পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিস্লাভ কোসিনিয়াক-কামিশের ওপর সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনার তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। এতেই দেশটিতে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে ।
হুমকির তথ্য পাওয়ার পরপরই রবিবার (১১ অক্টোবর) পোলিশ নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো একটি জরুরি ও বিশেষ বৈঠকে মিলিত হয়।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে পুলিশ, স্টেট প্রটেকশন সার্ভিস এবং অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা (এবিডব্লিউ) যৌথভাবে এই হুমকি মোকাবিলায় কাজ শুরু করেছে।
বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর মুখপাত্র জাচেক দোব্রজিনস্কি জানিয়েছেন, তদন্তের স্বার্থে হামলা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনই প্রকাশ করতে পারছেন না। তবে সরকার এই হামলার হুমকিকে অত্যন্ত মারাত্মক ও বিপজ্জনক হিসেবে বিবেচনা করছে।
মুখপাত্র আরো বলেন, এই হামলার হুমকি কেবল ফাঁকা আওয়াজ নয়। প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, এই হামলা সফল হওয়ার উচ্চ সম্ভাবনা রয়েছে।
দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র কারোলিনা গালেকা জানিয়েছেন, মন্ত্রীদের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা স্টেট প্রটেকশন সার্ভিস একটি ইমেইলের মাধ্যমে এই হামলার ষড়যন্ত্রের কথা জানতে পারে। পরবর্তীতে তারা দ্রুত বিষয়টি পুলিশকে ফরওয়ার্ড করে।
পোল্যান্ডে সাধারণত বড় ধরনের সহিংস অপরাধ বা রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড খুব একটা দেখা যায় না। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে তীব্র রাজনৈতিক মেরুকরণ তৈরি হয়েছে, যা অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক।
এছাড়া প্রতিবেশী দেশ ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধের কারণেও পোল্যান্ডের সামগ্রিক নিরাপত্তা ঝুঁকি অনেক বেড়ে গেছে। এর আগে চলতি বছরের আগস্ট মাসে দেশের শীর্ষ রাজনীতিবিদদের হত্যার উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে এক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ।
এর আগেও গত সেপ্টেম্বর মাসে প্রধানমন্ত্রী টাস্ক সতর্ক করেছিলেন, ইউক্রেনকে সমর্থন করার কারণে ন্যাটো জোটের পূর্ব সীমান্তে পোল্যান্ডসহ ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলোতে রাশিয়া তাদের হাইব্রিড ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা জোরদার করতে পারে।
জিবি নিউজ24ডেস্ক//
মন্তব্যসমূহ (০) কমেন্ট করতে ক্লিক করুন