Bangla Newspaper

২০৪১ সালের মধ্যে রপ্তানি ১০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে -বাণিজ্যমন্ত্রী

63

জিবি নিউজ 24 ডেস্ক //

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ জানিয়েছেন, বর্তমান সরকারের আমলে দেশের সার্বিক চিত্রই পাল্টে গেছে। প্রতিটি গ্রাম এখন শহরে রূপ নিতে শুরু করেছে। গ্রামীণ অর্থনীতি এখন যেকোনো সময়ের চেয়ে চাঙ্গা। তাই একদিন আমরাও বাণিজ্য ঘাটতি পূরণ করতে পারবো। বাণিজ্য ঘাটতি একদিন থাকবে না। ২০৪১ সালের মধ্যে আমাদের রপ্তানি এক শ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে।

গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে তিনি এ তথ্য জানান। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এ সংক্রান্ত প্রশ্নটি উত্থাপন করেন সরকার দলীয় সংসদ সদস্য সামশুল আলম চৌধুরী। জবাবে রপ্তানির তুলনায় আমদানি তিনগুণ বেশি এমন দাবি নাকচ করে দিয়ে মন্ত্রী বলেন, কথাটি সত্য নয়। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে দেশের আমদানির পরিমাণ ছিল ৫৮ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৩৬ দশমিক ৬৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। উক্ত অর্থবছরে আমদানিতে রপ্তানির অবদান ছিল ৬৯ দশমিক ২৫ ভাগ।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চীন, ভারত ও সিঙ্গাপুরের সঙ্গে আমাদের বড় বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আমরা প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি করি, কিন্তু ওই দেশটি আমাদের দেশে এক বিলিয়ন ডলারও রপ্তানি করতে পারে না। ইউরোপীয় ইউনিয়নে আমরা প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার রফতানি করি, সেক্ষেত্রে তারা আমাদের দেশে এক বিলিয়ন ডলারও রপ্তানি করতে পারে না। সে কারণে বাণিজ্য ঘাটতি থাকলেই যে খারাপ এটা বলা যাবে না। পার্শ্ববর্তী দেশ হওয়ার কারণে চীন ও ভারত থেকে বেশি পণ্যে আমদানি হয়। কিন্তু এখন চীনে তৈরি পোশাকসহ অনেক কিছু রপ্তানি করি।

মন্ত্রী আরো জানান, বাণিজ্য ঘাটতি বৃদ্ধি পাওয়ায় বেশ কিছু কারণ রয়েছে। যদিও দীর্ঘ মেয়াদে বাণিজ্য ঘাটতি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ হ্রাস করার জন্য সরকার ইতিমধ্যেই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। গত বছর বন্যয় বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় উৎপাদন ঘাটতি পূরণে বিপুল পরিমাণ খাদ্যশস্য আমদানির ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ছাড়া রপ্তানিমুখী শিল্পের কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতির আমদানির কারণে এই খাতে ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে।

সংসদ সদস্য নবী নেওয়াজের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ জানান, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকা দুই দেশের পণ্যে বিক্রির উদ্যোগ হিসেবে বর্ডার হাট বসানো হয়। সরকার আরো কয়েকটি জায়গায় বর্ডার হাট বসানোর পরিকল্পনা করছে। তিনি আরো বলেন, বর্ডার হাট বসানো একটি ভালো সিদ্ধান্ত ছিল। এরই মধ্যে যেসব হাট বসে সেগুলোতে দুই দেশের ব্যাপক ক্রেতা-বিক্রেতারা উপস্থিতি হন। আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী বাংলাদেশে আসবেন। ওই সফরেই বর্ডার হাটের বিষয়টি উপস্থাপন করা হবে।

Comments
Loading...