পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে চরমতম সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের

246

জিবি নিউজ 24 ডেস্ক //

ধীরে ধীরে পাকিস্তানের সঙ্গে সবরকমের সহযোগিতার রাস্তা বন্ধ করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বাড়তি খরচ হচ্ছে, এই যুক্তি দেখিয়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে শিক্ষাগত প্রশিক্ষণ ও সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া বন্ধের নির্দেশ দিল পেন্টাগন।

বিষয়টি নিয়ে ইসলামাবাদ বা ওয়াশিংটনের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের পিছনের কারণটি ভালই বোঝা যাচ্ছে বলে দাবি আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞমহলের। চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে পাকিস্তানের সখ্যতাকে যে ভাল চোখে দেখছে না যুক্তরাষ্ট্র, এই সিদ্ধান্ত তারই ফলাফল বলে মনে করছে তারা।

সন্ত্রাস দমনের বদলে আর্থিক নিরাপত্তা দানের শর্তে পাকিস্তানকে ১.১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অনুদান দিত যুক্তরাষ্ট্র। যা গত মাসেই বন্ধ করেছেন প্রেসিডেট ট্রাম্প। এবার পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে প্রশিক্ষিত করার কাজও বন্ধ করলেন তিনি।

জানা গিয়েছে, ইন্টারন্যাশনাল মিলিটারি এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিং প্রোগ্রাম খাতে, পাকিস্তানের জন্য গত পনেরো বছরে যুক্তরাষ্ট্র খরচ করেছে ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর পুরোটাই নষ্ট হয়েছে বলে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন মার্কিন সেনাবোহিনীর এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা।

তাঁর মতে, এই আর্থিক সাহায্যের বিনিময়ে জঙ্গি দমনে ভূমিকা নেওয়ার কথা ছিল ইসলামাবাদের। কিন্তু এই কাজে সম্পূর্ণ ব্যর্থ সেই দেশ। ওই কর্মকর্তার ক্ষোভ, সন্ত্রাস বিরোধী পদক্ষেপ গ্রহণ তো দূরে থাক, নিজেদের দেশকে সন্ত্রাসীদের জন্য স্বর্গরাজ্য বানিয়ে ফেলেছে পাকিস্তান। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে সম্পূর্ণ সমর্থন করছেন তাঁরা।

তবে কেবল এই একটা কারণেই এত বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প? এই যুক্তি মানতে নারাজ আন্তর্জাতিক মহল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পিছনে কাজ করছে চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে পাকিস্তানের ক্রমবর্ধমান সখ্যতা।

প্রসঙ্গত, একদিকে বেইজিং-এর সঙ্গে যৌথ ভাবে চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর তৈরি করছে ইসলামাবাদ ও বেইজিং। তাঁদের মধ্যে তৈরি হয়েছে বন্ধুত্বের সম্পর্ক। অন্যদিকে, তাঁদের কায়দায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য রাওয়ালপিণ্ডির সঙ্গে চুক্তি সাক্ষর করেছে মস্কো। রুশ সেনাবাহিনীর মিলিটারি ট্রেনিং স্কুলেই হবে সেই প্রশিক্ষণ। এতে হতবাক হয়েছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা। বিষয়টি যে ভারতের পক্ষে সুখকর নয় তাও মনে করিয়ে দিয়েছেন তাঁরা।

মন্তব্য
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More