সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সায়েম ||
আজ সৈয়দ মহসিন আলীর মৃত্যুবার্ষিকীতে গভীর বেদনা, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করছি মৌলভীবাজারের মাটি ও মানুষের আপনজন, মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানী, বাংলাদেশের সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এবং মৌলভীবাজার পৌরসভার তিন-তিনবারের নির্বাচিত জননন্দিত মেয়রকে।
কিছু মানুষ পৃথিবী থেকে চলে গেলেও মানুষের হৃদয় থেকে হারিয়ে যান না। তাঁরা বেঁচে থাকেন তাঁদের কর্মে, মানুষের ভালোবাসায়, মানুষের মুখের কথায় এবং অগণিত স্মৃতির পাতায়, সৈয়দ মহসিন আলী ছিলেন তেমনি একজন মানুষ।
মৌলভীবাজারের মানুষের সাথে তাঁর সম্পর্ক ছিল আত্মিক মৌলভীবাজার পৌরসভার তিনবারের নির্বাচিত মেয়র হওয়ায় তিনি মানুষের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা ও প্রয়োজনকে নিজের করে নিয়েছিলেন। সাধারণ মানুষ তাঁর কাছে অবলীলায় যেতে পারতেন। শহরের মানুষ থেকে শুরু করে অসহায় দরিদ্র, শ্রমজীবী ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষ, সবার জন্য সবসময় তাঁর দরজা ছিল উন্মুক্ত। তিনি মানুষের কথা শুনতেন, পাশে দাঁড়াতেন এবং সাধ্যের মধ্যে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করতেন। মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানোর গুণেই তাঁকে অন্যদের কাছ থেকে বেশি জনপ্রিয় করে তুলেছিল।
যে মানুষটি একদিন একটি স্বাধীন দেশের জন্য জীবন বাজি রেখেছিলেন, স্বাধীনতার পরও তিনি মানুষের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। তাঁর কাছে দেশপ্রেম শুধু একটি শব্দ ছিলনা এটি ছিল তাঁর জীবনের আদর্শ।
রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থেকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী হিসেবেও তিনি অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন। মন্ত্রী হওয়ার পরও তিনি ভুলে যাননি তাঁর প্রিয় শহর, প্রিয় মানুষগুলোকে। আজও হয়তো মৌলভীবাজারের কোনো প্রবীণ নাগরিক তাঁর কথা বলতে গিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলেন, কোনো পুরনো সহকর্মী হয়তো তাঁর প্রাণখোলা হাসির কথা মনে করেন। আজ তিনি আমাদের মধ্যে নেই, তাঁর কন্ঠ নেই, তাঁর সেই পরিচিত হাসি নেই, মানুষের ভিড়ে তাঁর প্রাণবন্ত উপস্থিতি নেই, তাই বলে মানুষের হৃদয় থেকে তাঁকে মুছে ফেলার সাধ্যও কারো নেই।
কারণ কিছু মানুষ মৃত্যুর পরও থেকে যান---
কখনো স্মৃতিতে,
কখনো ভালোবাসায়,
কখনো মানুষের চোখের জলে আর
কখনো একটি দেশের ইতিহাসের পাতায়।
তাঁর চলে যাওয়ার শূন্যতা হয়তো কোনদিন পূরণ হবে না। তবে তাঁর কর্ম, তাঁর আদর্শ, মানুষের প্রতি ভালোবাসা এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নতুন প্রজন্মকে পথ দেখাবে। এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
আজ গভীর শ্রদ্ধার সাথে বলতে চাই - প্রিয় মহসিন ভাই, আপনি আমাদের মধ্যে নাই, কিন্তু আপনার স্মৃতি আছে।
আপনার কন্ঠ নাই কিন্তু আপনার কর্মের প্রতিধ্বনি আছে। আপনি আছেন আমাদের হৃদয়ে। যতদিন মৌলভীবাজার থাকবে, যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, ততদিন কোন না কোন মানুষের স্মৃতিতে আপনি বেঁচে থাকবেন।
মন্তব্যসমূহ (০) কমেন্ট করতে ক্লিক করুন