শেষ হলো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস

6,561
gb

দিনের খেলাটাও শেষ হতে পারল না, শেষ হয়ে গেল বাংলাদেশের ইনিংস। প্রোটিয়াদের পৌনে ৬শ রানের জবাবে মাত্র ১৪৭ রান তুলতে সক্ষম হলো মুশফিকুর রহিমের দল। ব্লুমফন্টেইনে ম্যাচের দ্বিতীয় দিনে টাইগারদের প্রাপ্তি বলতে লিটন দাসের ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস। ধ্বংসস্তুপে দাঁড়িয়ে একাই লড়ে গেলেন তিনি। দলীয় স্কোরের প্রায় অর্ধেক ৭০ রান করলেন তিনি ওয়ানডে স্টাইলে। কিন্তু তার সঙ্গী হিসেবে ছিল না কোনো ব্যাটসম্যান। প্রথম ইনিংসে ৪৬২ রানে এগিয়ে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা।

প্রোটিয়াদের বিশাল স্কোরের জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই মহাবিপদে পড়ে বাংলাদেশ। দলীয় ১৩ রানে ধসের শুরু হয় সৌম্য সরকারের আউট দিয়ে। ইনজুরি কাটিয়ে দ্বিতীয় টেস্টে ফেরা এই ওপেনারকে ব্যক্তিগত ৯ রানে বোল্ড করে দেন প্রোটিয়া পেস সেনসেশন রাবাদা। এরপর উইকেটে এসেই একটি বাউন্ডারি হাঁকিয়ে অলিভারের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন মুমিনুল হক।

অলিভারের দ্বিতীয় শিকার অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম (৭)। মুক্তভাবে ব্যাটিং করার জন্যই তার হাত থেকে কিপিং গ্লাভস খুলে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু উদ্দেশ্য সফল হলো কই?

মুশফিকের বিদায়ের পর মাহমুদ উল্লাহ রিয়াদ আবারও নিজেকে প্রমাণে ব্যর্থ হন। মাত্র ৪ রান করে পারনেলের বলে কুইন্টন ডি ককের গ্লাভসবন্দী হন তিনি। বাংলাদেশের পঞ্চম উইকেটের পতন ঘটে ৬১ রানে। তামিমের অনুপস্থিতিতে ওপেনিংয়ে নেমে বেশ কিছুক্ষণ লড়াই করেছেন ইমরুল কায়েস। তবে চা বিরতিপর পরেই রাবাদার বলে ২৬ রানেই থামে তার ইনিংস। ৪ রানের ব্যবধানে শুন্য হাতে ফিরে যান সাব্বির রহমান।

৬৫ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর লিটন দাস আর তাইজুলের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে বাংলাদেশ। দুজনে মিলে ৫০ রানের জুটি গড়েন। ১২০ ওভার কিপিং করার পর ওয়ানডে স্টাইলে ব্যাট চালিয়ে ৫৫ বলে ৯ বাউন্ডারিতে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় হাফ সেঞ্চুরি পূরণ করেন লিটন দাস। এরপরই তাইজুলকে (১২) বোল্ড করে তৃতীয় শিকার ধরেন অলিভার। ৭৭ বলে ১৩ বাউন্ডারিতে গড়া ৭০ রানের ক্যারিয়ারসেরা ইনিংসটি শেষ হয় রাবাদার বলে ডু-প্লেসিসের তালুবন্দী হয়ে। এরপর আর ঘুরে দাঁড়ানোর কোনো সুযোগ ছিল না।

এর আগে ৪ উইকেটে ৫৭৩ রান তুলে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে প্রোটিয়ারা। ৩ উইকেটে ৪২৮ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন শুরু করেছিল ডু-প্লেসিসের দল। বৃষ্টির কারণে দেড় ঘণ্টা দেরিতে খেলা শুরুর পরপরই তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে সেঞ্চুরি করেন হাশিম আমলা। ১১৩ বলে ক্যারিয়ারের ২৮তম সেঞ্চুরি তুলে নিতে আমলা ১৪টি বাউন্ডারি হাঁকিয়েছেন। এর কিছু পরেই ১৪৭ বলে ১২ বাউন্ডারিতে টেস্ট ক্যারিয়ারের ৭ম সেঞ্চুরি তুলে নেন অধিনায়ক ফাফ ডু-প্লেসিস।

২৪ ওভার অপেক্ষার পর অবশেষে দ্বিতীয় দিনে উইকেটের দেখা পায় বাংলাদেশ। সেঞ্চুরিয়ান হাশিম আমলাকে (১৩২) বোল্ড করে নিজের তৃতীয় শিকার ধরেন পেসার শুভাশিস রায়। এর সাথে সমাপ্তি ঘটে ২৪৭ রানের জুটির। এর আগে প্রথম দিনে ২৪৩ রানের জুটি গড়েছিলেন দুই প্রোটিয়া ওপেনার। অধিনায়ক ফাফ ডু-প্লেসিস ১৩৫ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন।

অন্যদিকে বল হাতে ‘অন্যরকম’ সেঞ্চুরি করেছেন চার বাংলাদেশি বোলার। ‘কাটার মাস্টার’ মুস্তাফিজুর রহমান, পেসার শুভাশিস রায়, রুবেল হোসেন এবং স্পিনার তাইজুল ইসলাম প্রত্যেকেই একশর উপরে রান দিয়েছেন। ২৯ ওভার বল করে ১১৮ রানে ৩ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল বোলার শুভাশিস রায়।