গোল করার পর উদযাপন করবেন, এটাই স্বাভাবিক। অনেক সময় সেই উদযাপন বুনোও হতে পারে।
সর্বশেষ ম্যাচে ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে গোল করার পর তেমনি বাঁধভাঙা উদযাপন করেছিলেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। উচ্ছ্বাসের মাত্রা আরো বেড়ে যায় যখন রিয়াল মাদ্রিদের কোচ জোসে মরিনহো শিষ্যেদের সঙ্গে যোগ দেন।
কিন্তু মুহূর্তেই সেই আনন্দ বিষাদে রূপ নেয়। জুড বেলিংহামের পাসে গোল করার আগে আক্রমণ বিল্ড আপের সময় প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়ের চুল টেনে ধরেন ভিনিসিয়ুস।
ভিএআরের সহায়তায় গোল তো বাদ হয়েছে শাস্তি হিসেবে ব্রাজিলিয়ান তারকাকে লাল কার্ড দিয়েছেন রেফারি ইসিদ্রো দিয়াস দে মেরা।
ভিনিসিয়ুসের লাল কার্ড দেখা নিয়েই এখন সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। একই অপরাধ করে একজন লাল কার্ড এবং অপরজন হলুদ কার্ড দেখবেন তা নিয়ে রেফারি সমালোচনা হচ্ছে। স্প্যানিশ সংবাদ মাধ্যম মার্কাও এমন সিদ্ধান্তের প্রশ্ন তুলেছে।
চলুন বিস্তারিত জানা যাক। এখন থেকে ১৮ মাস আগে একই রকম এক ঘটনা ঘটেছিল মায়োর্কা-লেগানেসের ম্যাচে। সেদিন ছিল ২০২৫ সালের ১৯ এপ্রিল। লা লিগার গোলশূন্য ড্রয়ের ম্যাচে ক্লেমঁ নেউয়ের চুল টেনে ধরেছিলেন মায়োর্কার মিডফিল্ডার দানি রদ্রিগেস। ঘটনাটি চোখ এড়ায়নি রেফারি আলেহান্দ্রো মুনিজ রুইজের।
তবে লাল কার্ড নয়, রদ্রিগেসকে হলুদ কার্ড দেখান তিনি।
গত ১০ অক্টোবর রিয়াল মাদ্রিদ-ভিয়ারিয়াল ম্যাচেও একই ঘটনা ঘটে। এবার নাথান সালিবার চুল টেনে ধরেন ভিনিসিয়ুস। ভিনিসিয়ুস গোল করার আগে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের চুল টেনে ধরেন। পরে ভিএআরের মাধ্যমে রেফারি ইসিদ্রো দিয়াস গোল বাতিল তো করেছেন, সরাসরি ভিনিকে লাল কার্ড দেখিয়েছেন। এই ম্যাচে ভিএআরের দায়িত্বে ছিলেন মুনিজ রুইজ। তার হস্তক্ষেপেই ভিডিও দেখে রিয়াল মাদ্রিদের ফরোয়ার্ডকে লাল কার্ড দেখানো হয়। তাই ১-০ গোলের জয়ের পরও বিতর্কিত ঘটনা নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।
অনেকদিন ধরেই রেফারির বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ করে আসছে রিয়াল। এমন ঘটনার পর তাই পুরোনো রেকর্ড খুঁজে সমালোচনা করা হচ্ছে রেফারির। দুই ম্যাচেই মুনিজ রুইজ থাকায় সমালোচনা আরো বেশি হচ্ছে। রিয়াল সমর্থকদের তাই দাবি রেফারি দ্বিচারিতা করছেন।
২০২০ সালের ২৮ নভেম্বরের এক ম্যাচের সিদ্ধান্তও রিয়ালের বিপক্ষে গেছে। নিজেদের বক্সে মার্সেলোর চুল টেনে ধরেছিলেন আলাভেসের এক ডিফেন্ডার। তাতে লাল কার্ড ও পেনাল্টির দাবি করেছিল রিয়ালের খেলোয়াড়রা। তবে সেদিন রেফারি আদ্রিয়ান করডেরো ভেগা কোনো সিদ্ধান্তই নেননি। ভিএআরও কোনো ফাউল নিয়ে কোনো পর্যালোচনা করেনি। সেদিন ২-১ গোলে হেরেছিল রিয়াল।
তবে চুল টানলেই লাল কার্ড দেখাতে হবে এমন নিয়ম অবশ্য নাই। শাস্তি দেওয়ার আগে ফাউলের তীব্রতা বুঝতে হবে। ফুটবল নিয়ম-কানুন নির্ধারণকারী সংস্থা আন্তর্জাতিক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ডের (আইএফএবি) ১২ নম্বর আইনে বলা হয়েছে, বল দখলের লড়াইয়ের বাইরে গিয়ে কোনো খেলোয়াড় যদি ইচ্ছাকৃতভাবে এবং জোরপূর্বক প্রতিপক্ষের কারো চুল টানেন, তবে সেটি উগ্র বা সহিংস আচরণ হিসেবে গণ্য হবে। তখন সরাসরি লাল কার্ড দেখাতে পারবেন রেফারি।
বিপরীতে যদি চুল টানার ঘটনাটি বল দখলের স্বাভাবিক লড়াইয়ের অংশ হিসেবে ঘটে, অথবা তীব্রতা ও আঘাত করার উদ্দেশ্য কম থাকে, তবে রেফারি সেটিকে উগ্র আচরণ হিসেবে বিবেচনা নাও করতে পারেন। অখেলোয়াড়সুলভ আচরণ হিসেবে গণ্য করে খেলোয়াড়কে হলুদ কার্ড বা সতর্কবার্তা দিতে পারেন রেফারি।
তিনটি ঘটনা পাশাপাশি রাখলে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। প্রতিবারই প্রতিপক্ষের চুল টানার অভিযোগ, অথচ শাস্তি এক নয়। কোথাও হলুদ কার্ড, কোথাও সরাসরি লাল কার্ড, আবার কোথাও কোনো শাস্তিই হয়নি। এই পার্থক্যই রেফারিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক বাড়িয়েছে।
জিবি নিউজ24ডেস্ক//
মন্তব্যসমূহ (০) কমেন্ট করতে ক্লিক করুন