গাইবান্ধার চার সংগ্রামী নারী শ্রমিক ঘর পেলেন

256
gb

ছাদেকুল ইসলাম রুবেল,গাইবান্ধা ঃ গাইবান্ধা সদর উপজেলার খোলাহাটি ইউনিয়নের ফারাজী পাড়া গ্রামের চার সংগ্রামী দরিদ্র নারী শ্রমিক অবশেষে তাদের স্বপ্নের ঘর পেলেন। টিনের চালা আর বাঁশের ভাঙ্গা বেড়ার ঝুপড়ীতে থাকা এসব নারী কল্পনাও করেন নি, কখনো তাদের ভাগ্যে এ রকম দিন আসবে। ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অবদান সবার জন্য বাসস্থান’ এই শ্লোগানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘যার জমি আছে ঘর নাই-তার নিজ জমিতে গৃহ নির্মাণ’ প্রকল্পে তাদের হাতে এই ঘর তুলে দেয়া হয়। জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পাল গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে তাদের হাতে ঘরের চাবী তুলে দেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে ফিতা কাটেন। এসময় তার সাথে ছিলেন গাইবান্ধা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শফিকুল ইসলাম। এই চার নারী হচ্ছেন- মৃত কফিল উদ্দিনের স্ত্রী কবিতন বেওয়া ও তার মা কোহিনূর বেওয়া , মৃত ফুল মিয়ার স্ত্রী গোলেনূর বেওয়া ও মৃত আজাদ মিয়ার স্ত্রী মরিয়ম বেওয়া। শেষ বিকেলে মরিয়ম বেগমের আঙ্গিনায় ঘর হস্তান্তরের সময় অনাড়ম্বর এক অনুষ্ঠানে প্রশাসনের কর্মকর্তা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধিরা এই প্রশংসনীয় উদ্যোগকে করতালি দিয়ে স্বাগত জানান। আনন্দের অশ্ধসঢ়;রু মুছে মরিয়ম বললেন, স্বামীর মৃত্যুর পর ছেলে আরিফ আর মেয়ে আফরিণকে নিয়ে তার জীবন যুদ্ধ শুরু হয়। কৃষি শ্রমিক হিসেবে মানুষের জমিতে কাজ করে তিনি পেটে পাথর বেঁধে ছেলে-মেয়েকে খাইয়েছেন, তাদের সব চাহিদা মিটিয়ে লেখাপড়ায় মন দিতে বলেছেন। ছেলে আরিফ এখন এইচএসসি প্রথমবর্ষ আর মেয়ে আফরিণ সপ্তম শ্রেণীতে পড়ছে। তারা মেধাবী। প্রধানমন্ত্রীর আদেশে জেলা প্রশাসক তাকে নির্বাচন করে তার একখন্ড জমিতে সেমি পাকা ঘর করে দিয়েছেন। ঝড় বৃষ্টির এই দিনে তাদের আর কাকভেজা হয়ে ঘুমোতে হবে না। পরে জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পাল অন্য তিন নারীকে তাদের এলাকায় গিয়ে ঘর হস্তান্তর করেন। গোলেণূর বেওয়া’র তিন ছেলে সাগর, শানু আর সানোয়ার যথাক্রমে ৭ম, ৮ম ও নবম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত। কবিতন বেওয়ার ছেলে বাবু মাকে কর্মক্ষেত্রে সাহায্য করে। গোলেনূর নিজের ভাষায় বললেন, আল্লাহ বঙ্গবন্ধুর বেটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হায়াত দারাজ করুক। কতদূর থাকিয়্যাও তাই হামারঘরোক দেখভাল করবার নাগচে। জেলা প্রশাসক জানান, প্রকল্পের ধরণ অনুযায়ী তিনি নিজে সহকর্মীদের নিয়ে এলাকা ঘুরে স্বামীহারা এ সব নারীকে কৃষি ক্ষেত্র, দিনমজুরী ও অন্য নানা ধরণের কাজ করে সন্তানদের লেখাপড়া, জামা কাপড়, বইপত্র দিয়ে যোগ্য মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে ভূমিকা পালন করতে দেখেছেন। সাহসে বুক বেধে তারা কাজ করেছেন। কারো কাছে তারা হাত পাতেন নি। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের ঘর প্রাপ্তির জন্য বাছাই করা হয়েছে। তিনি জানান, সংগ্রামী নারীদের নিজস্ব সামান্য জমিতে ঘর নির্মান করা হয়েছে। গাইবান্ধা সদর উপজেলা পরিষদ এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। চার জানালা ও দুই দরজা বিশিষ্ট সেমি পাকা প্রতিটি ঘর নির্মানে খরচ হয়েছে ১লাখ ২০ হাজার টাকা। চার জনের মধ্যে কোহিনুর ভূমিহীন । তিনি তার মেয়ে কবিতনের সাথে থাকবেন। জেলা প্রশাসক জানান, প্রশাসন পরবর্তীতে তাদের বাড়ির উন্নয়নসহ বাথরুম নির্মান করে দেবে।