ব্রিটিশ নাগরিক জালাল উদ্দিন নামের এক যুবক মাদক নিরাময় কেন্দ্রে মৃত্যু

180
gb

বিশেষ প্রতিনিধি ||

মৌলভীবাজারে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক জালাল উদ্দিন নামের এক যুবক মাদক নিরাময় কেন্দ্রে মৃত্যু হয়েছে। তার পরিবারের অভিযোগ তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। মৌলভীবাজার শহরের শ্রীমঙ্গল রোর্ডের বেজবাড়ী এলাকার উদ্দিপন মাদক নিরাময় কেন্দ্রে এই হত্যার ঘটনাটি ঘটেছে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সুত্রে জানা গেছে, নিহত জালালের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহৃ রয়েছে। ঘটনার পর পরই উদ্দিপন মাদক নিরাময় কেন্দ্রের কর্তৃপক্ষ গাঁঢাকা দিয়েছে। কাউকে খুজে পাওয়া যাচ্ছেনা। জানাগেছে চিকিৎসা নিতে আসা ওই কেন্দ্রের ২৫জন মাদকাসক্তদের মধ্যে ২২জন দরজা ভেঙ্গে পালিয়ে গেছে।

পুলিশ ও নিহতের পরিবার জানান নিহত জালাল উদ্দিন হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার ইনাতগঞ্জের তফতিবাগ এলাকার মৃত মোঃ গিয়াস উদ্দিনের পুত্র। গত প্রায় ৮ মাস পূর্বে তিনি দেশে আসেন। মাদকাসক্ত থাকার কারনে তাকে উদ্দিপন মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। ২ সপ্তাহ মাদক নিরাময় চিকিৎসা কেন্দ্রে রাখার পর গত ২৪ ডিসেম্বর বাড়ি নেয়া হয়। পরে আবার ২৯ ডিসেম্বর ওই মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়।

নিহতের মা রুকসানা আক্তার কাঁন্না জড়িত কন্ঠে বলেন, ৬ জনিুয়ারি রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ফোনে মাদক নিরাময় কেন্দ্রে থেকে জানানো হয়, জালাল অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাঁকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। এ খবর পাওয়ার পর তাঁরা দ্রুত সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান এবং হাসপাতালে খোঁজাখুঁজি করে জালালকে পাননি। পরে মৌলভীবাজার এসে উদ্দীপন মাদক নিরাময় কেন্দ্রে এসে সামনে একটি অ্যাম্বুলেন্সের দেখতে পান।তখন অ্যাম্বুলেন্সের ভেতর তাঁর মৃতদেহ দেখতে পান।

এ সময় ম্দক নিরাময় কেন্দ্রের কাউকে তাঁরা খুঁজে পাননি। নিহত জালাল দুই ভাই ও তিন বোনের মধ্যে সবার বড় ছিলেন। রাব্বি নামের পাঁচ বছর বয়সী তাঁর একটি ছেলে আছে। তাঁর স্ত্রী-সন্তান দেশে থাকেন। পরিবারের অন্যান্য সদস্য ও স্বজনরা জানিয়েছেন, এটি একটি হত্যার ঘটনা। তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যার কান্ডের ঘটনায় তাঁরা ওই প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। মৌলভীবাজার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তাপস জানান, খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর প্রকৃত ঘটনা বোঝা যাবে । এ বিষয়ে জানতে উদ্দীপন মাদক নিরাময় কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাঁদের অনেকের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তারা মোবাইল ফোন রিসিভ করেননি।।

ঘটনার পর থেকে উদ্দীপন মাদক নিরাময় কের্ন্দের কর্তৃপক্ষের লোক গা ঢাকা দিয়েছেন। ২৫০ শয্যা হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ আহমেদ ফয়ছল জামান জানান, ময়না তদন্তে প্রাথমিক ভাবে নিহত জালালের শরীরে আঘাতের চিহৃ পাওয়া গেছে। ভিসেরা রিপোর্ট আসলে বিস্তারিত বুঝা যাবে। ওই কেন্দ্রের চিকিৎসায় ছিলেন পালিয়ে যাওয়া রিপন নামের একজন জানান জালালকে হাত পা বেঁধে মারধর করা হয়েছে। মারধরের এক পর্যায়ে জালাল অজ্ঞান হয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে তার শরীর নিথর হয়ে যায় এবং মারা যায়। রিপন আরো জানায় সে ও নিহত জালাল মাদক নিরাময় কেন্দ্রের ভেতর এক সাথে থাকতো। জালাল তার মাকে দেখার জন্য খুব ইচ্ছা প্রকাশ করে আকুতি মিনতি জানায়। মাদক নিরাময় কেন্দ্রের লোক ক্ষিপ্ত হয়ে হয়ে উঠে জালালের হাত পা বেঁধে শুরু করে নির্যাতন।

চিকিৎসা নিতে আসা ২৫ জনের মধ্যে ২২ জন রাতে দরজা ভেঙ্গে ভবনের ছাদে উঠে পালিয়ে যায়। এদের মধ্যে ৩ জন মানসিক ভারসাম্যহীন থাকায় তারা বেরিয়ে যেতে পারে নাই। নিহত জালালের মামা মোঃ এমদাদুল হক জানান, জালালের মৃত্যু নিয়ে মাদক নিরাময় কের্ন্দের কর্তৃপক্ষের কথাবার্তার কোন মিল পাওয়া যাচ্ছেনা। তারা একেক সময় একেক ধরনের কথা বলা বলছে।

তারা আমার ভাগ্নার সাথে অমানুষিক আচরন করেছে। তার মাকে দেখার কথা বলায় হাত পা বেঁধে নির্মম ভাবে হত্যা করেছে। আমি এ ঘটনায় জড়িতদের সর্বোচ্চ স্বাস্তি চাই। জালাল নিহত হওয়ার ঘটনায় তার স্ত্রী ও মা বার বার মূর্চ্ছা যাচ্ছেন। এলাকাবাসীর দাবী নির্মম হত্যা কান্ডে যারা জড়িত তারা যেন রেহাই না পায়।

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More