কেন দিনের বেলা রোজা রাখতে হয়?

212
gb

জিবি নিউজ 24 ডেস্ক//

রোজা ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ। মুসলমানদের আগে অন্য ধর্মেও রোজার বিধান ছিল। আল্লাহ তাআলা কোরআনুল কারিমে ইরশাদ করেছেন, ‘হে ঈমানদাররা! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন তোমাদের আগের লোকদের ওপর ফরজ করা হয়েছিল, যাতে তোমরা (এ রোজার মাধ্যমে) মুত্তাকি (খোদাভীরু) হতে পারো।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৮৩)

এ আয়াত থেকে প্রমাণিত হয়, রোজা রাখার বিধান বহুকাল আগে থেকে প্রচলিত। বর্তমানেও বহু ধর্মে রোজার প্রথা ভিন্ন আঙ্গিকে চালু আছে। প্রশ্ন হলো, ইসলামে কেন দিনের বেলা রোজা রাখার কথা বলা হয়েছে? এর জবাব হলো, বেঁচে থাকার তাগিদে সম্পূর্ণরূপে পানাহার বর্জন করা মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই কেবল দিনের বেলা রোজা রাখতে বলা হয়েছে। অন্যদিকে আরামদায়ক রাতকে আরামের জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। কেননা রাতের সৃষ্টি হয়েছে আরাম ও বিশ্রামের জন্য। আবার রোজা সব মানুষের ওপর ফরজ নয়। শিশুদের রোজার আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। অক্ষম-বৃদ্ধদের জন্যও ‘ফিদয়া’র অবকাশ রাখা হয়েছে। মুসাফির, অসুস্থ ও সন্তান প্রসব, স্তন্যদান ও ঋতুকালে নারীদের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া হয়েছে। সাময়িক অসুবিধা দূর হওয়ার পর তাদের জন্য এ রোজা কাজা রাখার বিধান দেওয়া হয়েছে।

রমজান মাস নির্ধারণের ক্ষেত্রে সৌরপঞ্জিকার স্থলে চন্দ্রপঞ্জিকা গ্রহণ করা হয়েছে। এর সুবিধা হলো, সৌর হিসেবে মৌসুমের পরিবর্তন ও ঋতুর পালাবদল হয় না। তেমনি এর দিন-রাতের আকারেও বিশেষ কোনো পরিবর্তন বা ব্যত্যয় দেখা যায় না। তাই সৌরবর্ষের হিসাবে রোজা পালন করতে গিয়ে কোনো দেশে গ্রীষ্মকালে রোজা পালন করা হলে, সেখানে সর্বদাই রমজান আসত গ্রীষ্মকালে, কোথাও শীতকালে রমজান হলে সব সময় তা শীতকালেই আসত। চান্দ্রমাস এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। এর মৌসুম বছরে বছরে বদলাতে থাকে। দিন-রাতের আয়তনও কম-বেশি হয়। এভাবে রোজার মাস দেশে দেশে বছরভেদে প্রতি ঋতুতেই আগমন করে। ফলে সবাই গ্রীষ্ম, বর্ষা ও শীত কিংবা বড় ও ছোট আকারের দিনে রোজা রাখার সুযোগ পায়।

gb
মন্তব্য
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More