লুটের পর প্রাণ ফিরছে সাদাপাথরে

gbn

জিবি নিউজ প্রতিনিধি//

ব্যাপক লুটপাটের পর পাথর উদ্ধার ও প্রতিস্থাপন- কাজ চলছে সমানতালে। এরমধ্যে কিছুটা বিরতির পর আবার প্রাণ ফিরছে সিলেটের বিখ্যাত পর্যটনকেন্দ্র সাদাপাথরে। ছুটির দিনগুলোতে বেড়াতে আসছেন সিলেট এবং এর বাইরের পর্যটকরা।

 

 

 

সম্প্রতি সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সাদাপাথরের পাথর লুটের ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয় সারাদেশে। নড়েচড়ে বসে সরকার। প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদল হয়। রিট হয় উচ্চ আদালতে।

 

বিচারক সাদাপাথর উদ্ধার ও প্রতিস্থাপনের নির্দেশ দেন। এরপর শুরু হয় সাঁড়াশি অভিযান। উদ্ধার হয় লাখ লাখ ঘনফুট সাদাপাথর।

 

 

সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী শনিবার বিকেল পর্যন্ত মোট ২৮ লাখ ঘনফুট সাদাপাথর উদ্ধার ও ২২ লাখ ঘনফুট প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।

 

 

প্রকৃতি নিজের মতো করে যেমন প্রতিস্থাপন করেছিল মানুষের হাতে হবহু তা অসম্ভব। তবে তার কাছাকাছি পর্যায়ের পৌঁছাতে আন্তরিকভাবে কাজ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারোয়ার আলম।

 

এদিকে সাদাপাথর প্রতিস্থাপনের খবর শুনে পর্যটকদের মধ্যে আগ্রহ বাড়তে শুরু করেছে। তারা আবার সাদাপাথরমুখী হতে শরু করেছেন। গত দু’ সপ্তাহ ধরে শুক্র ও শনিবারের সপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে সাদাপাথরে পর্যটকের সংখ্যা তুলনামূলক বাড়তে শুরু করেছে।

 

 

তবে সেটি কোনো অবস্থাতেই লুটের আগের অবস্থার ধারে কাছেও নয়। কিন্তু লুটের পর যে অবস্থা চলেছে কয়েকদিন, তারচেয়ে এখন অবস্থা অনেক ভালো। আর এতেই আশার আলো দেখছেন সাদাপাথরের সঙ্গে ওতোপ্রতোভাবে জড়িয়ে থাকা পর্যটনখাতের ব্যবসায়ীরা।

 

 

জানা যায়, সাদাপাথরে পর্যটকদের ছবি তুলে দেওয়ার জন্যআছেন অন্তত শতাধিক ফটোগ্রাফার। এছাড়া চেয়ার আছে তিন শতাধিক। সঙ্গে পোশাক রাখার লকার আছে ২০টি। কসমেটিকস ব্যবসায়ী আছেন অন্তত দেড়শ’র কাছাকাছি। আছে ১৫টি রেস্টুরেন্ট। এছাড়া ঝালমুড়ি চা কফিওয়ালা আছে আরও প্রায় অর্ধ শতাধিক। নৌকা আছে ১৬০টির মতো।

 

নৌকা চালকদের সাথে আলাপকালে জানা যায়, লুটপাটের আগে তারা প্রতিদিন অন্তত ৫ থেকে ৬টি ট্রিপ দিতে পারলেও এখন অনেকটা কমে গেছে। ৭০/৮০টি নৌকা গড়ে প্রতিদিন ১ দেড়টা ট্রিপ দিতে পারছে।

 

 

তবে এতেও তারা খুশী। কারণ, পর্যটকরা আসতে শুরু করেছেন। নিশ্চয়ই আরও আসবেন এবং সংখ্যাটা বাড়তে থাকবে। তাহলে তাদের রুটি-রুজিও বাড়বে।

 

 

রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ীরাও জানালেন, ব্যবসা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। এখন তারা আশাবাদী। আগামীতে জমবে আরও, সেই সাথে ব্যবসাও।

 

সাদাপাথরে দীর্ঘদিন থেকে ফটোগ্রাফি করে সংসার চালাচ্ছেন সাদাপাথর এলাকারই শৌখিন ফটোগ্রাফার শাহিদ আহমেদ (৩০)।

 

 

একান্ত আলাপচারিতায় তিনি জানান, লুটপাটের আগে ছুটির দিনগুলোতে পর্যটক আসতেন প্রায় ২২ থেকে ২৪ হাজার। কিন্তু এখন নেমে এসেছে অর্ধেকেরও কমে, ১০ থেকে ১২ হাজারের মতো হয়। আগে বেশ ভালো আয়-রোজগার হলেও এখন নামমাত্র হচ্ছে। তবু আমরা আশাবাদী- একদিন আবার আগের দিনগুলো ফিরবে।

 

 

কথা হয়, খুলনা থেকে সপরিবারের সাদাপাথরে ঘুরতে আসা পর্যটক মাহবুব আলীর (৩৫) সাথে। মৃদু হেসে বললেন, লুটের পরও যখন সাদাপাথর এত সুন্দর, না জানি আগে আরও কত সুন্দর ছিল।

 

তিনি সাদাপাথরসহ সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রগুলো সুরক্ষায় প্রশাসনের আরও কঠোর নজরদারির আহ্বান জানান।

 

 

পাশাপাশি স্থানীয় জনগনের সচেতনতাও কামনা করেন।

gbn

মন্তব্যসমূহ (০)


ব্রেকিং নিউজ

লগইন করুন


Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password


মন্তব্য করতে নিবন্ধন করুন