাল ব্যবসায়ীদের লাইসেন্স একটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত

0 161

অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান : উপাচার্য, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ||
চালের আমদানিকারক, মজুদদার, আড়ৎদার, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের বাধ্যতামুলক ভাবে লাইসেন্স করানোর সিদ্ধান্ত একটি আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত বলে আখ্যায়িত করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান।
গত রোববার (৮ অক্টবর) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের সাথে এক সৌজন্য স্বাক্ষাৎকারের সময় এসব কথা বলেন এই বিপণনতাত্বিক।

তিনি বলেন, গম বা চালের দাম নিয়ন্তণ করতে খাদ্যমন্ত্রী যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা একটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। এমন নির্দেশের ফলে ব্যবসায়ীদের উপর আরো একটি অতিরিক্ত চাপ তৈরী হবে। আর শুরু হবে লাইসেন্সবাজী। এর ফলে অনেক ব্যবসায়ীকেই ঘুষ দিয়ে লাইসেন্স করতে হবে। এর এই টাকা পুষিয়ে নিতে চালের দাম কমানোর চেয়ে বাড়াতে ব্যাস্ত থাকবেন তারা। ১৯৫৬ সালের কন্ট্রোল অব কমোডেটিস অ্যাক্ট অনুযায়ী খাদ্য অধিদফতর থেকে লাইসেন্স নিতে গেলে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ ফি দিতে হবে। অন্যদিকে লাইসেন্স নিতে গেলে নানাভাবে হয়রানিও হতে হবে ব্যবসায়ীদের। এর ফলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

চালের দাম নিয়ন্ত্রণ করতে উপাচার্য বলেন, আমি আজ থেকে দুই বছর আগে খাদ্যমন্ত্রীকে বলেছিলাম, এসব না করে আপনি প্রতিটি খাদ্য গুদামে পরিদর্শণ করেন। ঠিক ভাবে খোঁজ খবর নেন। আপনি দেখেন আমাদের চাহিদা অনুযায়ী ১০ লক্ষ মেট্রিক টন খাদ্য মজুদ আছে কি না। কিন্তু এ খবর নিজে না নিয়ে, স্বশরীরে না দেখে সরকারী দুর্ণিতিবাজ আমলাদের দিয়ে খবর নিলে হবে না। আর এটাই তো একজন খাদ্য মন্ত্রীর আসল কাজ। খাদ্যমন্ত্রী নিজে দেখে যখন বলবেন আমাদের খাদ্য ঘাটতি নেই তখন আর চাল ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ানোর সাহস করবে না।

প্রসঙ্গত গত সোমবার (২ অক্টোবর) চালের আমদানিকারক, মজুদদার, আড়ৎদার, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের খাদ্য অধিদফতর থেকে আগামী ৩০ অক্টোবরের মধ্যে লাইসেন্স নেওয়ার নির্দেশ দেন খাদ্যমন্ত্রী। এছাড়া ১৫ দিন পরপর চাল ব্যবসায়ীদের গুদামে মজুদ রাখা চাল ও গমের হিসাব স্থানীয় খাদ্য দফতরকে জানানোরও নির্দেশ দেন তিনি।

এদিকে জানা যায়, চাল বিক্রির লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করে খাদ্য অধিদফতর থেকে দেওয়া নির্দেশে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দেশের চাল ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, এ নির্দেশ চালের বাজারকে আরও অস্থির করে তুলতে পারে। এই নির্দেশের মাধ্যমে মূলত খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতা ব্যবসায়ীদের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ফলে চাল আমদানিতে আরও জটিলতা ও খরচ বাড়বে। তবে, সরকারের এই নির্দেশকে ভালো সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন চালকল মালিকরা। তারা বলছেন, সরকারের এই নির্দেশ বাস্তবায়িত হলে চাল-গমের মজুদের স্থান ও প্রকৃত পরিমাণ জানা যাবে।

Comments
Loading...