কক্সবাজারে মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যাংক হিসাবেই সরাসরি সম্মানি ভাতা উদ্বোধন ঘোষণা করলেন-প্রধানমন্ত্রী

284
gb

জিবি নিউজ 24 ডেস্ক//

এবার মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যাংক হিসাবেই সরাসরি সম্মানি ভাতা পৌঁছে যাবার কর্মসূচি শুরু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দেশের সীমান্ত জেলা কক্সবাজার থেকেই শুরু হলো সরকারের এমন গণমুখি কর্মসূচি। গণভবন থেকে কক্সবাজারের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সরাসরি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী এ কর্মসূচির উদ্বোধন ঘোষণা করলেন।

এমনকি প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক কর্মসূচি ঘোষণার পর পরই কক্সবাজারের বয়োজ্যেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধা কামাল হোসেন চৌধুরী ব্যাংকিং বুথ থেকে সম্মানি ভাতার নগদ টাকা পেয়ে যান। এরপর তিনি হাতে নগদ টাকা দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

ভিডিও কনফারেন্সে কক্সবাজারের মুক্তিযোদ্ধারা প্রধানমন্ত্রীকে জানালেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি ১৫ আগস্ট ট্র্যাজেডির পর এদেশে এসে প্রধানমন্ত্রী না হলে আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের দেশদ্রোহী হয়ে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলতে হতো। আপনি দেশে ফিরে সরকার গঠন করায় আজ আমরা বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্মান নিয়ে বেঁচে রয়েছি।’ মুক্তিযোদ্ধারা বলেন, আপনি জাতির জনকের কন্যা। আপনিই পারেন-আপনিই পারবেন।

আজ মঙ্গলবার গণভবন থেকে কক্সবাজারে ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি আলাপনে মুক্তিযোদ্ধাদের তরফে মতবিনিময়কালে কক্সবাজারের মুক্তিযোদ্ধা নেতা নুরুল আবছার এমন মন্তব্য করেন। মুক্তিযোদ্ধা নেতা নুরুল আবছার বলেন, জাতির জনকের আহবানে এদেশের মুক্তিযোদ্ধারা দীর্ঘ ৯ মাস ধরে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এদেশ স্বাধীন হয়েছে। দেশের মাত্র হাতে গুণা কতিপয় পেট্রলবোমা সন্ত্রাসীরা সেই চেতনাকে নস্যাৎ করে দিতে পারে না।

গণভবনের সঙ্গে এ প্রান্তে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ভিডিও কনফারেন্স পরিচালনা করেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন। জেলা প্রশাসক এ সময় প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু এবং আপনার (প্রধানমন্ত্রী) স্মৃতি বিজড়িত প্রিয় এলাকা হচ্ছে কক্সবাজার। এ জেলায় রয়েছেন সন্মানী ভাতাভোগী তালিকাভুক্ত ৩৫৯ জন মুক্তিযোদ্ধা। কক্সবাজার থেকে এমন কর্মসূচি শুরু করায় এখানকার মুক্তিযোদ্ধারা আপনার প্রতি কৃতজ্ঞ।’অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক কক্সবাজারের ৪১ জন মুক্তিযোদ্ধার হাতে এ টি এম কার্ড তুলে দেন।

ভিডিও কনফারেন্সে স্থানীয় বয়োজ্যেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধা কামাল হোসেন চৌধুরী কক্সবাজারে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবি জানিয়ে বলেন, সেই বিশ্ববিদ্যালয়টি মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিকেই উৎসর্গ করা হোক। প্রধানমন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধার দাবি বিবেচনার আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানে কক্সবাজারের জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমদ চৌধুরী, স্থানীয় এমপি সাইমুম সরেয়ার কমল, এমপি আশেক উল্লাহ রফিক, এমপি মোহাম্মদ ইলিয়াছ’ এমপি খোরশেদ আরা হক ও এমপি আবদুর রহমান বদি, কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফাসহ মুক্তিযোদ্ধা ও অন্যান্য পেশাজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।