নরওয়ের নোবেল কমিটি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, নোবেল শান্তি পুরস্কার ‘ভাগ করা, প্রত্যাহার করা বা অন্যের কাছে হস্তান্তর করা’ যায় না। এই ব্যাখ্যা আসে নোবেলজয়ী ও ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তার নোবেল পুরস্কার দিতে চান—এমন বক্তব্য দেওয়ার পর।
নোবেল কমিটির বিবৃতিতে বলা হয়, ‘নোবেল পুরস্কার কখনোই প্রত্যাহার, ভাগ বা অন্যের কাছে হস্তান্তর করা যায় না। একবার ঘোষণা হয়ে গেলে সেই সিদ্ধান্ত চিরকালের জন্য বহাল থাকে।
’
ট্রাম্প শনিবার বলেন, আগামী সপ্তাহে মাচাদো যুক্তরাষ্ট্র সফরে এলে তিনি তাকে নোবেল পুরস্কার দেওয়ার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করবেন। এই সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করা এবং পরবর্তী সময়ে ট্রাম্পের ভেনেজুয়েলার বিপুল তেল সম্পদের ওপর দাবি তোলার পর যুক্তরাষ্ট্র-ভেনেজুয়েলা সম্পর্ক ইতিহাসের সর্বোচ্চ উত্তেজনায় পৌঁছেছে। ট্রাম্প বলেন, ‘তিনি আসতে চান—এটা খুবই ভালো বিষয় বলে মনে করি এবং যতটা বুঝেছি, এটাই আসার কারণ।’
মাদক-সন্ত্রাস ষড়যন্ত্রসহ একাধিক অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি করতে মাদুরোকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার পর মাচাদো দেশটির সর্বোচ্চ পদে আসেননি।
বরং ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ মাদুরোর স্থলাভিষিক্ত হন।
এর আগে বহুবার ট্রাম্প নিজেকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের যোগ্য প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরেছেন। তার দাবি, দ্বিতীয় মেয়াদের প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম আট মাসে তিনি আটটি যুদ্ধের অবসান ঘটিয়েছেন। ট্রাম্প বলেন, ‘আপনি যে প্রতিটি যুদ্ধ থামান, তার জন্য একটি করে নোবেল পুরস্কার পাওয়া উচিত।
এগুলো ছিল বড় বড় যুদ্ধ—যেগুলো কেউ ভাবেনি থামানো সম্ভব।’
তিনি ২০০৯ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়া তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামারও সমালোচনা করেছেন, তার ভাষায়, তিনি ‘কিছুই করেননি’।
আগামী সপ্তাহে মাচাদোর যুক্তরাষ্ট্র সফর প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, তিনি ওয়াশিংটনে এসে ‘আমাদের দেশকে—আসলে আমাকে—শ্রদ্ধা জানাবেন। তবে আমি তো কেবল দেশের প্রতিনিধি, এর বেশি কিছু নই।’
জিবি নিউজ24ডেস্ক//

মন্তব্যসমূহ (০) কমেন্ট করতে ক্লিক করুন