স্ত্রী হত্যায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

230
gb

স্ত্রী হত্যার অভিযোগে স্বামীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া আসামিকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

আজ  বৃহস্পতিবার ঢাকার পরিবেশ আপিল আদালতের বিচারক মশিউর রহমান এ রায় দেন।

রায়ের আদেশে বিচারক উল্লেখ করেন, “দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আসামিকে এ দণ্ড দেওয়া হলো। তদুপরি জরিমানা হিসেবে পাঁচ হাজার টাকাও আসামিকে প্রদান করিতে হইবে। হাইকোর্টের আদেশসাপেক্ষে মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আসামিকে ফাঁসির দড়িতে ঝুলাইয়া রাখিতে হইবে। ”

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো. সাজু মিয়া ওরফে মাধন (৪৭) বগুড়া জেলার কটিনার পাড়া কলেজ রোডের হটু মিয়া লেন নিবাসী মৃত ফটু মিয়া ও মৃত আমেনা বেগমের ছেলে। রায় ঘোষণার আগে কারাগারে থাকা আসামিকে আদালতের এজলাসে নিয়ে আসা হয়।

ওই আদালতের বিশেষ পিপি এ এফ এম রেজাউল করিম হীরন জানান, মামলার সাক্ষীরা ঘটনা প্রমাণ করেছে। ঘোষণার পর আসামিকে সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

রায় ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়ায় আসামির আইনজীবী মো. মোরশেদ আলী রায় প্রত্যাখ্যান করে বলেন, “এ রায়ের বিরুদ্ধে আমরা উচ্চ আদালতে যাব।

রায় ঘোষণার সময় মামলার বাদী নিহত চন্দনা খাতুনের পিতা মোশারফ হোসেন আদালতে হাজির ছিলেন। তিনি এ রায়ে সন্তুষ্ট। আদালতের রায় দ্রুত কার্যকর করতে তিনি সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

এ মামলায় বিচার চলাকালে চার্জশিটভুক্ত ৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।   ২০১২ সালের ২৫ অক্টোবর মামলায় আসামির বিরুদ্ধে চার্জ (অভিযোগ) গঠন করেন আদালত। এর আগে একই বছরের ২ সেপ্টেম্বর আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদাবর থানার এসআই মোসলেহ উদ্দিন।

ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, ২০১২সালের ১৪ মে তারিখে প্রতিদিনের মতো রাত অনুমান সাড়ে ৯ টায় নিহত চন্দনা তার স্বামী মামলার আসামি সাজু রাজধানীর আদাবর থানাধীন শেখেরটেক ২ নম্বর রোডের ১৯ নম্বর ভাড়া বাসায় ফিরে আসেন। কিছু সময় পর রাত সোয়া ১০টার দিকে বাসার ভেতর চিৎকার করতে থাকলে বাসার মালিকের স্ত্রী তাদের বাইরে থেকে ডাকাডাকি করেন।

কোনও উত্তর না পেয়ে সন্দেহ হয়। বাসার দারোয়ান ডেকে কক্ষের দরজা খোলার চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে রাত আড়াইটার দিকে আসামি বাসার দরজা খুলে কক্ষের দরজা আটকে রেখে দ্রুত পালিয়ে যান। পরে বাড়িওয়ালা থানায় সংবাদ দিলে পুলিশ এসে কক্ষের দরজা ভেঙে ভিকটিমের লাশ উদ্ধার করে। পরে নিহতের পিতা বাদী হয়ে আদাবর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।