যুক্তরাজ্যের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়ল এ বছরের, ২০২৭-এ ধীরগতি

চলতি বছর যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি আগের ধারণার চেয়ে বেশি বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হবে ১ দশমিক ৩ শতাংশ।

তবে জ্বালানির দাম ও সুদের হার বাড়ায় ২০২৭ সালে প্রবৃদ্ধি কমে ১ দশমিক ২ শতাংশে নেমে আসতে পারে।

 

বিবিসি জানায়, আইএমএফের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এর আগে গত জুলাইয়ে সংস্থাটি বলেছিল, ২০২৬ সালে যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হবে ১ শতাংশ।


 

যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়েছে।

তবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থনীতি আগের ধারণার চেয়ে ভালোভাবে এই ধাক্কা সামাল দিয়েছে বলে জানিয়েছে আইএমএফ। যদিও এই সংঘাতের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে।

 

যুক্তরাজ্যের অর্থমন্ত্রী জন হিলি বলেছেন, আগামী বাজেটে পরিবারগুলোর আর্থিক চাপ কিছুটা কমানোর চেষ্টা করবে সরকার। আগামী ২৮ অক্টোবর সরকারের কর ও ব্যয় পরিকল্পনা ঘোষণা করা হবে।

 

এদিকে যুক্তরাজ্য সরকারের ঋণ নেওয়ার খরচ বেড়ে যাওয়ায় অর্থমন্ত্রীর ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে, তাদের আর্থিক পরিকল্পনা বিনিয়োগকারী ও আর্থিক বাজারের কাছে বিশ্বাসযোগ্য। কারণ, সরকারি খরচ মেটাতে ঋণের জন্য এসব বাজারের ওপর নির্ভর করে যুক্তরাজ্য।


 

তবে আইএমএফের পূর্বাভাস বলছে, আগামী পাঁচ বছরে যুক্তরাজ্যের বার্ষিক ঋণ নেওয়ার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে। ২০৩১ সালের মধ্যে জি৭-ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্যের বাজেট ঘাটতিও সবচেয়ে কম হতে পারে।

 

সরকারের আয় থেকে ব্যয় বেশি হলে যে ঘাটতি তৈরি হয়, তাকে বাজেট ঘাটতি বলা হয়। আইএমএফের এই পূর্বাভাস থেকে ধারণা করা হচ্ছে, আগামী বছরগুলোতে যুক্তরাজ্য সরকার ব্যয় কমানোর পথে এগোবে। এর আগে আইএমএফের প্রধান বিশ্বের উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোকে ঋণ নেওয়া কমানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন।

আইএমএফের হিসাবে, ২০২৭ সালে যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে ১ দশমিক ২ শতাংশ হতে পারে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি সুদের হার বেড়ে যাওয়াকে এর প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এতে পরিবারগুলোর খরচ করার ক্ষমতা কমতে পারে। একই সঙ্গে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোও বিনিয়োগ কমিয়ে দিতে পারে। সাধারণত অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি বাড়লে ব্যবসায় বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ে। এতে মানুষের আয় ও জীবনযাত্রার মান উন্নত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। অন্যদিকে, প্রবৃদ্ধি কমলে এর উল্টো প্রভাব পড়তে পারে।


 

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধ শুরুর পর বিভিন্ন দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে পূর্বাভাস কমানো হয়েছিল। পরে পরিস্থিতি বিবেচনায় কিছু পূর্বাভাস আবার বাড়ানো হয়েছে। আইএমএফের হিসাবে, জি৭-ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্য ও জার্মানির অর্থনীতি দ্বিতীয় দ্রুততম হারে বাড়তে পারে।

হিলি বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের যুদ্ধ যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের ওপর প্রভাব ফেলছে। তবে তার দাবি, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির মধ্যেও যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি ভালোভাবে ধাক্কা সামাল দিচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের ধারণা, প্রথম বাজেটে সরকারি ব্যয় কমানো এড়াতে এবং প্রতিরক্ষা খাতে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হিলিকে ৩ হাজার ৫০০ কোটি পাউন্ডের সংস্থান করতে হতে পারে।

মঙ্গলবার গবেষণাপ্রতিষ্ঠান রেজল্যুশন ফাউন্ডেশন অর্থমন্ত্রীর প্রতি সরকারি অর্থব্যবস্থা ঠিক রাখার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে ঘর গরম রাখার খরচ মেটাতে সমস্যায় থাকা পরিবারগুলোর জন্য বিশেষ সহায়তা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। রেজল্যুশন ফাউন্ডেশন বলেছে, ঋণ কমানোর চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি জীবনযাত্রার বাড়তি খরচ সামলাতে পরিবারগুলোকে সহায়তা দিতে হবে। কারণ, সামনে শীতকালে অনেক পরিবারকে আর্থিক চাপের মুখে পড়তে হতে পারে।


 

অন্যদিকে, বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টির ছায়া অর্থমন্ত্রী অ্যান্ড্রু গ্রিফিথ সতর্ক করে বলেছেন, হিলি বাজেটে কর বাড়ালে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এর চাপ কর্মজীবী মানুষের ওপর পড়বে বলে মন্তব্য করেন তিনি। বার্নহ্যাম প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ও স্থানীয় সরকারকে আরো বেশি ক্ষমতা দিয়ে সব এলাকায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানো হবে। তবে তার এই পরিকল্পনা নিয়ে নিজের দলের মধ্যেও সমালোচনা রয়েছে।

আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে যুক্তরাজ্যে মূল্যস্ফীতির গড় হার হতে পারে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। ২০২৭ সালে তা কমে ২ দশমিক ৮ শতাংশে দাঁড়াতে পারে। তবে দুই বছরেই মূল্যস্ফীতি থাকবে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের নির্ধারিত ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার ওপরে।

ব্যাংক অব ইংল্যান্ডও পূর্বাভাস দিয়েছে, আগামী বছরের শুরুতে মূল্যস্ফীতি ৪ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে। এতে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। সুদের হার বাড়লে পরিবারগুলোর ঋণের খরচ বাড়বে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্যও ঋণ নিয়ে বিনিয়োগ করা কঠিন হতে পারে।


 

মঙ্গলবার থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে আইএমএফের বার্ষিক সভায় বিভিন্ন দেশের অর্থমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে হিলির। মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের সংঘাতের কারণে অর্থনীতিতে যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা কীভাবে কমানো যায়, বৈঠকে সে বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা।

আইএমএফ বলেছে, বড় ধরনের ধাক্কা সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে বিশ্ব অর্থনীতি উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা দেখিয়েছে। করোনাভাইরাস মহামারি, ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাবের মধ্যেও বিশ্ব অর্থনীতি এই সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছে। তবে বর্তমান সংঘাতের কারণে ভবিষ্যতে অর্থনীতিতে কী ধরনের প্রভাব পড়বে, তা এখনো অনিশ্চিত।

জিবি নিউজ24ডেস্ক//

gbn

মন্তব্যসমূহ (০)


ব্রেকিং নিউজ

লগইন করুন


Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password


মন্তব্য করতে নিবন্ধন করুন